চালুর মাস না পেরোতেই দেবে গেলো শতকোটি টাকার ডিপোর ট্যাংক

Passenger Voice    |    ১০:৫৭ এএম, ২০২৬-০৩-০২


চালুর মাস না পেরোতেই দেবে গেলো শতকোটি টাকার ডিপোর ট্যাংক

কুমিল্লা অটোমেটেড পেট্রোলিয়াম ডিপো। এটি দেশের একমাত্র ডিপো, যেটির অপারেশন কার্যক্রমে কোনো হাতের স্পর্শ লাগে না। উদ্বোধন হয় গত ১৭ ডিসেম্বর। চালুর মাস না পেরোতেই দেবে গেছে ডিপোর একটি ট্যাংক। যদিও বিষয়টি পরপরই সামনে আসেনি। সূত্র- জাগো নিউজ

‘চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহন’ প্রকল্পটি তিন হাজার ৬৯৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকার। এর আওতায় প্রায় ১১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মগবাড়ি এলাকায় অত্যাধুনিক এ ডিপোটি নির্মাণ করা হয়। ডিপোটিতে জ্বালানি তেল গ্রহণ থেকে বিতরণ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

উদ্বোধনের মাস না পেরুতেই গত জানুয়ারিতে ডিপোর ১০১ নম্বর ট্যাংকটি দেবে গেছে। ১০২ নম্বর ট্যাংকটিতে পাওয়া গেছে ক্যালিব্রেশন ত্রুটি। এদিকে ট্যাংক দেবে যাওয়ার ঘটনার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছে ট্যাংক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাথওয়েল্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড।

ডিপোটিতে পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েল আলাদাভাবে নিজেদের ডিলার-ডিস্ট্রিবিউটরদের মধ্যে জ্বালানি তেল বিপণন করে। দেবে যাওয়া ১০১ নম্বর ট্যাংকটিতে ডিজেল রাখা হয়। এটি ব্যবহার করে পদ্মা অয়েল কোম্পানি।

১০১ নম্বর ট্যাংকের গায়ে লেখা তথ্য থেকে জানা যায়, ট্যাংকটির ধারণক্ষমতা তিন হাজার মেট্রিক টন। ডেড স্টক ধরা হয়েছে ৬৭ হাজার ৭৮৩ লিটার। ডেট অব ক্লিনিং ছিল ২০২৫ সালের ১ জুন। ডেট অব পেইন্টিং ছিল ২০২৩ সালের ১ জুন। পরবর্তী পেইন্টিংয়ের ডেট দেওয়া আছে ২০২৮ সালের ১ জুন। ২০২৩ সালে ট্যাংকটি নির্মাণ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উদ্বোধনের পর জানুয়ারিতে তেল নেওয়ার সময় ট্যাংকটির ওপরের অংশ দেবে যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কুমিল্লা ডিপোর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘উদ্বোধনের পর পাইপলাইনে চট্টগ্রাম থেকে তেল পাম্পিং হওয়ার পর তেলের চাপের কারণে ১০১ নম্বর ট্যাংকটির ওপরের অংশ দেবে গেছে। মূলত পাইপলাইন থেকে ট্যাংকে আসার সময় তেলের প্রেসার (চাপ) বেশি থাকায় এমনটি হয়েছে। ট্যাংকটি ডিজেল ধারণের। দেবে যাওয়ার পর ট্যাংকটির ডিজেল অন্য ট্যাংকে সরিয়ে নেওয়া হয়।’

কুমিল্লা ডিপোর ট্যাংকগুলোর নির্মাণকাজ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্যাথওয়েল্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড। ডিপোর ১০১ নম্বর ট্যাংকটি দুই মাসের বেশি সময় আগে দেবে গেলেও বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞাত নয় বলে দাবি করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মি. জামান। তিনি  বলেন, ‘কুমিল্লা ডিপোর কোনো ট্যাংক দেবে গেছে— এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই।’ তিনি উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দেন— ‘আপনাকে কে বলেছে, ট্যাংক দেবে গেছে, আমরাও তো জানি না।’

পরে বিপিসি ও পদ্মা অয়েলের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতের বিষয়টি জ্ঞাত করে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমরা ট্যাংকগুলো নির্মাণের পর সিডিপিএলকে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম। পুরো কাজ হ্যান্ডওভার করে দিয়েছি। তবে এরপর কোনো ট্যাংক দেবে যাওয়ার ঘটনা আমাদের অফিসিয়ালি জানানো হয়নি।’ আনঅফিসিয়াল কিংবা মৌখিকভাবেও জেনেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অথচ ঘটনার পরপরই ডিপো থেকে চিঠি দিয়ে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরকে অবগত করা হয়। ১০১ নম্বর ট্যাংকটি বিকৃত এবং ১০২ নম্বর ট্যাংকের ক্যালিব্রেশন ত্রুটির বিষয়টি ৬ জানুয়ারি প্রকল্প পরিচালককে চিঠি দিয়ে জানানো হয় কুমিল্লা ডিপো থেকে। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্যাথওয়েল্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে চিঠি দেওয়া হয়।

গত ১৪ জানুয়ারি প্রকল্প পরিচালককে দেওয়া ডিপোর পদ্মা অয়েল কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (পরিচালন) প্রকৌশলী প্রণব চাকমা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেখা যায়, ‘১০১ ও ১০২ ট্যাংক থেকে ডিজেল সরবরাহ কার্যক্রমে লক্ষ্য করা যাচ্ছে— উক্ত ট্যাংক হতে সরবরাহকৃত ডিজেলের ক্ষেত্রে ন্যাচারাল/ওয়ার্কিং লসের পরিমাণ প্রত্যাশিত সীমার তুলনায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।’ 

চিঠির এক অংশে উল্লেখ করা হয়, ১০২ নম্বর ট্যাংকটির ট্যাংক ইন্টারনাল ডায়ামিটার ও ট্যাংক ইফেক্টিভ হাই (উচ্চতা) ১০৬ নম্বর ট্যাংকের তুলনায় কম হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপাসিটি (ধারণের আয়তন) বেশি প্রদর্শিত হচ্ছে। চিঠির তথ্য অনুযায়ী, ডিপোর ১০২ নম্বর ট্যাংকের ট্যাংক ইন্টারনাল ডায়ামিটার ১৯ হাজার ৪৮৫ দশমিক ৪৮ মি.মি. এবং ট্যাংক ইফেক্টিভ হাই ১০ হাজার ৬১০ মি.মি.। একইভাবে ১০৬ নম্বর ট্যাংকের ট্যাংক ইন্টারনাল ডায়ামিটার ১৯ হাজার ৪৯৩ দশমিক ৩৮ মি.মি. এবং ট্যাংক ইফেক্টিভ হাই ১০ হাজার ৬৩০ মি.মি.। ১০৬ নম্বর ট্যাংকের আয়তন বেশি হলেও ১০২ নম্বর ট্যাংকের তেল ধারণক্ষমতা ৪ হাজার ৮৫৭ লিটার বেশি দেখা যায়। ১০৬ নম্বর ট্যাংকের সেফ হাই ক্যাপাসিটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার ৮৪৯ লিটার। কিন্তু আয়তনে ছোট হলেও ১০২ নম্বর ট্যাংকের সেফ হাই ক্যাপাসিটি ৩১ লাখ ৯৫ হাজার ৭০৬ লিটার। চিঠিতে ক্যালিব্রেশন চার্ট সংশোধনের অনুরোধ জানানো হয়।

এর আগে ৬ জানুয়ারি ডিপোর পদ্মা অয়েল কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (পরিচালন) প্রকৌশলী প্রণব চাকমা স্বাক্ষরিত প্রকল্প পরিচালককে দেওয়া আরেক চিঠিতে ১০২ ও ১০১ নম্বর ট্যাংকের ক্যালিব্রেশন চার্ট যাচাইয়ের অনুরোধ করা হয়। চিঠিতে ১০২ নম্বর ট্যাংকটিকে ‘ডিফর্মড’ (বিকৃত) হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

৬ জানুয়ারির ওই চিঠির পর প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর থেকে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাথওয়েল্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে ১০২ নম্বর ট্যাংকটি তিনদিনের মধ্যে ক্যালিব্রেশন সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রকল্প পরিচালকের দেওয়া চিঠিতে ৬ জানুয়ারি কুমিল্লা ডিপোর চিঠির সূত্র উল্লেখ করা হয়।

এদিকে নতুন নির্মিত স্টিল কাঠামো দেবে যাওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক নয় বলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি অস্বীকারের মাধ্যমে কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশিষ্টজনরা। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী বলেন, ‘শতকোটি টাকা ব্যয়ে দেশে প্রথম অটোমেটেড ডিপো তৈরি করা হয়। এত বড় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, এখানে জ্বালানি তেল ধারণ করার জন্য ট্যাংকগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। এটি ব্যয়বহুল ও স্পর্শকাতর একটি বিষয়। এখানে নিশ্চয়ই কাজের গুণগত মান ঠিক না থাকার কারণে ব্যবহার শুরু না হতেই ট্যাংক দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।’

এখানে কাজের ক্ষেত্রে কম্প্রোমাইজ করা হয়েছে বলে এমন ঘটনাটি (দেবে যাওয়া) ঘটেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এটা এমন না যে এখানে ভূমিকম্প হয়েছিল। নিশ্চয়ই নির্মাণ ত্রুটিপূর্ণ ছিল। এখানে নির্মাণ যে সংস্থা করেছে, পাশাপাশি বিপিসিসহ প্রকল্পের যারা মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন, কাজটা মানসম্মত হয়েছে কি না, ডিজাইন সঠিকভাবে হয়েছে কি না, আবার ডিজাইন অনুযায়ী শতভাগ সেই স্ট্যান্ডার্ডে কাজ হয়েছে কি না, গুণগত মান মেনটেইন করা হয়েছে কি না— এখানে তাদের গাফিলতির চিত্র ফুটে উঠেছে।’

পাইপলাইন থেকে আসা তেলের চাপ সামলাতে না পারায় এমন ঘটনা ঘটার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চাপ কেন নিতে পারবে না? নিশ্চয়ই সবকিছু জেনেশুনে ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে তো দেবে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটতে পারতো, তেল ছড়িয়ে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। জননিরাপত্তা হুমকিতে পড়তো। এখন ডিপোটি উদ্বোধন হলেও ট্যাংকটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না, তার মানে ওই ট্যাংকটির সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হয়েছে।’

এ বিষয়ে পদ্মা অয়েল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, ‘কুমিল্লা অটোমেটেড ডিপোতে একটি ট্যাংক দেবে যাওয়ার ঘটনার পর আমরা ট্যাংকটি খালি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দিয়েছি। তারা পুনরায় মেরামত করে আমাদের বুঝিয়ে দেবেন।’

চট্টগ্রাম-ঢাকা পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন (সিডিপিএল) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আমিনুল হক বলেন, ‘কুমিল্লা ডিপোর দেবে যাওয়া ট্যাংকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তারা ট্যাংকটি মেরামত কাজ শুরু করেছে কি না, সেটার আপডেট নেওয়া হয়নি।’

বিপিসি সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়কের পাশে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মগবাড়িতে ডিপোটি নির্মাণ করা হয়। ডিপোটি ১০ ইঞ্চি পাইপের মাধ্যমে চট্টগ্রাম-ঢাকা মূল পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত। ডিপোটিতে ১৯ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন ডিজেল, ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পেট্রোল ও ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন অকটেন স্টোরেজ ক্যাপাসিটি রয়েছে। এজন্য ছয়টি ডিজেল ট্যাংক, ছয়টি ডিজেল সার্ভিস ট্যাংক, তিনটি পেট্রোল ট্যাংক এবং তিনটি অকটেন ট্যাংক রয়েছে। প্রত্যেক কোম্পানি দুটি ডিজেল ট্যাংক, একটি ডিজেল সার্ভিস ট্যাংক এবং একটি করে পেট্রোল ও অকটেন ট্যাংক ব্যবহার করছে। এর মধ্যে ১০১ নম্বর ট্যাংকটি দেবে গেছে।

ডিপোটিতে রয়েছে আধুনিক ফায়ার ডিটেকশন সিস্টেম, ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেম, ফায়ার ওয়াটার সিস্টেম ও ফোম সাপ্রেশন সিস্টেম। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য সংযোজন করা হয়েছে ৩০টি উচ্চক্ষমতার সিসিটিভি। জ্বালানি তেল অপারেশনে পিএলসি (প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার) সিস্টেম প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। পিএলসি ব্যবহারে জ্বালানি তেলের সংরক্ষণ, পরিবহন, পরিমাপ ও সরবরাহ প্রক্রিয়াকে নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে পরিচালনা করা হয়। এ সিস্টেমের আওতায় ডিপোটিতে ট্যাংক ফার্ম ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার, লোডিং-আনলোডিং সফটওয়্যার, কিউ ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার, অ্যাকসেস কন্ট্রোল, ব্যাচ কন্ট্রোলড ফ্লো-মিটার ব্যবহার করা হচ্ছে।

২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর ডিপোটি উদ্বোধন হয়। এরপর থেকে ডিপো থেকে বাণিজ্যিকভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল গ্রহণের ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা, পরিবহন ধর্মঘট, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ আপৎকালীন পরিস্থিতিতে তেল গ্রহণ, মজুত ও বিতরণ সচল রাখা সম্ভব হবে। বৃহত্তর কুমিল্লার ফিলিং স্টেশনগুলোসহ এলাকার গ্রাহকরা চাঁদপুর, ফতুল্লা-গোদনাইল থেকে তেল সংগ্রহ করতেন। কুমিল্লায় ডিপো স্থাপনের মাধ্যমে গ্রাহকদের সৃষ্ট যানজট কমানো, টোল খরচ, সময় ও শ্রম সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় দ্রুত ও সহজভাবে তেল সরবরাহ করা যাবে।

বছরে ৫০ লাখ টন জ্বালানি তেল সরবরাহের সক্ষমতাসহ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জ্বালানি পরিবহনের সিস্টেম লোকসান কমানো, নৌপথে তেল পরিবহনের বিপুল খরচ সাশ্রয়সহ দ্রুততম সময়ে তেল পৌঁছানোর লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার ফতুল্লা পর্যন্ত আড়াইশ কিলোমিটার পাইপলাইন করা হয়।