আমি কিছু করিনি,করেছে আইন মন্ত্রণালয়

Passenger Voice    |    ১১:৩৪ এএম, ২০২৬-০২-১৬


আমি কিছু করিনি,করেছে আইন মন্ত্রণালয়

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে নিজের কাজের ফিরিস্তি দিয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, গত দেড় বছরে বিভিন্ন সংস্কার ও কার্যক্রম আইন মন্ত্রণালয়ের টিমওয়ার্কের ফল, ব্যক্তিগত কৃতিত্বের নয়।

তার কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনার জবাবে রোববার রাতে নিজের ফেইসবুকে দীর্ঘ পোস্ট দেন তিনি। লেখেন, “ভাই, আমি কিছু করিনি। করেছে আমাদের আইন মন্ত্রনালয়। তবে এর প্রতিটি কাজে আমি অংশীদার ছিলাম।”

তিনি লেখেন, “আমি জানি তারপরও সমালোচনা করতে কারো কারো ভালো লাগবে। সেটা করেন, সমস্যা নাই। তবে আমার একান্ত অনুরোধ তার আগে, কী কী কাজ করা হয়েছে তা একটু জেনে নিন।”

নিজের দৈনন্দিন কাজের সূচি তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকারে তিন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করা আসিফ নজরুল বলেন, “খুব সকালে অফিসে এসে প্রয়োজনে রাত ৮টা-৯টা পর্যন্ত থেকেছি, সামান্য বিশ্রাম নিয়ে গভীর রাতে বাসায় আবার কাজ করেছি। বহু শুক্রবার, শনিবার সচিবালয়ে অফিস করেছি।”

আইন উপদেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ এবং শেষ দিকে ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তফসিল ঘোষণার দিন থেকে আগের ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ কার্যকর হলে তিনি ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।

এরপর আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভারত না যাওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারে দেড় বছরের দায়িত্ব পালনকালেও অনেকের সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

আগামী মঙ্গলবার তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করতে যাওয়ার দুদিন আগে রোববার রাতে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে এ পোস্ট দেন তিনি।

আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে’ আইন মন্ত্রণালয় ২২টি আইনি সংস্কার, ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম, ২৪ হাজার ২৭৬টি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং গণহত্যার বিচার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করেছে।

আইনি সংস্কারগুলোর মধ্যে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশ সংশোধন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে সংশোধন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পরিবর্তন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংস্কার এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের কথা তুলে ধরেন।

উপদেষ্টা দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে এবং গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অংশ হিসেবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদার, তথ্য ও সেবাকেন্দ্র স্থাপন, কেন্দ্রীয়ভাবে আদালতের কর্মচারী নিয়োগ, প্রসিকিউশন মনিটরিং সেল গঠন, ই-ফ্যামিলি কোর্ট চালু, ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম এবং আইন মন্ত্রণালয়ে ডি-নথি চালুর কথা বলেন। তার ভাষ্য, গত দেড় বছরে রেকর্ডসংখ্যক ১৬০৫টি নতুন আদালত সৃষ্টি হয়েছে এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত পৃথক করা হয়েছে।

আসিফ নজরুল বলেন, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ২৩ হাজার ৮৬৬টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। সাইবার আইনের অধীনে ৪১০টি ‘স্পিচ অফেন্স’ মামলা এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রায় সব মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত ‘গণহত্যার’ বিচার প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক ও প্রসিকিউটর নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনে আইন মন্ত্রণালয় সহায়তা দিয়েছে; চারটি মামলার রায় হয়েছে এবং আরও কয়েকটি মামলা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

পোস্টে উপদেষ্টা বলেন, গত দেড় বছরে মন্ত্রীপর্যায়ে ২,২৮১টি নথি নিষ্পত্তি হয়েছে, যেখানে আগের সরকারের একই সময়ে ছিল ১,২৩৫টি। আইনি মতামত দেওয়া হয়েছে ৫৭৮টি বিষয়ে, যা আগের সরকারের সময়ে ছিল ২১০টি।

তিনি লেখেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে প্রণীত ১২৭টি অধ্যাদেশ ও একটি আদেশ নিয়ে সংকলন প্রকাশ করা হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়ে কী কাজ হয়েছে তার হিসাবও দেওয়া হবে বলে পোস্টের শেষ লেখেন তিনি।