ভোট পুনর্গণনার দাবিতে উত্তাল রংপুর, ডিসি অফিস ঘেরাও

Passenger Voice    |    ০৫:১৩ পিএম, ২০২৬-০২-১৫


ভোট পুনর্গণনার দাবিতে উত্তাল রংপুর, ডিসি অফিস ঘেরাও

রংপুর-৩,৪ ও ৬ আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ মিছিল ও ডিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন তিনটি আসনের বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভে অংশ নেন কয়েক হাজার নেতাকর্মী। এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ৩ ঘণ্টা অবস্থানের পর ভোট পুনর্গণনার দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত অবস্থান করেন নেতাকর্মীরা। এ সময় ডিসিকে দোষারোপ করে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে নানা স্লোগান দেন তারা।

এ সময় বক্তব্য দেন রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু, রংপুর ৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসাসহ নেতাকর্মী। এর আগেই গতকাল শনিবার একই দাবিতে রংপুর কুড়িগ্রাম-মহাসড়ক অবরোধ করে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন ওই আসনের বিএনপি নেতাকর্মীরা।

রংপুর ৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে আমাদেরকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী পরিষদ সচিবের মাধ্যমে এখানকার ডিসি এই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দায় এড়াতে পারেন না। যারা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছিল নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আমরা তাদেরকে বিশ্বাস করেছিলাম। রংপুরের মাটিতে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। যে নির্বাচনের জন্য আমাদের জীবনের সবকিছু হারিয়েছি আমরা। যে নির্বাচনের জন্য আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম সেই স্বপ্নের ওপর যে বিষাক্ত ছোবল মেরেছে রংপুরের প্রশাসন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা। রাজাকার আল-বদরেররা প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থেকে প্রিজাইডিং পোলিং হয়েছে সেই তালিকা আমাদের কাছে আছে। বাংলাদেশের মানুষ জানে রংপুর করে প্রশাসন কে কোন দল করে। প্রশাসন যন্ত্র কে স্তব্ধ করে নির্বাচন নিয়ে ছয়টি আসনে এক রাতে রাতের আঁধারে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করে রংপুরকে জামাতের আখড়া বানিয়ে ১৭ বছরের সংগ্রামের ঐতিহ্য কি প্ল্যান করে দিয়েছে।

রংপুর ৩ আসনের প্রার্থী শামসুজ্জামান সামু অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তিনটি আসনের ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। যতক্ষণ না আমাদের দাবি পূরণ হবে ততক্ষণ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে যাব।

রংপুর ৪ আসনের প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা বলেন, আমার একটাই দাবি ভোট কোনো গণনা করে যারা হবে আমি তা মাথা পেতে নেব।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, ভোট গণনার পরে আমাদের যারা দায়িত্বে ছিলেন প্রত্যেকটি সেন্টারের ফলাফলগুলো সমন্বয় করা হয় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে। সফটওয়্যারভিত্তিক যে ফলাফল সেটি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পাঠান। তার ভিত্তিতে সবগুলো সেন্টারের ফলাফলকে সর্বাধিক ও সর্বনিম্ন ভোট পেয়েছেন সেগুলো পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যেই নির্বাচনি গেজেট প্রকাশ হয়েছে। রংপুর ৪ আসনের প্রার্থী এমদাদুল হক বর্ষা ভোট পুনঃগণনার আবেদন করেছেন। পরের দিন রংপুর ছয় আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ভোট পুনর্গণনার আবেদন করেন। আজকে আবেদনগুলো আমরা যথাযথভাবে গ্রহণ করেছি। এবং রংপুর তিন আসনের প্রার্থী শামসুজ্জামান সামু ভোট পুনগণনার জন্য আবেদন করেন। আমরা সেগুলো নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠিয়েছি। আমি রিটার্নিং অফিসার হিসেবে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে চাই। এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠিয়েছি।

তিনটি আসনের ভোট পুনর্গণনার জন্য যে আবেদনগুলো করেছেন আমরা সবগুলোই আবেদন গ্রহণ করেছি। রংপুর-৩ সদর আসনে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবার রহমান বেলাল পেয়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শামসুজ্জামান শামু পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট। জাতীয় পার্টির জিএম কাদের তৃতীয় হয়েছেন। তিনি ভোট ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট পেয়েছেন।

রংপুর-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আক্তার হোসেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।

রংপুর-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তার প্রাপ্ত ভোট ১ হাজার ২শ ৮৭ ভোট।