নির্বাচনের লম্বা ছুটিতে সুনসান চট্টগ্রাম, নেই বিজয়ের উল্লাস

Passenger Voice    |    ০৪:৩৯ পিএম, ২০২৬-০২-১৩


নির্বাচনের লম্বা ছুটিতে সুনসান চট্টগ্রাম, নেই বিজয়ের উল্লাস

নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও চট্টগ্রাম নগরজুড়ে চলছে ছুটির আমেজ। নির্বাচন উপলক্ষে গত বুধবার থেকে ছুটি চলছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আজ শুক্রবার ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। এমন ছুটি রয়েছে আগামীকাল শনিবারও। ফলে লম্বা ছুটিতে ভোটের উৎসবের অংশ হতে নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ি চলে যায় বেশিরভাগ নগরবাসী। তাতে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে আছেন গোটা নগরী। 

এদিকে অন্যান্য সময় নির্বাচনে বিজয়ের পর অলিগলি থেকে রাজপথে আনন্দ মিছিল বের করেন প্রার্থীদের সমর্থকরা। কিন্তু এবার চট্টগ্রাম নগরীতে এটা খুব একটা দেখা যায়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ততা এবং ভোটের ফলাফল জানতে রাত জাগার ফলে ক্লান্ত নেতাকর্মীরা। ফলে শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিএনপি কিংবা জামায়াতের নেতাকর্মীদের তেমনভাবে রাস্তায় দেখা যায়নি। মূলত দলের পক্ষ থেকে বারণ থাকায় আনন্দ মিছিল নিয়ে রাস্তায় নামেননি নেতাকর্মীরা।

ছুটির আমেজের আবহ দেখা গেছে নগরীর সড়কগুলোতে। আজ সকাল ১০টার দিকে নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর, জিইসি মোড়, লালখান বাজার, টাইগারপাস, দেওয়ানহাট এবং আগ্রাবাদ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে যানবাহনের সংখ্যা খুব কম। কিছুসংখ্যক বাস-মিনিবাস ও হিউম্যান হলার চলাচল করছে। রাস্তায় মানুষের আনাগোনাও কম।

নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় আগ্রাবাদগামী একটি মিনিবাসের চালক বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষে ছুটি চলছে। বেশিরভাগ মানুষ গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। ফলে রাস্তায় তেমন একটা লোকজন নেই। আবার নির্বাচনের কাজে ব্যবহারের জন্য বিপুলসংখ্যক গণপরিবহন রিক্যুইজিশন করা হয়েছে। এসব যানবাহন এখনও ছাড়া হয়নি। এ কারণেও রাস্তায় যানবাহন কম। রোববার অফিস খোলার দিনে মানুষ ও যানবাহনে মুখরিত হয়ে উঠবে নগরী।’

বহদ্দারহাট মোড় হচ্ছে নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকা। এখানে রাত-দিন সমানে লোকে-লোকারণ্য থাকে। কিন্তু আজ সকালের দিকে দেখা যায় এমন ব্যস্ত এলাকাও ফাঁকা। এখানে রয়েছে নগরীর বড় একটি কাচা বাজার। এই বাজারের ভেতরে ঢুকে দেখা গেছে। বেশিরভাগ দোকন বন্ধ। হাতেগোনা কয়েকটি শাক-সবজির দোকানে লোকজন কেনাকাটা করছেন। বহদ্দারহাটের পাশেই চকবাজার রোডের আরাকান হাউজিং সোসাইটি। 

এই সোসাইটির বাসিন্দা পরিবহন ব্যবসায়ী সাইফুদ্দিন খালেদ বাজারে কেনাকাটা করছিলেন। তিনি  বলেন, ‘আমার গ্রামের বাড়ি মহেশখালী। তবে আমি চট্টগ্রাম-১০ আসনের আওতাধীন অরাকান হাউজিং সোসাইটিতে থাকি। তবে ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে লম্বা ছুটি পেয়েও গ্রামের বাড়ি যেতে পারিনি। সরবরাহ না থাকার অজুহাতে দোকানদাররা জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে বেশি দামে শাক-সবজি কিনতে হচ্ছে। প্রতি কেজি শাক-সবজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।’ সমকালের কাছে এমন সমস্যার কথা তুলে ধরেন আরও অনেক ক্রেতা।