শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৩৫ এএম, ২০২৬-০২-১৯
রমজানকে ঘিরে পণ্য আমদানিতে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার কমিয়েছে শুল্ক। এলসি (ঋণপত্র) খুলতে বাধা না থাকায় সব শ্রেণির ব্যবসায়ী আমদানি করেছেন ভোগ্যপণ্য। বর্তমানে শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘট না থাকায় পুরোদমে চলছে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম। পাইকারি বাজারে সরবরাহও রয়েছে স্বাভাবিক। এরপরও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে রমজানকেন্দ্রিক ভোগ্যপণ্য।
চট্টগ্রামে ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে সপ্তাহের ব্যবধানে চিনি, ছোলা, মসুর ডাল, আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাম অয়েলের দাম লিটারে বেড়েছে ২ টাকার বেশি।
চিনির কেজিতে ৮ টাকা বেড়ে ৯৫ টাকা, কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে মসুর ডাল মানভেদে ৭৮ থেকে ৮০ টাকায়, ছোলার কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দেশি পেঁয়াজের কেজিতে ২ টাকা বেড়ে আকারভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আকারভেদে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রসুনের কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা ও কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে আদা ১১৭ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তা ছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে লিটারে ২ টাকা ৪১ পয়সা বেড়ে পাম অয়েল ১৪৪ টাকা ৪৫ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে। তা ছাড়া সেমাইয়ের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শুল্ক কমানোর প্রভাব পড়েনি খেজুরে
গত বছরের ডিসেম্বরে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপরও খুচরা বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে ৮ ধরনের খেজুরের কেজিতে ৫০-১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে প্রতি কেজি বস্তা খেজুর ২২০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৮০ টাকা, দাবাস ৫৭০ টাকা, কালমি ৭০০ টাকা, সুক্কারি ৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ টাকা, মরিয়ম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা ও মেডজুল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, শুল্ক কমার আশায় আমদানিকারকরা অনেক দিন খেজুর আমদানি করেননি। ফলে চাহিদা অনুযায়ী পণ্যটির আমদানি সম্ভব হয়নি। তাই দাম একটু বাড়তি।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, বন্দরে শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘটের কারণে সাত দিন পণ্য খালাস হয়নি। অন্যদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে কয়েক দিন সাধারণ ছুটি ছিল। এরপর মানুষ রমজানের ভোগ্যপণ্য কিনতে শুরু করেন। ছোলা, মসুর, মটর ডাল, খেজুর, চিনিসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামটা বেড়েছে। তবে এটা বেশি দিন স্থায়ী হবে না।
খাতুনগঞ্জের হামিদ উল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিছ বলেন, রমজান ঘিরে এবার বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি হলেও ধর্মঘট, নির্বাচনের সাধারণ ছুটির কারণে সব পণ্য সময়মতো বাজারে আসেনি। তাই সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে।
ভোগ্যপণ্য আমদানির চিত্র
রমজানকে ঘিরে গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫০ হাজার ৪১৩ টন খেজুর, ২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টন মসুর ডাল, ২ লাখ ৬ হাজার ১০০ টন মটর, ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৪৭ টন ছোলা, ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৮০৫ টন সয়াবিন তেল, ১২ হাজার ৫৫৫ টন আদা ও ১৮ হাজার ৭ টন রসুন আমদানি হয়েছে।
বন্দর পরিস্থিতি
বন্দরের বহির্নোঙরে বর্তমানে ১০৯টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে কনটেইনার জাহাজই আছে ১৩টি। খাদ্যসামগ্রীর জাহাজ আছে ১৪টি। এসব জাহাজে রয়েছে খেজুর, ফল, ছোলা, তেল, গম, ডাল, শিল্পের কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য। চিনিবাহী জাহাজ রয়েছে দুটি। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রমজানের ভোগ্যপণ্য খালাস ও ডেলিভারির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এদিকে রমজান ঘনিয়ে আসতেই খুচরায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মুরগি, ভোজ্যতেল, কাঁচা মরিচ, লেবু, শসা, গাজরসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম। নগরের বিভিন্ন এলাকার খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২২০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবুর হালির দাম ঠেকেছে ৮০ টাকায়, তা ছাড়া প্রতি কেজি শসা ৯০, গাজর ৫০, টমেটো ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত প্রতি লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে ২০৫ টাকায়।
নগরের হালিশহর এলাকার বাসিন্দা মো. নেসারুল করিম বলেন, ‘এবার ভেবেছিলাম ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কিন্তু আমাদের ধারণাটাই ভুল। ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে রমজানকেন্দ্রিক পণ্য বিক্রি করছে। ২০০ টাকার নিচে ব্রয়লার মুরগি পাচ্ছি না। ৪০ টাকার গাজর ৫০ টাকায় কিনেছি। ছোলা, ভোজ্যতেল সবকিছুতেই বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর হলো না।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রমজান এলে ভোগ্যপণ্যের দাম কমে। আর আমাদের দেশে তার উল্টো চিত্র। ব্যবসায়ীরা ভোক্তার পকেট কেটে সারা বছরের মুনাফা এই এক মাসেই করতে চায়। রমজান আসার আগে ভোগ্যপণ্যের বাজারে যতটা তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার দরকার ছিল, সেটা হয়নি। বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে। প্রতিনিয়ত পণ্য খালাস ও ডেলিভারি হচ্ছে। বাজারে ভোগ্যপণ্যের ঘাটতি নেই। এরপরও নানা অজুহাতে দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন সরকারকে এ ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর হয়।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি খাতুনগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন বাজারে অভিযান পরিচালনা করেছি। ভোগ্যপণ্যে ভেজাল মেশানো, বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি, মূল্যতালিকা না রাখাসহ নানা অনিয়ম পেয়েছি। যাদের অপরাধ পেয়েছি, তাদের বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরপরও কেউ ভোগান্তিতে পড়লে আমাদের কাছে অভিযোগের সুযোগ আছে। পাশাপাশি আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’
প্যা.ভ.ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত