শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:৩৪ পিএম, ২০২৬-০২-১৯
বছর ঘুরে আবারও আমাদের মাঝে এলো পবিত্র মাহে রমজান। রহমত, বরকত ও নাজাতের সমন্বিত এই মাস একজন মুমিন মুসলমানের জন্য সবচেয়ে বড় নেয়ামত। কারণ, রমজানের রোজা এমন একটি ইবাদত, যা অন্য যেকোনও ইবাদত থেকে অনন্য। কেননা, এর পুরস্কার স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা নিজে দেবেন।
এ প্রসঙ্গে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাচ চাইলে মানুষের প্রত্যেক আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়। একটি সওয়াব ১০ গুণ থেকে ২৭ গুণ পর্যন্ত (বৃদ্ধি হয়)। তবে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, রোজা অনন্য। কেননা, তা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর বিনিময় প্রদান করবো। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬৩৮)
শ্বাশত ধর্ম ইসলাম যে পাঁচটি মূল স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তার অন্যতম একটি হলো রমজান মাসের এই রোজা। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি জিনিসের ওপর স্থাপিত—এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, হজ করা এবং রমজানের রোজা পালন করা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮)
এজন্য মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর শেষ নবীর উম্মতের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করেছেন এবং পবিত্র কোরআনে তা পালনের আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পার।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩) অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫)
রমজানের রোজার প্রতি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর এমন গুরুত্বারোপের পরও কেউ যদি শরিয়ত অনুমোদিত কারণ ছাড়া রোজা ত্যাগ করে, তাহলে সে কবিরা গুনাহে লিপ্ত হলো। শুধু তাই নয়; বরং তার ঈমান নিয়ে সংশয় তৈরি হয়ে যায়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘ইসলামের হাতল ও দ্বীনের মূল বিষয় তিনটি, যার ওপর ইসলামের ভিত্তি। যে ব্যক্তি তার একটি ত্যাগ করল, সে এমন অবিশ্বাসীতে পরিণত হলো, যার রক্তপাত বৈধ। সেগুলো হচ্ছে, আল্লাহ ছাড়া কোনও উপাস্য নেই বলে সাক্ষ্য দেয়া, ফরজ নামাজ ও রমজানের রোজা।’ (মাজমাউল জাওয়াইদ : ১/৪৮)
রমজান মাসের রোজা না রাখলে মানুষ শুধু গুনাহগারই হয় না; বরং ওই রোজার পরিবর্তে আজীবন রোজা রাখলেও রমজানের এক রোজার যে মর্যাদা ও কল্যাণ, যে অনন্ত রহমত ও বরকত তা কখনও লাভ করতে পারবে না এবং কোনোভাবেই এর যথার্থ ক্ষতিপূরণ আদায় হবে না। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অসুস্থতা ও সফর ব্যতীত ইচ্ছাকৃতভাবে রমজানের একটি রোজাও ভঙ্গ করে, সে আজীবন রোজা রাখলেও ওই রোজার হক আদায় হবে না।’ (সহিহ বুখারি : ৪/১৬০)
পক্ষান্তরে যারা আল্লাহর হুকুম মেনে যথাযথভাবে রমজানের রোজা রাখবে, তাদের জন্য রয়েছে নানা সুসংবাদ। এ বিষয়ে একটি সুসংবাদ হলো- রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা বলেন, প্রত্যেক ইবাদতই ইবাদতকারী ব্যক্তির জন্য, পক্ষান্তরে রোজা আমার জন্য। আমি নিজেই এর প্রতিদান দেবো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯০৪)
হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমাদের মহান রব ইরশাদ করেছেন, রোজা হলো ঢাল। বান্দা এর দ্বারা নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবে…।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১৪৬৬৯)
আরেকটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজান মাসের রোজা রাখবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৭১৭০)
রমজানের রোজার ফজিলত ও রোজাদারের পুরস্কার সম্পর্কিত এরকম আরও অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এজন্য সকল মুসলমানের জন্য জরুরি হলো- কোনও প্রতিবন্ধকতা না থাকলে অবশ্যই ঠিকমতো সবগুলো রোজা রাখা এবং অত্যন্ত নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় নেয়ামত মনে করে পবিত্র রমজান মাসকে স্বাগত জানানো। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত