মনসুরের রিসোর্টে ইসলামী ব্যাংকের বিলাসবহুল রিট্রিট প্রোগ্রাম

Passenger Voice    |    ১০:৪৩ এএম, ২০২৬-০৩-০১


মনসুরের রিসোর্টে ইসলামী ব্যাংকের বিলাসবহুল রিট্রিট প্রোগ্রাম

বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের মালিকানাধীন ‘ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’-তে বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংকের ‘রিট্রিট প্রোগ্রাম-২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যাংকটির উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যাংকের বর্তমান অবস্থান পর্যালোচনা এবং বর্তমান পরিস্থিতি উত্তরণে একটি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে গত বছর ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার-শনিবার) টাঙ্গাইলের বাসাইলের দাপনাজোরে অবস্থিত বিলাসবহুল ওই রিসোর্টে এই রিট্রিট প্রোগ্রামটি অনুষ্ঠিত হয়। যদিও অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের আগের দিন সন্ধ্যায় সেখানে উপস্থিত হতে হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে মোট ব্যয় হয়েছিল ১৫ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। 

যেখানে বর্তমানে সব ব্যাংক ব্যয় সংকোচন নীতিতে চলছে, সেখানে বিপর্যস্ত ইসলামী ব্যাংকের এমন ব্যয়বহুল অনুষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে নানা ধরনের সংকটে রয়েছে। এ সময় সংকট উত্তরণে তাদের অধিক মনোযোগী হওয়া দরকার। কিন্তু তারা তা না করে এমন ব্যয়বহুল অনুষ্ঠান কোন যুক্তিতে করেছেন, তা বোধগম্য নয়। এই প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম জুবায়দুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। 

জানা গেছে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম জুবায়দুর রহমান। এ ছাড়াও পরিচালনা পর্ষদের অন্য সদস্যরা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা দলের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিমের সদস্যসহ মোট ৪০ জন কর্মকর্তা (এসইভিপি এবং তদুর্ধ্ব) এই রিট্রিট অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। 

ব্যাংকসূত্রে জানা গেছে, এই প্রোগ্রামের জন্য মোট ১৫ লাখ টাকা বাজেট ধরা হয়। ব্যয়ের প্রধান খাতগুলোর মধ্যে আবাসন খাতে ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা (৪০টি রুমের জন্য ২ রাতে) খাবারবাবদ অর্থাৎ সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার ও স্ন্যাকসে ব্যয় হয়েছে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা, পরিবহনবাবদ ট্যুরিস্ট বাসের জন্য ব্যয় হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। অডিটোরিয়াম ভাড়াবাবদ ব্যয় হয়েছে ৫০ হাজার টাকা এবং বিবিধ খাতে অর্থাৎ সাজসজ্জা, লজিস্টিকস, সম্মানী ও অন্যান্য বাবদ ব্যয় হয়েছে ২ লাখ টাকা। ‘রিট্রিট প্রোগ্রাম-২০২৫’ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিএইচআরও ড. এম কামাল উদ্দিন জসিমকে প্রধান করে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাসুদ রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় কাজ করেছে।

প্যা.ভ.ম