শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:০৫ পিএম, ২০২৬-০২-১০
ঈদের চেয়েও মনে হচ্ছে অনেক বেশি ভিড়। পরিববারের তিনজনকে নিয়ে সেই সকালে বের হয়েছি। পাঁচ ঘণ্টার মতো সায়দাবাদ-যাত্রাবাড়ীতে দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ির একটা টিকেট সংগ্রহ করতে পারিনি। তাই এখন লঞ্চে করে বাড়ি যাবো। জীবনে কখনো ভোট দিতে পারিনি তাই এবার এতো কষ্ট হলেও বাড়ি গিয়ে ভোট দেবো। এর চেয়ে বড় আনন্দের আর কী আছে।
সন্ধ্যায় রাজধানীর সদরঘাটে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন সোহেল আহমেদ নামে এক তরুণ।
সোহেল যাবেন পটুয়াখালী। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সবজি বিক্রি করেন তিনি। স্ত্রী ও মাকে নিয়ে সকাল ৯টার দিকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়ে সারাদিন গাড়ির জন্য অপেক্ষা করেও অতিরিক্ত ভাড়া ও গাড়ি সংকটে বাড়ি যেতে পারেননি তিনি। তাই বিকল্প পথে লঞ্চে করে সারাদিনের ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন তিনি। উদ্দেশ্য একটাই জীবনের প্রথম ভোট।
সংক্ষিপ্ত আলাপে সোহেল জানান, ২০১১ সালে ভোটার হয়েছেন তিনি, কিন্তু কখনও ভোট দিতে পারেননি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিতে গেলেও তাকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। পরে আর কখনো ভোট দিতে যাননি তিনি।
সোহেল বলেন, কিন্তু এবার মনে হচ্ছে নিজের ভোটটা নিজে দিতে পারবো। তাই শতকষ্টের পরও বাড়িতে যাচ্ছি ভোট দিতে। এখন শান্তি মতো ভোট দিতে পারলেই এই কষ্ট আর কষ্ট মনে হবে না।
সোহেলের মতোই প্রথমবার ভোট দেবেন লাইলি আক্তারও। সরদঘাটে কথা হয় লাইলির সঙ্গে। তিনি যাবেন বরিশাল। লাইলি বলেন, জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবো, এত আনন্দ লাগছে বলার ভাষা নেই। অফিস থেকে চারদিন ছুটি পেয়েছি। রাস্তায় যানজট হতে পারে তাই দুপুরেই বের হয়েছি। মিরপুর থেকে বাসে করে সদরঘাট আসতে চার ঘণ্টা সময় লেগেছে। কষ্ট হলেও জীবনে প্রথম ভোট দেবো বলে বাড়িতে যাচ্ছি। এখন ভোটটা শান্তি মতো দিতে পারলেই হলো।
মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করা রাজিব আহসানও পরিবার নিয়ে বের হয়েছেন ভোলার উদ্দেশ্যে। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, এবার নির্বাচন দেশজুড়ে যেন ভোট উৎসবে পরিণত হয়েছে। শত কষ্ট হলেও রাজধানীর খেঁটে খাওয়া মানুষেরা গ্রামে পাড়ি জমিয়েছে শুধুমাত্র পছন্দের প্রার্থীদের নিজের ভোটটা দিতে। গত তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। সেই আবেগ থেকেই এবার ভোটের উৎসবটা বেশি অনুভব হচ্ছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে সরকার যথেষ্ট চেষ্টা চালাচ্ছে। এবার রাজনৈতিক দলগুলো কতটা সুষ্ঠুভাবে ভোট হতে দেবে সেটাই দেখার বিষয়। মানুষ দেশের একটি পরিবর্তন চাচ্ছে। দেশে শান্তি ফিরে আসুক এটাই সকলের প্রত্যাশা।
এদিকে সদরঘাটে লঞ্চগামী যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় টার্মিনালের ফল বিক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, ভোটকে সামনে রেখেই গত কয়েকদিন ধরেই ঈদের মতো লঞ্চে করে মানুষ বাড়ি যাচ্ছে। গতকালও অনেক ভিড় হয়েছে। আজও অনেক ভিড়, যে ভিড় ঈদের সময় ছাড়া চোখে পড়ে না। আমাদের বেচাকেনাও বেড়েছে কয়েকদিন ধরে।
এর আগে পুরান ঢাকায় দুপুরের পর থেকেই প্রচণ্ড যানজট দেখা দেয়। সকলের গন্তব্য সদরঘাটের দিকে। সন্ধ্যা নামলেই বাড়তে থাকে সদরঘাটে যাত্রীচাপ।
সার্বিক বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ) মোবারক হোসেন বলেন, সদরঘাট থেকে ৩২টি রুটে নিয়মিত যে লঞ্চ চলে তার থেকে আজ দ্বিগুণ লঞ্চ দেওয়া হয়েছে যেন যাত্রীরা সুন্দরভাবে বাড়িতে যেতে পারে৷ যেমন বরিশালে প্রতিনিয়ত দুইটি লঞ্চ চলে কিন্তু আজ ৭টি লঞ্চ ছেড়ে যাবে, বেতুয়ার উদ্দেশ্যে ৬টি অন্যদিন যেখানে দুইটি লঞ্চ ছেড়ে যায়। এভাবে প্রতিটি রুটেই স্পেশাল লঞ্চ দেওয়া হয়েছে। কোনো লঞ্চে যেন অতিরিক্ত ভাড়া না নিতে পারে সেজন্য বড় আকারে ভাড়ার চার্ট টানিয়ে দেওয়া হয়েছে বিআইডব্লিউটিএ-এর পক্ষ থেকে। চাইলেও অতিরিক্ত ভাড়া নিতে পারবে না কেউ।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত