শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:১৭ পিএম, ২০২৬-০২-০৯
সংসদ নির্বাচনের আগে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি থেকে সরকার সরে এসেছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটও ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। তার পরও অর্থনীতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে এরই মধ্যে।
চট্টগ্রাম বন্দরে আসা ১৮৫টি জাহাজ ও ২১টি ডিপোতে আটকা পড়েছে প্রায় ৬০ লাখ টন পণ্য। এর মধ্যে ১৫ কনটেইনার জাহাজে আছে খেজুর, ফলমূলসহ শিল্পের কাঁচামাল। অন্য জাহাজে আছে চিনি, তেল, গম, ডালসহ ১৩ ধরনের পণ্য।
গতকাল রোববার ফের কর্মবিরতি শুরুর আগে বন্দর জেটিতে ২০ ফুট এককের আমদানি পণ্যবোঝাই ৩৭ হাজার কনটেইনার পড়ে ছিল। একই সময়ে ডিপোতে পণ্যভর্তি রপ্তানি কনটেইনার জমেছে ১২ হাজার ৪৮৩টি। রমজান ও নির্বাচন কাছাকাছি সময়ে থাকায় এসব পণ্য এই মাসের শুরুতে খালাস করতে চেয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে গত ১০ দিনের মধ্যে সাত দিনই কর্মবিরতি ছিল বন্দরে। শুক্র ও শনিবার কর্মবিরতি না থাকলেও ওই দুই দিন ছিল সাপ্তাহিক ছুটি।
বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, কর্মবিরতি প্রত্যাহার হলেও পণ্য ও জাহাজের যে জট লেগেছে, তা স্বাভাবিক করতে অন্তত ১৫ দিন সময় লাগবে। সে ক্ষেত্রে রমজানের বাজার আর ধরতে পারবেন না জাহাজে থাকা ভোগ্যপণ্যের আমদানিকারকরা।
নির্বাচন উপলক্ষে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে আবার দীর্ঘ ছুটির ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে দেশ। এ সময় যানবাহন চলাচলেও থাকবে বিধিনিষেধ। তাই রপ্তানি পণ্য সময়মতো বন্দরে পাঠানো নিয়ে সংশয়ে আছেন রপ্তানিকারকরা। এদিকে বন্দরের পাইপলাইনে আছে আরও অন্তত ২০টি জাহাজ। আগামী সাত দিনে এগুলো বন্দরে নোঙর করার কথা। সময়মতো এসব জাহাজ বন্দরে এলে চলমান সংকট আরও তীব্র হবে। কারণ, চলতি মাসে মোট কর্মদিবস থাকবে তখন মাত্র ১৩ দিন। বন্দর ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকলেও ছুটির দিনে স্বাভাবিকের তুলনায় অর্ধেকে নেমে আসে খালাস কার্যক্রম।
বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি এমএ সালাম বলেন, আটকে থাকা ১৮৫ জাহাজের বেশ কয়েকটিতে আমাদের শিল্পের কাঁচামাল রয়েছে। আছে রমজানের পণ্যও। আবার শুধু ডিপোতে আমাদের রপ্তানি কনটেইনার জমেছে ১২ হাজারের বেশি। যে সংকট তৈরি হয়েছে বন্দরে, তার জট খুলতে হিমশিম খেতে হবে দায়িত্বশীলদের।
বিজিএমইএর আরেক সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বন্দর ইস্যুতে দূরদর্শিতার অভাব ছিল প্রকট। চুক্তি হবে না– জানাল এখন। ততদিনে দেশের কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেল। এর দায়ভার নেবে কে?
৩১ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন আট ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা। ৪ ফেব্রুয়ারি ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন তারা। ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে দুদিন ছিল অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি। মাঝে শুক্র ও শনিবার দুদিন কর্মবিরতি ছিল না। গতকাল থেকে আবার শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি। আগেরবারের কর্মবিরতিতে সচল ছিল বহির্নোঙরের কার্যক্রম। গতকাল অচল করে দেওয়া হয় সেখানকার কার্যক্রমও।
বার্থ অপারেটরস, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট মধ্যরাতে প্রত্যাহার করেছে আন্দোলনকারীরা। তার পরও জাহাজ ও পণ্যের যে জট লেগেছে, সেটা কাটাতে অন্তত ১৫ দিন সময় লাগবে। কারণ, এর মধ্যে আরও নতুন জাহাজ আসবে। দীর্ঘ ছুটির ফাঁদে পড়বে বর্তমান জাহাজগুলো।
অচলাবস্থা বহির্নোঙরেও
শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সারওয়ার হোসেন জানান, কর্মবিরতির কারণে গতকাল বহির্নোঙরের ৬৫ জাহাজের খালাস কার্যক্রম মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। বন্দর ছাড়ার ঘোষণা থাকায় তিনটি জাহাজ থেকে কিছু পণ্য খালাস করেন শ্রমিকরা। এর বাইরে শিল্প মালিকদের পণ্য আনা ২২ জাহাজে ও শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরের অধীনে থাকা ৪৩ জাহাজ থেকে খালাস হয়নি কোনো পণ্য। অথচ আগের দিনও এসব জাহাজ থেকে ২৪ ঘণ্টায় খালাস হয়েছিল ৮৪ হাজার ৮০ টন পণ্য। গতকাল পণ্য খালাস না হওয়ায় শিল্প মালিকদের পাশাপাশি ২৭টি শিপিং এজেন্টও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। শুধু শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরের অধীনে থাকা জাহাজগুলোতে এখনও খালাসযোগ্য পণ্য আছে ১৯ লাখ ৩১ হাজার ৫৯৭ টন।
কর্মবিরতিহীন দুদিনে বন্দর ও ডিপোর চিত্র
এই মাসে কর্মবিরতি ছিল না মাত্র দুদিন। ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি ছুটির দিন হলেও ব্যস্ত ছিল বন্দর ও ডিপো। ৬ ফেব্রুয়ারি ডিপো থেকে বন্দরে ২০ ফুট এককের রপ্তানি কনটেইনার গেছে দুই হাজার ৩০১টি। একই দিন বন্দর থেকে আমদানি কনটেইনার এসেছে ৫০৪টি। ৭ ফেব্রুয়ারি বন্দরে রপ্তানি কনটেইনার গেছে তিন হাজার ২৭২টি। আর বন্দর থেকে আমদানি কনটেইনার এসেছে ৯১৪টি। এ দুই দিনে সচল ছিল চট্টগ্রাম বন্দরও। ৬ ফেব্রুয়ারি জেটিতে নতুন জাহাজ নোঙর করেছে একসঙ্গে ১০টি। জেটিতে আমদানি ও রপ্তানি কনটেইনার হ্যান্ডল হয়েছে তিন হাজার ৩৯০টি। ৭ ফেব্রুয়ারি জেটিতে নতুন জাহাজ এসেছে দুটি। ওই দিন আমদানি ও রপ্তানি কনটেইনার হ্যান্ডল হয়েছে ১০ হাজার ৬৬৪টি। ধর্মঘট আবার শুরু হওয়ায় প্রভাব পড়েছে জেটিতে। শনিবার রাত ১২টার পর থেকে গতকাল সকাল ৮টায় ধর্মঘট শুরুর আগ পর্যন্ত বন্দরে আমদানি ও রপ্তানি কনটেইনার হ্যান্ডল হয়েছে মাত্র দুই হাজার ১০১টি।
অপেক্ষমাণ জাহাজ ৯৭ থেকে বেড়ে ১৮৫
কর্মবিরতি শুরুর আগে বন্দরে পণ্য নিয়ে অপেক্ষমাণ জাহাজ ছিল ৯৭টি। তবে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এটি বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৫তে। অর্ধেক সংখ্যক জাহাজেই আছে চাল, ডাল, তেল, চিনি, ছোলাসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী। রমজান সামনে রেখে আমদানিকাকরা এসব পণ্য এনেছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরে। আটকে থাকা জাহাজে আছে মেঘনা গ্রুপ, আবুল খায়ের গ্রুপ, সিটি গ্রুপ ও টিকে গ্রুপের পণ্য। টিকে গ্রুপের পরিচালক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) শফিউল আতাহার তসলিম বলেন, নির্বাচন ও রমজান কাছাকাছি সময়ে হওয়ায় এবার আগেভাগে পণ্য এনেছেন অনেক আমদানিকারক। প্রত্যাশা ছিল রমজানের আগেই এসব পণ্য খালাস করে বাজারে আনবেন তারা। তবে টানা কর্মবিরতি সব লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। যে জট লেগেছে, তা খুলতে এখন ১৫ দিনেরও বেশি সময় লাগবে।
জেটিতে আমদানি কনটেইনার জমেছে ৩৭ হাজার
