শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:০৫ এএম, ২০২৬-০২-১১
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বুধবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাবে ব্যালট পেপারসহ ভোটের সামগ্রী।
মঙ্গলবার বিকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের সবশেষ প্রস্তুতি তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় ‘ভালো’ রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “আমরা এই পর্যন্ত যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আছে, তাতে নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট। যে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ঘটেছে, এগুলো না ঘটলে আরও ভালো হত। অতীতে যেকোনো সময়ের চেয়ে আমরা ভালো অবস্থায় আছি।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার এবং নির্বাচনিসামগ্রী সহকারী রিটার্নিং অফিসারের অফিস থেকে বুধবার সকালে বিতরণ শুরু হবে এবং সন্ধ্যা নাগাদ এটা কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে।
বৃহস্পতিবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “মাহেন্দ্রক্ষণ সমাগত। ইনশাআল্লাহ একদিন পরে আমাদের অতি প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী পরশুদিন। ইতোমধ্যে প্রচার প্রচারণার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে।”
দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ভোট ২৯৯ আসনে। প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের ভোট পরে হবে। প্রার্থীরা ভোটের প্রচার শেষ করেছেন মঙ্গলবার সাড়ে ৭টায়।
ভোটগ্রহণ বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “বিকেল সাড়ে ৪টার পরেও যদি কেন্দ্রের চৌহদ্দীর মধ্যে অপেক্ষমান ভোটার থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী তাদেরও ভোট সম্পন্ন করা হবে।”
এবার ভোটে ৫০টি দল এবং স্বতন্ত্রসহ ২৯৯ আসনে প্রার্থী ২০২৮ জন।
৪২ হাজার ৬৫৯ কেন্দ্রে সশরীরে ভোটগ্রহণ হবে। আর ২৯৯টা কেন্দ্রে পোস্টাল ভোট গণনা করা হবে।
সব মিলিয়ে ৪২৯৫৮ কেন্দ্রে ভোট হবে। এবার ১২ কোটি ৭৭ লাখেরও বেশি ভোটার রয়েছেন।
ভোটের আগের দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের ব্রিফিং করবেন; সন্ধ্যায় ভোট উপলক্ষ্যে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে সিইসির।
তিনি বলেন, ভোটার স্লিপে আগে নিয়মে ছিল যে কোনো প্রার্থীর নাম বা প্রতীক থাকতে পারবে না। এটা কিন্তু সংশোধিত হয়েছে।
“স্পষ্টকরণ করে দেওয়া দরকার। এবার ভোটার স্লিপের আয়তন ঠিক রেখে সেখানে প্রার্থী নাম বা প্রতীক থাকতে পারে।”
ভোটের দিন নির্বাচনের অগ্রগতি প্রতিবেদন আগের মতোই দুই ঘন্টা পর পর দেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “প্রথমটা আড়াই ঘণ্টা হবে। শেষেরটা আড়াই ঘন্টা হবে। নয় ঘণ্টা ভোট চলায় মোট চার বারে ভোট পড়ার হার জানানো হবে। আমরা এটা দিতে পারবো।
কেন্দ্র থেকে ভোটের ফলাফল জানানো হবে, এরপর রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় ও পরে নির্বাচন কমিশনে ফলাফল দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “পাবলিকেশন অফ রেজাল্ট, কেন্দ্র থেকে একটা রেজাল্ট পাবলিশ হয়েই যাবে। ওখানে স্বাক্ষর হওয়ার পরে। আর অফিশিয়াল ইলেকশন কমিশনের যে প্রসেসটা আছে অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার স্বাক্ষর করার পরে সেটা রিটার্নিং অফিসার হয়ে যখন নির্বাচন কমিশনে আসবে তখন আমাদের ইসির ঘোষণা মঞ্চ করা হয়েছে ,সেখান থেকে আপনারা এটা জানতে পারবেন।”
সংসদ ও গণভোটের ফলাফল একসাথে দেওয়া হবে। কেন্দ্রেও ভোট গণনা একসাথে হবে, ফলাফলও একসাথে।
“গণভোটের ফলাফল আগে হলে অস্থিরতা তৈরি হবে বাইরে আর সংসদের ফলাফল আগে হলে এজেন্টরা চলে যাবে, দৌড় মেরে চলে গেছে কেউ থাকবে না। গণণা ও ফলাফল দুই ভোটের একসাথে হবে,” বলেন এই নির্বাচন কমিশনার।
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “গণনা কার্যক্রম একই সঙ্গে শুরু হবে। তা না হলে দেখা যাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পাওয়ার পরে এজেন্টার দৌড় মেরে চলে গেছেন, আর কেউ থাকবে না। আবার যদি আপনি গণভোটের ফলাফল আগে ঘোষণা করেন, অস্থিরতা তৈরি হবে বাইরে। “আমরা দুটোর কোনটাই করতে চাই না একসাথে।”
তিনি বলেন, “১৩ ফেব্রুয়ারি হবে কম্পাইলেশন। কম্পাইলেশন অন্য জিনিস। ফলাফল ঘোষণা এক জিনিস আর কম্পাইলেশন এক জিনিস।
“কম্পাইলেশন মানে হচ্ছে, সকল কেন্দ্র থেকে যে ফলাফলগুলো এসেছিল খন্ড খন্ড সারারাত যতক্ষণ সময় লাগুক না কেন, সেটা যে এসছে, আমাদের আমাদের অভিজ্ঞতা কি বলে বেশিরভাগ ফলাফলই হয়তো দেখা যাবে মাঝরাতের মধ্যে পেয়ে গেছি। আমরা দূরবর্তী কিছু কেন্দ্র ছাড়া যেগুলো আসতে হয়ত একটু সময় লাগে, পরের দিন সকালবেলায়।
“এই প্রত্যেকটা কেন্দ্রে যেটা বেসরকারি ফলাফল আগে ঘোষণা করা হয়েছে, এটা ফর্ম-১৮ লিপিবদ্ধ করে প্রার্থী বা তার এজেন্টের উপস্থিতিতে রিটার্নিং অফিসার স্বাক্ষর করবেন। সেটার ওপর ভিত্তি করে কিন্তু পরবর্তীতে গ্যাজেট পাবলিশ হবে।”
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেছেন, যেসব কেন্দ্রে সশরীর ভোট হবে তার আনুমানিক ৫০ শতাংশ সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ৫০ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, “ আমরা এই পর্যন্ত যে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আছে, তাতে নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট। যে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ঘটেছে এগুলো না ঘটলে আরও ভালো হতো। অতীতে যেকোনো সময় চেয়ে আমরা ভালো অবস্থায় আছি।”
সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
“রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার, সমর্থক সবার প্রতি আহ্বান যে আমরা যে এই সুন্দর পরিবেশ বজায় রেখে এবং যে যেসব জায়গাতে কিছুটা হলেও এখনও পর্যন্ত টেনশন বিরাজমান সেগুলো যেন আর কন্টিনিউ না করে। সুন্দর সৌহাদ্যপূর্ণ পরিবেশে, উৎসবমুখর পরিবেশে আমাদের অতি প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করি।”
মঙ্গলবার পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসারদের কাছে ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যালট পৌঁছে গেছে। ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, “বাকি ব্যালট যেগুলো এখনও ট্রান্জিটে আছে। আমরা আশা করছি, আগামী পরশুদিনের মধ্যে পৌঁছে যাবে। কিছু ওয়েস্টেজ থাকবেই, সে ওয়েস্টেজ রেটটা কত দাঁড়াবে, এটা ভোটের পরেই আমরা বলতে পারবো।”
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, এবার ভোট দেখবেন দেশি-বিদেশি ৪৫ হাজার ৩৩০ জন পর্যবেক্ষক। এর মধ্যে সাড়ে তিনশর বেশি বিদেশি পর্যবেক্ষক। এ সংখ্যাটা আরো একটু বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, সংবাদকর্মী এই পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন প্রায় ৯,৭০০ জন। যার মধ্যে ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক।
ভোটে এবার সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ২৯৯ আসনে প্রায় ২১০০ নির্বাহী হাকিম ও প্রায় ৭০০ বিচারিক হাকিম মোতায়েন রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রথমবারের মত এবার ইউএভি বা মনুষ্যবিহীন আকাশযান ব্যবহার করা হচ্ছে, ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি নিশ্চিত করার জন্য ৯০ ভাগের বেশি কেন্দ্রে প্রায় শতভাগের কাছাকাছি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৯৫৮ জন এ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার, ৪৩০৭৮ জন প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭,৮৬২ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৫ লক্ষাধিক পোলিং অফিসার কাজ করবেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত