শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:১৭ এএম, ২০২৬-০২-১০
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে অবৈধ অর্থের লেনদেন ঠেকাতে মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে এজেন্ট নম্বর থেকে টাকা পাঠানো ও উত্তোলন বন্ধ থাকায় নগদ অর্থ তুলতে ব্যাংকের এটিএম বুথে ভিড় করছেন গ্রাহকরা।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এটিএম বুথের সামনে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথগুলোতে তুলনামূলক বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
মধ্য বাড্ডায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথে রাত ১০টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, বেশকিছু মানুষ টাকা তোলার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের একজন বেসরকারি চাকরিজীবী রাশেদ মাহমুদ বলেন, ‘মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট থেকে টাকা তুলতে না পারায় এখানে আসতে হয়েছে। জরুরি কিছু টাকা দরকার। রকেট এজেন্টের কাছে গিয়ে টাকা তুলতে পারিনি। দুজন এজেন্ট জানিয়েছেন এখন এজেন্ট নম্বর থেকে টাকা পাঠানো এবং ক্যাশ আউট বন্ধ। তবে ব্যক্তিগত নম্বর থেকে ব্যক্তিগত নম্বরে এক হাজার টাকা পাঠানো যাচ্ছে। আমার এর বেশি দরকার। এজন্য বুথে আসলাম।’
রামপুরায় গিয়ে একই ব্যাংকের তিনটি এটিএম বুথেও টাকা তোলার জন্য মানুষের ভিড় দেখা গেছে। তবে অন্য ব্যাংকের বুথে গ্রাহকদের তেমন ভিড় দেখা যায়নি।
রামপুরার একটি বুথে অপেক্ষমান গার্মেন্টসকর্মী শিউলি আক্তার বলেন, ‘ঘরের বাজারের টাকার জন্য এসেছি। আগে পাশের এজেন্ট থেকেই টাকা তুলতাম, এখন সেটাও বন্ধ। ছোট বাচ্চা নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা খুব কষ্টকর। ব্যাংক থেকে টাকা তোলা যাচ্ছে, কিন্তু এজেন্টের কাছ থেকে ক্যাশ আউট করা যাচ্ছে না। এটা কেমন নিয়ম হলো? এখন এভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে হচ্ছে।’
একই এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন লেনদেনের জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ওপরই নির্ভর করি। হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্তে আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছি। এটিএমে ভিড় থাকায় সময়মতো টাকা পাচ্ছি না।’
রামপুরার আরেকটি বুথের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মিলন হোসেন বলেন, ‘আজ বেতন হয়েছে। বাসা ভাড়া ও সংসারের কিছু খরচের টাকা তুলতে বুথে এসেছি। এখানে এসে দেখি এমন ভিড়। মূলত মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কড়াকড়ি করার কারণে এমন ভিড় হচ্ছে।’
একটি বুথের নিরাপত্তাকর্মী জানান, বিকেল থেকেই বুথে টাকা তোলার ভিড় হচ্ছে। তবে টাকা তুলতে গ্রাহকদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
রামপুরায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্টের দায়িত্ব পালন করা এরফান নামের একজন বলেন, ‘এখন এজেন্ট নম্বর থেকে অন্য নম্বরে টাকা পাঠানো বন্ধ আছে। ক্যাশ আউটও বন্ধ। ভোটের কারণে এই নিয়ম করা হয়েছে। ভোটের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মতে, ৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা এমএফএস ও পিপিআই (প্রিপেইড ইনস্ট্রুমেন্ট) লেনদেনের বিশেষ সীমা কার্যকর থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো সেবা ব্যবহার করে একবারে এক হাজার টাকার বেশি পাঠানো যাবে না। এর ফলে বিকাশ, রকেট, নগদসহ সব এমএফএস প্ল্যাটফর্মে একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে এবং দিনে মোট লেনদেনের সীমা থাকবে ১০টি (১০ হাজার টাকা)।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, মার্চেন্ট পেমেন্ট ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী লেনদেন অব্যাহত থাকবে। তবে এসময় এমএফএসের মাধ্যমে অন্য সব ধরনের লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
নির্বাচন উপলক্ষে এমএফএস-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রতিটি এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স সেল’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া নির্ধারিত সময়ে সব ধরনের লেনদেনের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি (ক্লোজ মনিটরিং) চালানো হবে। সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এ সময় পি-টু-পি ইন্টারনেট (আইবিএফটির মাধ্যমে লেনদেন) ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী এমএফএস ও ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলে স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।
স্বাভাবিক সময়ে এমএফএস গ্রাহকেরা এজেন্টের মাধ্যমে দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পাঠাতে এবং সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করতে পারেন। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পাঠানো এবং মাসে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা লেনদেন করা যায়। এছাড়া দিনে সর্বোচ্চ ৫০ এবং মাসে সর্বোচ্চ ১০০টি লেনদেন করা যায়।
প্যা.ভ.ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত