শিরোনাম
Passenger Voice | ০৫:৫৭ পিএম, ২০২৬-০২-১৫
সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২১২টি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির শীর্ষ নেতারা সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। এদিকে নির্বাচন শেষ হতেই প্রশাসনিক প্রস্তুতিও এগিয়ে রাখছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতোমধ্যে ভিভিআইপি প্রটোকল বিবেচনায় মোট ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত রেখেছে। সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন পুল এসব গাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সার্ভিসিং সম্পন্ন করেছে। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বাসা থেকে বঙ্গভবনে আনা-নেওয়ার পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের ব্যবহারের জন্য এসব গাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছে।
জানা গেছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ পড়ানোর পর নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর লক্ষ্যে কাজ করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও বঙ্গভবন। শপথ অনুষ্ঠান হবে বঙ্গভবনে। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন সরকারের সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন বলে কথা রয়েছে। বিকল্প হিসেবে তিনি মনোনীত ব্যাক্তির মাধ্যমেও শপথ পরিচালনা করতে পারেন।
বঙ্গবভন সূত্রে জানা গেছে, সে ক্ষেত্রে সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদকে মনোনীত করা হতে পারে।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার থেকেই বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ জন্য দরবার হলকে তৈরি করার পাশাপাশি আপ্যায়নের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। প্রায় এক হাজার মেহমানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বঙ্গভবন।
তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী এ সংখ্যা কিছু কম-বেশি হতে পারে, এমন প্রস্তুতিও নিয়ে রাখছে তারা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত চাহিদা জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে বঙ্গভবন প্রশাসন। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের তালিকা বঙ্গভবনে পাঠানো হবে। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বঙ্গভবন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শপথের দিন চূড়ান্ত চাহিদা অনুযায়ী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের গাড়ি পাঠানো হবে। এসব গাড়ির মধ্যে গত সংসদ সদস্যদের বিশেষ শুল্ক সুবিধায় আমদানি করা আলোচিত ৩০টি বিলাসবহুল গাড়িও রয়েছে।
দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা এই ৩০ গাড়ির নিলাম প্রক্রিয়া স্থগিত করে সরকারি পরিবহন পুলে হস্তান্তর করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্তে গাড়িগুলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের অনুকূলে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করেছে বিআরটিএ।
এসব গাড়ির মধ্যে রয়েছে ২৬টি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার এবং চারটি টয়োটা হারিয়ার। দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এগুলো সংস্কারে প্রায় ২৯ লাখ টাকা ব্যয় করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া বন্দর মাশুল বাবদ সরকারকে গুনতে হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর সঙ্গে রয়েছে রেজিস্ট্রেশন ব্যয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। নতুন সরকার মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করবে, তবে সম্ভাব্য চাহিদা মাথায় রেখেই গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
দ্বাদশ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথের সময় ৩৬টি গাড়ি সরবরাহ করা হয়েছিল। এবার এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছে।
প্যা.ভ.ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত