শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:২৮ এএম, ২০২৬-০২-১৬
জাতীয় রাজনীতিতে ধারাবাহিক সাফল্যের নজির গড়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। একাধিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি প্রতিবারই বিজয়ী হয়েছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে তার প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান।
১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। যদিও ওই সংসদের মেয়াদ ছিল স্বল্পকালীন, তবুও এটিই ছিল তার জাতীয় রাজনীতিতে দৃঢ় পদচারণের সূচনা। একই বছরের জুনে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পান ৭২ হাজার ৫৯৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী পান ৫০ হাজার ৮২৯ ভোট। সে নির্বাচনে তিনি ২১ হাজার ৭৬৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। প্রধান দুই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে তার ভোটের হার দাঁড়ায় প্রায় ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ।
২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পায়। সে নির্বাচনে তিনি পান ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬০২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পান ৭৪ হাজার ২৯৭ ভোট। ভোটের ব্যবধান ছিল ৬০ হাজার ৩০৫ ভোট। ওই নির্বাচনে তার প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল প্রায় ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
সর্বশেষ ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পান ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল্লাহ আল ফারুক পান ১ লাখ ২৪ হাজার ৭২৬ ভোট। এ নির্বাচনে তিনি ৯৫ হাজার ৮৪০ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হন। প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল প্রায় ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
ধারাবাহিক এই সাফল্য তাকে তার আসনে এক শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্বে
ছাত্রদল দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে জায়গা করে নেন। বিসিএস ক্যাডার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দিলেও পরে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেন। আন্দোলন, মামলা ও কারাবাসের অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক জীবনকে আরও দৃঢ় ও পরিণত করেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার
চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে চকরিয়া অঞ্চলে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি ভূমিকা রাখেন। স্থানীয়দের মতে, পেকুয়াকে পৃথক উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় তার উদ্যোগ ছিল উল্লেখযোগ্য।
সাম্প্রতিক গণসংযোগে তিনি চকরিয়ায় ‘মাতামুহুরি’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সংশ্লিষ্টদের অভিমত, এটি বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ কারাবন্দি থাকাকালে তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তিনি মোট ভোটের প্রায় ৫৬ শতাংশ পেয়ে জয়লাভ করেন।
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী বলেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমদের ধারাবাহিক বিজয় কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং জনগণের আস্থার প্রতিফলন। প্রতিটি নির্বাচনে তার ভোটের ব্যবধান বেড়েছে–এটাই প্রমাণ করে কক্সবাজার-১ আসনের মানুষ তাকে কতটা ভালোবাসেন। তিনি শুধু একজন সংসদ সদস্য নন, এই জনপদের উন্নয়ন ও অধিকার আদায়ের কণ্ঠস্বর।’
পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন বলেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমদের টানা চার দফা বিজয় কক্সবাজার-১ আসনের জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ। তিনি সবসময় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের পাশে থেকেছেন এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে অংশ নিয়েছেন। তার নেতৃত্বে পেকুয়া ও চকরিয়ায় সাংগঠনিকভাবে বিএনপি আরও শক্তিশালী হয়েছে। উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় তার ধারাবাহিক ভূমিকা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
প্যা.ভ.ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত