হেয়ারকাট পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে গভর্নরের বাসভবন ঘেরাও

Passenger Voice    |    ১১:০৬ এএম, ২০২৬-০২-১৭


হেয়ারকাট পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে গভর্নরের বাসভবন ঘেরাও

হেয়ারকাট পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানিয়ে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) গুলশানে গভর্নরের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন একীভূত ৫ ব্যাংকের ভুক্তভোগী আমানতকারীরা। এ সময় তারা এই হেয়ারকাট পদ্ধতি সাধারণ আমানতকারীদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে শর্তমুক্ত স্বাভাবিক লেনদেনের দাবি জানান। দাবি মানা না হলে লাগাতার কর্মসূচি এবং আগামীতে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।

প্রায় ২ ঘণ্টা শান্তিপূর্ণভাবে তারা অবস্থান করার পর গুলশান থানার পুলিশ তাদের সরানোর চেষ্টা করে। এতে বেশ কয়েকজন আমানতকারী আহত হন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ভুক্তভোগী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব  আলিফ রেজা খবরের কাগজকে বলেন, ‘এর আগে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনেও শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করেছি। এখানেও আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই অবস্থান করছিলাম। তার পরও পুলিশ এসে আমাদের ওপর চড়াও হয়েছে। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন আমানতকারী আহত হয়েছেন।’ তিনি বলেন, এমনিতেই তারা নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে রয়েছে। কেউ চিকিৎসা করাতে পারছেন না, কেউ ঠিকমতো খেতে পারছেন না। এর ওপর এ ধরনের হামলা খুবই দুঃখজনক। দাবি মানা না হলে আগামীতে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তারা।

এ সময় আমানতকারীরা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানতের ওপর কোনো মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আমানতকারীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সময় তারা ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু কেন? আমরা যে হারে ব্যাংকে টাকা রেখেছি আমাদের সেই হারেই টাকা দিতে হবে। কারণ আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ব্যাংকেই টাকা রেখেছি। ব্যাংক যদি দুর্বল হয়, সেই দায় বাংলাদেশ ব্যাংকের। কেন তারা সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা নেয়নি। এখন তাদের ব্যর্থতার দায় আমাদের মতো সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। 

তারা বলেন, ব্যাংকে আমানত রাখা মানে একটি অলিখিত চুক্তি। নির্দিষ্ট সময় শেষে নির্দিষ্ট হারে মুনাফা পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। কিন্তু এখন এই চুক্তি বাতিল করছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা সম্পূর্ণ শরিয়াহ আইন পরিপন্থি বলে মনে করছেন শরিয়াহ আইন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, শরিয়াহ আইন অনুযায়ী, মুদারিব বা প্রতিষ্ঠানের অসতর্কতা, অবহেলা বা দুর্নীতির মাধ্যমে লোকসান হলে তার দায় সাহেব আল মাল বা আমানতকারী বহন করবেন না। এর দায় সম্পূর্ণ বহন করবে মুদারিব বা প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা হবে শরিয়াহবিরোধী। কারণ হেয়ারকাট মানে আমানতের একটি বড় অংশ স্থায়ীভাবে কেটে নেওয়া, যা আন্তর্জাতিক ব্যাংকিংয়ে  বিরল এবং সাধারণত বড় বিনিয়োগকারীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশীদারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 

কিন্তু সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারীদের ওপর এই হেয়ারকাট পদ্ধতি চাপানো হচ্ছে কেন? সাধারণ আমানতকারীরা তো ব্যাংকে আমানত রেখে কোনো ঝুঁকি নেননি। আমানতকারীরা মনে করেন, এই হেয়ারকাট সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য একটি ভয়ঙ্কর বার্তা। যদি এই হেয়ারকাট সিদ্ধান্ত স্থায়ী হয় তাহলে ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংক কেলেঙ্কারি দায়, এই সাধারণ আমানতকারীদের ওপর চাপানো হতে পারে। ইতোমধ্যে অনেক আমানতকারী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। আজ এই ব্যাংক, কাল অন্য ব্যাংক, বিশেষ করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের হেয়ারকাট সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সমস্ত ব্যাংকের প্রতি আস্থার সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। যার প্রভাব পুরো আর্থিক ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। আমানতকারীরা মনে করেন, ব্যাংক লুট দীর্ঘস্থায়ী একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতার ফল। সেই ব্যর্থতার দায় আমানতকারীরা বহন করতে পারেন না। 

যে ৫টি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক।

প্যা/ভ/ম