একাধিক মন্ত্রণালয় একীভূত হচ্ছে

Passenger Voice    |    ১০:৫৩ এএম, ২০২৬-০২-১৭


একাধিক মন্ত্রণালয় একীভূত হচ্ছে

দীর্ঘ ২০ বছর পর আজ মঙ্গলবার দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে নতুন মন্ত্রিসভা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত এবারের মন্ত্রিসভার আকার ছোট হচ্ছে। এ লক্ষ্যে এক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরেক মন্ত্রণালয়কে একীভূত করার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র বলছে, সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়ে নেতৃত্ব দেওয়া তারেক রহমানই যে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, তা নিশ্চিত। এর মধ্য দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পর তার বড় ছেলেও প্রধানমন্ত্রীর পদে বসছেন। তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার আকার বিগত সরকারের তুলনায় ছোট হতে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ২৭ থেকে ৩৩ সদস্যদের মন্ত্রিসভা হতে পারে। কিছু কিছু মন্ত্রণালয়কে একীভূত করার পরিকল্পনা করছেন তারেক রহমান। সরকারের ব্যয় কমাতে এমন উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি। এর ফলে কাজের গতি ও জটিলতা কমে আসবে। একজন মন্ত্রীর অধীনে একাধিক মন্ত্রণালয় থাকবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দাপ্তরিক কাজের সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে একীভূত করার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ-সম্পর্কিত চার মন্ত্রণালয় মিলে একটি মন্ত্রণালয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমিয়ে আনার ব্যাপারে প্রাথমিক আলোচনা আছে। দু-তিনটি মন্ত্রণালয় একীভূত করে একটি মন্ত্রণালয় করা হবে। এতে ব্যয় কমিয়ে আনার পাশাপাশি কাজের গতিও বৃদ্ধি পাবে। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মির্জা আব্বাস খবরের কাগজকে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানি না। তবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেটা সঠিক ও ভালো মনে করেন, সেটি করবেন।’ 

এবারের মন্ত্রিসভায় দলের সিনিয়র নেতাদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছেন নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকরাও। ফলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের ইঙ্গিত মিলছে। দলীয় সূত্র বলছে, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, প্রশাসনে গতি আনা, নীতিনির্ধারণে নতুন ভাবনা এবং নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করতেই তরুণদের অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এরপর বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সাজিয়েছেন সম্ভাব্য মন্ত্রীরা
স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে নতুন সরকারের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে বিএনপি। বিশেষ করে রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য জনগণের নাগালের মধ্যে রাখা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে নয়া সরকারের কাছে। রমজান মাসে গুরুত্বপূর্ণ কর্মযজ্ঞ ঠিকঠাক সামলাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় হাত দেওয়ার কথা জানাচ্ছেন সম্ভাব্য মন্ত্রীরা। আর পরিকল্পনা সাজাতে আগামী বৃহস্পতিবার বৈঠক করবেন তারা। 

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আমরা শপথ নেওয়ার পরপরই কিছু পরিকল্পনা করব। সেটি হবে স্বল্প মেয়াদি। আর মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক করে সরকারের বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সাজাব। এখন মূলত আমাদের কাজ হবে রমজান মাসকে সামাল দেওয়া। এই মাসেই অনেক সমস্যা তৈরি হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনেক কাজ থাকে।’ বিএনপি সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, শপথ নেওয়ার পর মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেবেন তারেক রহমান। তার নেতৃত্বেই সংসদীয় দলের বৈঠক হবে। সেখানেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী ঠিক করা হবে। 

জানা গেছে, আজ বিকেলে মন্ত্রীরা শপথ নিয়ে আগামীকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীসহ সবাই যাবেন সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে। সেখান থেকে জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে যাবেন শহিদ মিনারে। সেখান থেকে সরাসরি মন্ত্রীরা চলে যাবেন প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে। কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে নয়া সরকারের মন্ত্রীরা কাজ শুরু করবেন। 

শপথের পর সংসদীয় দলের বৈঠক ডেকেছে বিএনপি
জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পর সংসদীয় দলের সভা ডেকেছে বিএনপি। শপথ অনুষ্ঠান শেষে সকাল বেলা ১১টায় সংসদ ভবনেই এই সভা হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংসদীয় দলের এই সভায় সংসদ নেতা নির্বাচিত হবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন।’

মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় আছেন যারা
বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তির মিশেলে একটি কর্মমুখী শক্তিশালী মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় আছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হতে পারে বলে জানা গেছে। 

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, বিএনপির বিগত সময়ে যেসব মন্ত্রণালয় বির্তকের ঊর্ধ্বে ছিল, যাদের বিষয়ে বিতর্ক নেই, ক্লিন ইমেজ রয়েছে, তাদের নতুন সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে দেখা যাবে। এদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে স্পিকার, মির্জা আব্বাসকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে বাণিজ্য অথবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আ ন ম এহসানুল হক মিলন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদে থাকতে পারেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবেদীন, চেয়াপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, মো. আসাদুজাম্মান ও ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। 
 
মন্ত্রিপরিষদে থাকছেন নবীনরা
নতুন মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত হচ্ছেন একাধিক নতুন মুখ। দলের নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে আধুনিক শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত তরুণদের যুক্ত করা হবে। এদের মধ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট), চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট), যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) হিসেবে বিবেচনায় আছেন।
 
মন্ত্রিপরিষদে থাকছেন শরিক নেতারা
কয়েক বছর আগেই আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলো নিয়ে জাতীয় সরকারের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। তাই যুগপৎ আন্দোলনের একাধিক নেতা থাকছেন মন্ত্রিসভায়। এদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপিতে যোগ দেয়া ড. রেজা কিবরিয়া, এনডিএম ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর। এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় ১২-দলীয় জোটপ্রধান ও জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ মো. রাশেদ খানও আলোচনা আছেন।