বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি: যৌথ ঘোষণায় যা আছে

Passenger Voice    |    ১১:৩২ এএম, ২০২৬-০২-১০


বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি: যৌথ ঘোষণায় যা আছে

যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি করেছে। সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এই চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশের রপ্তানিকারকরা একে অপরের বাজারে অভূতপূর্ব প্রবেশাধিকার পাবে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ধারাবাহিকতায় এই চুক্তি ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম অ্যাগ্রিমেন্টের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

চুক্তির প্রধান দিকগুলো
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও কৃষিপণ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা দেবে। এর মধ্যে রয়েছে—রাসায়নিক পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও মোটরযান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সামগ্রী, জ্বালানি পণ্য, সয়াবিন, দুগ্ধজাত পণ্য, গরু ও মুরগির মাংস, বাদাম এবং ফলমূল।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্কহার ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনবে এবং নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে বাংলাদেশ একটি নির্দিষ্ট কোটা সুবিধার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুযোগ পাবে, যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম ফাইবারের পরিমাণের সঙ্গে সমন্বিত হবে।

নন-ট্যারিফ বাধা ও নিয়ন্ত্রক সংস্কার
চুক্তিতে বাংলাদেশকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বিদ্যমান নন-ট্যারিফ বাধা দূর করার অঙ্গীকার করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মান অনুযায়ী নির্মিত যানবাহন গ্রহণ, মার্কিন এফডিএ সনদপ্রাপ্ত চিকিৎসা যন্ত্র ও ওষুধ অনুমোদন, এবং পুনর্নির্মিত (remanufactured) পণ্যের ওপর আমদানি সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া। এছাড়া বাংলাদেশকে ডেটার অবাধ সীমান্ত পারাপার নিশ্চিত করা, ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনের ওপর শুল্ক আরোপ না করার বিষয়ে ডব্লিউটিওতে স্থায়ী সমর্থন, কাস্টমস প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশন এবং উত্তম নিয়ন্ত্রক চর্চা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে।

শ্রম অধিকার, পরিবেশ ও মেধাস্বত্ব
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রম অধিকার রক্ষা, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধকরণ, শ্রম আইন সংশোধন এবং প্রয়োগ জোরদারের অঙ্গীকার করেছে। একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা, ভর্তুকি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কারণে সৃষ্ট বাজার বিকৃতি দূর করা এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ কী কী কিনবে
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য (গম, সয়াবিন, তুলা ও ভুট্টা) এবং আগামী ১৫ বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য কেনার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি উড়োজাহাজ ক্রয়, কৃষি, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে নতুন বাণিজ্যিক চুক্তির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

শিগগিরই চূড়ান্ত চুক্তি
উভয় দেশ নিজ নিজ অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত চুক্তিটি চূড়ান্ত ও কার্যকর করবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

 

প্যা.ভ.ম