দাউদকান্দিতে সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ৪০ বছর

Passenger Voice    |    ০১:৩২ পিএম, ২০২৬-০২-২০


দাউদকান্দিতে সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ৪০ বছর

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার উত্তর ইউনিয়ন। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই এলাকাটি মূলত চরাঞ্চল। এখানে থাকা চর চারুয়া গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে ৪০ বছর ধরে সেতুর অভাবে নৌকায় নদী পারাপার হতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে গোমতী নদীতে স্রোত বাড়লে স্কুলে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের কারণে অনেক শিক্ষার্থী লেখাপড়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। কৃষিসহ বিভিন্ন পণ্য আনা-নেওয়ায় কৃষকের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। চারুয়া গ্রামের বাসিন্দারা এমন অবস্থা থেকে মুক্তি চেয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন–জয়ী হলে এখানে সেতু নির্মাণ করে দেবেন। বিপুল ভোটে তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, এবার সংসদ সদস্যের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পালা।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে চর চারুয়া গ্রামের নদীর ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ খেয়া পারাপারের অপেক্ষায় আছেন। বিপরীত প্রান্ত অর্থাৎ দাউদকান্দি পৌর সদরের কেরোসিন ঘাট বাজার সংলগ্ন এলাকায় থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কৃষক, ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে এপারে আসছেন।

দাউদকান্দি আদর্শ (পাইলট) উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মিহির উল্লাহ বলেন, ‘যোগাযোগের সমস্যার কারণে এই এলাকার শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে পড়েছে। অনেক সময় নদীতে স্রোত থাকে তখন ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে আসতে চায় না। বর্ষা মৌসুমে নৌকায় পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেকেই লেখাপড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। সেতু নির্মাণ হলে শিক্ষার পাশাপাশি এলাকার আর্থসামাজিক খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হবে।’ 

চর চারুয়া গ্রামের শাহ আলম বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কাছে আমরা এই গ্রামে একটি সেতুর দাবি করেছিলাম। তিনি তখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন–বিজয়ী হলে সেতু নির্মাণ করে দেবেন। আমরা তার প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।’ 

তিনি বলেন, ‘জনদুর্ভোগ এড়াতে নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। এখানে একটি সেতু হলে এই গ্রামসহ ইউনিয়নের বাসিন্দারা দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবেন। একই সঙ্গে দুই পাড়ের সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন হবে।’ 

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী চর চারুয়া গ্রামের সানজিদা আক্তার বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছি। প্রায় সময় নৌকার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বর্ষাকালে নদীর পানি বেড়ে যায়, বড় বড় ঢেউ থাকে। তখন নৌকায় উঠতে ভয় লাগে।’ 

নৌকার মাঝি চর চারুয়া গ্রামের আবুল কাশেম বলেন, ‘১৫-২০ বছর ধরে আমি এই নদীতে খেয়া নৌকা চালাই। স্বাধীনতার পর থেকে এই ঘাটে খেয়া পারাপার শুরু হয়। নৌকা দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৬-৭ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। আমি চাই, এখানে একটি সেতু হোক। আমি নৌকা না চালাতে পারলেও দুঃখ নেই। তবে সেতু হলে যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হবে।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের দাউদকান্দি উত্তর ইউনিয়ন ও মেঘনা উপজেলার নদীপথে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রস্তাবনার কাজ চলমান। এর মধ্যে মেঘনা উপজেলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য এই সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেতুটি নির্মাণের জন্য দ্রুত জেলা ও উপজেলা এলজিইডি অফিসের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানো হবে।’