নির্বাচনে আমাদের হক কেড়ে নেওয়া হয়েছে: জামায়াত আমির

Passenger Voice    |    ০৩:০৫ পিএম, ২০২৬-০২-২৭


নির্বাচনে আমাদের হক কেড়ে নেওয়া হয়েছে: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এই নির্বাচনে আমাদের প্রত্যাশা যাই থাকুক, আমাদের নিয়ে দেশের জনগণের প্রত্যাশা ছিল বিপুল। প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি। কিন্তু আমরা হারিয়ে যাইনি। আমরা যেখানেই যাচ্ছি লোকেরা বলছেন আপনারা হারেননি, আপনাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতি সাধারণ স্তরের মানুষ- রিকশাচালক, ঠেলাচালক, সাধারণ হকার, ব্যবসায়ী, ট্রাকচালক এবং পাবলিক বাসে অবস্থানরত যাত্রী সবাইকে আমরাও সালাম দেই তারাও সালাম দেয়। আগে তারা শুধু সালাম দিত, এখন শুধু সালাম নয়, তারা বলে আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। তার মানে নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের হক কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এটা জাতির সামনে পরিষ্কার।’

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেটের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সিলেট জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবির’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।

সংসদীয় রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামের এই অর্জন প্রথম উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। এতে আমাদের ক্ষতি হয়নি। আমাদের অনেক লাভ হয়েছে। প্রথম লাভ হয়েছে যে এই প্রথম দেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে একটি অর্থবহ ঐক্য হয়েছে। এর আগে আমাদের নেতৃত্বে কখনো হয়নি। আমরা অন্য জোটের হয়তো অংশ ছিলাম, কিন্তু নেতৃত্ব তাদের হাতে ছিল। দ্বিতীয় লাভ হলো জীবনে এই প্রথম প্রধান বিরোধী দলের জায়গাটা আল্লাহ তায়ালা আমাদের দান করেছেন। তৃতীয় লাভ হলো এবার আমরা ৬টি শক্তির বিরুদ্ধে সমান্তরাল লড়াই করেছি। আগামীতে এই সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে আবার আমাদের লড়তে হবে। ইনশাআল্লাহ এখন থেকে আমরা আমাদের কৌশল নির্ধারণ করে নেব। কোনো অপকৌশলের রাস্তা আমাদের ধরা লাগবে না, কৌশলই যথেষ্ট।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্যে বড় মাপে আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নেয়নি। কোনো কোনো জায়গায় আমরা যখন তাদের সাহায্য চেয়েছি খুব আন্তরিকভাবে তারা আমাদের সাহায্য করেছেন।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের দ্বিতীয় লড়াই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। এই লড়াইয়ে একটি জায়গাও যেন এবার খালি না থাকে। এই নির্বাচনে যারা জীবন বাজি রেখে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, সমাজের সেসব জায়গা থেকে ভালো লোকগুলো বের করে এনে তাদের হাতে আমরা সেই জায়গাগুলো তুলে দিতে চাই। এটা জরুরি নয় যে আমাদের আমির বা সেক্রেটারি হতে হবে। ওই কাজের জন্য যারা জনগণের কাছে বেশি প্রিয় হবে আমরা তাদেরকেই জনগণের কাছে পেশ করব। শুধু দুটি জিনিস আমরা দেখব। একটি হলো তার মাঝে দেশপ্রেম আছে, আরেকটি হলো সেই মানুষটি স্বচ্ছ। এই দুটি জিনিস যদি আমরা পাই এনাফ। দেশবাসীকে ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু দিতে পারব। আমাদের আগের চিন্তা যাই থাকুক নতুন মোড়কে সব সাজাতে হবে।’