শিরোনাম
Passenger Voice | ০৫:১৬ পিএম, ২০২৬-০২-১৪
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেছেন, ‘২০০৮ সালের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য নতুন এক বেঞ্চমার্ক স্থাপন করেছে।’ আজ শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইভার্স ইজাবস বলেন, ‘নির্বাচনটি সত্যিকার অর্থেই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ছিল এবং নির্বাচন কমিশন স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।’ তবে অপতথ্য নির্বাচনী পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, প্রার্থীরা স্বাধীনভাবে প্রচার চালাতে সক্ষম হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছিল।
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রধান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে ও স্বচ্ছভাবে স্টেকহোল্ডারদের আস্থা বজায় রেখে এবং নির্বাচনের অখণ্ডতা সমুন্নত রেখে কাজ করেছে। মিশনটি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, নির্বাচনী আইনি কাঠামো গণতান্ত্রিক নির্বাচন পরিচালনার জন্য পরিচালিত হয় এবং ২০২৫ সালের সংশোধনী অন্তর্ভুক্তি এবং বিশ্বাসযোগ্যতাকে শক্তিশালী করে। আইনি নিশ্চয়তা বাড়ানোর জন্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা হ্রাস করে এমন ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করার জন্য আরও সংস্কার প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, সদ্য নিযুক্ত নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের জন্য একটি সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে এবং আমরা লক্ষ্য করেছি, অন্তর্বর্তী সরকার এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা কমিশনকে যে সমর্থন দিয়েছিলেন কমিশন স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছে, সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের দ্রুত জবাব দিয়েছে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য ভাগ করে নিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেছে।’
ইভার্স ইজাবস বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, নারী প্রার্থীরা এই নির্বাচনে প্রায় অনুপস্থিত ছিলেন। প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ নারী ছিলেন, বিএনপি ১০ জন এবং এনসিপি দুইজন প্রার্থী দাঁড় করান; যেখানে জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য ৩০টি দলের কোনো প্রার্থী ছিল না; যা জুলাই সনদে আপাত প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও জাতীয় রাজনীতিতে নারীদের এগিয়ে নেওয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছার স্পষ্ট অভাব প্রমাণ করে। অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রয়েছে পুরুষতন্ত্র, বৈষম্য, ডিজিটাল এবং শারীরিক হয়রানি।’
তিনি বলেন, ‘আদিবাসী সম্প্রদায় এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থার অনুপস্থিতির কারণে তাদের অবস্থার উন্নতির আশা ধূলিস্যাৎ করেছিল। তারা অনলাইনসহ জনসাধারণের বক্তৃতার মধ্যে ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় আভাস নিয়েও উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং শারীরিক সহিংসতার একটি দৃঢ় ভয় প্রকাশ করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিক্ষিপ্ত রাজনৈতিক সহিংসতা শীর্ষে পৌঁছেছিল, তবে এই ঘটনাগুলোর প্রভাব স্থানীয়ভাবে রয়ে গেছে এবং কোনো নিয়মতান্ত্রিক প্যাটার্ন দেখা যায়নি। ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশন শারীরিক সহিংসতার সঙ্গে জড়িত প্রায় ৫৬টি ঘটনার প্রতিবেদন পেয়েছে; যার ফলে ২৭টি জেলায় কমপক্ষে ২০০ জন হতাহত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত পাঁচজনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছেন।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত