সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্সের আবেদন আহ্বান

Passenger Voice    |    ১২:১২ পিএম, ২০২৬-০২-২৩


সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্সের আবেদন আহ্বান

আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে সেবার মান উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট লাইসেন্স প্রদানের লক্ষ্যে আবেদন আহ্বান করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগ্রহীদের আগামী ৩১ মার্চ বিকেল ৪টার মধ্যে নির্ধারিত ফরমে আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ‘কাস্টমস আইন, ২০২৩’ এর ধারা ২৪৩ অনুযায়ী প্রণীত কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সি অ্যান্ড এফ) এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৬ অনুসারে এই লাইসেন্স প্রদান করা হবে। নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ায় পূর্বের কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২০ বাতিল করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালার প্রেক্ষাপট
এর আগে সি অ্যান্ড এফ এজেন্টদের জন্য স্বতন্ত্র কোনো বিধিমালা ছিল না। ২০২০ সালের বিধিমালার আওতায় লাইসেন্স ইস্যু হতো। তবে কাস্টমস কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী, স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে আলাদা বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা আসবে এবং আমদানি-রপ্তানিকারকদের সেবা গ্রহণ সহজ হবে।

আবেদনের শর্ত
লাইসেন্স পেতে আবেদনকারীকে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হবে। দেশি-বিদেশি যৌথ মালিকানার কোম্পানি আবেদন করতে পারবে, তবে বিদেশি অংশীদারদের শেয়ার মোট শেয়ারের ৪৯ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। একক মালিক, অংশীদার বা লিমিটেড কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার একটির বেশি লাইসেন্স নিতে পারবেন না। আবেদনপত্রে একটি কাস্টমস স্টেশনের নাম উল্লেখ করতে হবে, একাধিক স্টেশনের নাম থাকলে আবেদন বাতিল হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি, ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (পিএসআর), স্নাতক ডিগ্রির সনদ, তিন কপি রঙিন ছবি, প্রয়োজনে ভ্যাট নিবন্ধন সনদ (মূসক-২.৩), কোম্পানি বা অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দলিলাদি জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া ৫ হাজার টাকার অফেরতযোগ্য ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার ‘ডিরেক্টর জেনারেল, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি, চট্টগ্রাম’-এর অনুকূলে দিতে হবে এবং পূর্বে লাইসেন্স গ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়ে ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে। অফিস কক্ষের মালিকানা বা ভাড়ার প্রমাণপত্রও সংযুক্ত করতে হবে। কাস্টমস আইন, ভ্যাট আইন, আমদানি-রপ্তানি নীতি ও কাস্টমস প্রক্রিয়া বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রত্যয়নপত্র থাকলে তা সংযুক্ত করা যাবে।

পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ
আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করবে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি এবং ফলাফল একাডেমির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। যোগ্য প্রার্থীদের প্রবেশপত্র ডাকযোগে পাঠানো হবে।

লাইসেন্স প্রদান করবে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশনের লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ের পর বা শর্ত পূরণ না হলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি পরিবর্তনের ক্ষমতাও রাখে কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে কাস্টমস কার্যক্রমে পেশাদারত্ব ও জবাবদিহিতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।


প্যা/ভ/ম