একই রানওয়েতে চলে ট্রেন ও বিমান

Passenger Voice    |    ১২:৪১ পিএম, ২০২৬-০২-২৭


একই রানওয়েতে চলে ট্রেন ও বিমান

বিমান চলাচলের জগতে খুব কম বিমানবন্দরই নিজেদের অনন্য বলে দাবি করতে পারবে। কেননা বিমানবন্দরগুলো প্রায় সব ক্ষেত্রে একই রকম হয়ে থাকে। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের গিসবোর্ন বিমানবন্দর অন্যদের থেকে আলাদা দাবি করতে পারে। কেননা এই বিমানবন্দরের রানওয়ে অন্য রানওয়ে থেকে আলাদা। নিউজিল্যান্ডের উত্তর দ্বীপের গিসবোর্ন বিমানবন্দরের রানওয়েতে পামারস্টন উত্তর-গিসবোর্ন রেলপথটি অতিক্রম করে। বিমানবন্দরে ট্রেন এবং বিমানের মধ্যে সমন্বয়ের এক অস্বাভাবিক দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করে। 

নিউজিল্যান্ডের গিসবোর্ন শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আঞ্চলিক বিমানবন্দরটি প্রায় ১৬০ হেক্টর জুড়ে বিস্তৃত এবং একটি সিল করা ১ হাজার ৩১০ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে রয়েছে। যার মাঝখান দিয়ে একটি রেলপথ রয়েছে। ট্রেন ও বিমান চলাচলের এই অদ্ভুত রানওয়ে এই বিমানবন্দরকে অনন্য করে তুলেছে।

রানওয়ের রেলপথটি পামারস্টন নর্থ-গিসবোর্ন লাইনের অংশ। এটি একটি ঐতিহাসিক রেলপথ, যা বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হয়েছিল। যদিও আরও অনেক রেলপথ একসময় বিমানবন্দর অতিক্রম করত। যেমন তাসমানিয়ার ওয়াইনইয়ার্ড বিমানবন্দর। কিন্তু বেশির ভাগই তখন থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু গিসবোর্ন বিমানবন্দর বিশ্বের একমাত্র বিমানবন্দর যেখানে ট্রেনগুলো এখনো একটি সক্রিয় রানওয়ে অতিক্রম করে।

এই কার্যক্রম একটি নিয়মের মধ্যে চলে। বিমান ও রেল উভয় কার্যক্রম সাধারণত প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলে। এ সময়গুলোয় বিমানবন্দরের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ট্রেনের সিগন্যালের পাশাপাশি বিমানের টেকঅফ এবং অবতরণের সময়সূচিও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যখন কোনো ট্রেন ক্রসিংয়ের কাছে আসে তখন বিমানগুলোকে অপেক্ষা করতে হতে পারে। আবার যখন কোনো বিমানের সময়সীমা থাকে, তখন রানওয়ে খালি না হওয়া পর্যন্ত ট্রেনগুলো থামানো হয় না।

যদিও ট্রেনগুলোর রানওয়ে পার হওয়া বিপজ্জনক মনে হতে পারে। বাস্তবে এটি একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা। দর্শনার্থী ও আলোকচিত্রীদের মনে কাড়ে এই দৃশ্য। অনেকের কাছে পুরোনো দিনের জেট ইঞ্জিনের ছন্দময় গুঞ্জন এবং একটি স্টিম ট্রেনের স্মৃতিচারণ গিসবোর্ন বিমানবন্দরের রানওয়ে-রেলওয়ে সংযোগস্থলটি জীবন্ত পরিবহন ইতিহাসের এক টুকরোর মতো মনে হয়। বিশ্বখ্যাত অদ্ভুত গিসবোর্ন বিমানবন্দর সপ্তাহে ৬০টিরও বেশি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করে এবং বছরে দেড় লাখের বেশি যাত্রীকে পরিষেবা দেয়।