কর্মবিরতি শুরুর আগে বন্দরের জেটিতে আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার ছিল ৩২ হাজার ১১১টি। এক পর্যায়ে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭ হাজার ৩১২তে। বন্দর থেকে ২০ ফুট এককের (টিইইউ) প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজার পণ্যবাহী কনটেইনার ডেলিভারি নেওয়া হয়। তবে কর্মবিরতির প্রথম ছয় দিনে মোট ডেলিভারি হয়েছে আট হাজার ৮৬১ কনটেইনার। এই হিসাবে গড়ে গেছে মাত্র এক হাজার ৪৭৬ কনটেইনার। এর মধ্যে দুদিন ছিল অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি। সেই দুদিনে একটি পণ্যবাহী কনটেইনারও ডেলিভারি হয়নি। গতকাল রাত ৮টা পর্যন্তও ডেলিভারি হয়নি পণ্যভর্তি কোনো কনটেইনার। অথচ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ব্যবসায়ীরা এই সাত দিনে পণ্যবোঝাই কনটেইনার ডেলিভারি নিতে পারতেন প্রায় ৩৫ হাজার।
১২ হাজার কনটেইনার জমেছে ডিপোতে
২১টি কনটেইনার ডিপোতে তৈরি পোশাকের শতভাগ রপ্তানি পণ্য ও ৬৭ ধরনের আমদানি পণ্য ওঠানামার কাজ করা হয়। স্বাভাবিক সময়ে ডিপো থেকে বন্দরে প্রতিদিন রপ্তানি কনটেইনার যায় গড়ে দুই হাজার ৮০০টি। আমদানি কনটেইনার আসে গড়ে এক হাজার ২০০। তবে কর্মবিরতি চলাকালে এক পর্যায়ে রপ্তানি কনটেইনার গেছে মাত্র ১৯৫টি। আর আমদানি কনটেইনার ডিপোতে এসেছে মাত্র ১৪টি। কর্মবিরতি শুরুর আগের দিন ডিপোতে রপ্তানি কনটেইনার ছিল আট হাজার ১৭টি। আমদানি কনটেইনার ছিল ৯ হাজার দুটি। তবে প্রথম ছয় দিনের কর্মবিরতির প্রভাবে ডিপোতে এক পর্যায়ে রপ্তানি কনটেইনার জমেছে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ২৪টি। আমদানি কনটেইনার কমে হয়েছে সাত হাজার ৩২টি। ডিপো মালিক সমিতির মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, কর্মবিরতি না থাকা দুদিনে মাত্র দুই হাজার রপ্তানি কনটেইনার কমাতে পেরেছি আমরা। ডিপোতে যে সংখ্যক রপ্তানি কনটেইনার জমেছে, তা স্বাভাবিক করতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে।
ধর্মঘট স্থগিত হলেও জট খুলতে লাগবে ১৫ দিন
নৌ উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে বন্দরের কর্মবিরতি দুদিনের জন্য স্থগিত হওয়ায় কিছুটা চিন্তামুক্ত হয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে গতকাল থেকে ফের কর্মবিরতি শুরু হওয়ায় শঙ্কা বাড়তে থাকে তাদের। মধ্যরাতে ধর্মঘট স্থগিত হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন ব্যবসায়ীরা। সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ডিপি ওর্য়াল্ডের সঙ্গে এনসিটির ইজারার চুক্তি হচ্ছে না বিডা চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্যে প্রেক্ষিতে আশ্বস্থ হয়ে আমরা ধর্মঘট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সোমবার সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত থাকবে।’ বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রোজা মাথায় রেখে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সি কম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বলেন, বন্দর ও ডিপোতে এখন যে জট লেগেছে, এটি ছাড়তেই লাগবে অন্তত ১৫ দিন। এর মধ্যে আবার নতুন জাহাজ আসবে। সেগুলো থেকেও পণ্য খালাস করতে হবে। রমজানের আগে এবার বড় ক্ষতির মুখে পড়ল দেশের অর্থনীতি।
সাত দিনে ক্ষতি ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্দরে গত ১৯ বছরে শ্রমিক-কর্মচারীদের এমন কর্মসূচি দেখা যায়নি। সর্বশেষ ২০০৭ সালে বন্দরে এমন লাগাতার কর্মসূচি দেখা গিয়েছিল। বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন পক্ষের গত সাত দিনে অন্তত ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
বিজিএমইএ বলছে, ডিপো ও জাহাজে আটকে আছে তাদের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার আমদানি-রপ্তানি পণ্য। শিগগির ধর্মঘট প্রত্যাহার না হলে তাদের এসব পণ্য বিমানে পাঠাতে হবে। তখন তাদের বাড়তি খরচ ছাড়িয়ে যাবে কয়েক হাজার কোটি টাকা। শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল আলম জুয়েল বলেন, অলস বসে থাকায় প্রতিটি বড় জাহাজকে প্রতিদিন ক্ষতি গুনতে হয়েছে ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা। বন্দরে এখন জাহাজ আছে ১৮৫টি। ধর্মঘট আরও দুদিন দীর্ঘায়িত হলে জাহাজের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। বাড়বে প্রতিটি জাহাজের অপেক্ষমাণ সময়ও। শিপিং এজেন্টের ক্ষতির পরিমাণ তখন ছাড়াবে শতকোটি টাকা। সাত দিনে প্রায় ২২০ কোটি টাকার রাজস্ব কম আদায় হয়েছে এনবিআরের। বন্দরে আসা পণ্যের সঙ্গে ট্যাক্স ও ভ্যাট সম্পৃক্ত। গত ৯ দিনের মধ্যে তিন দিন কোনো পণ্য খালাস না হওয়ায় নির্ধারিত রাজস্ব পায়নি কাস্টম হাউস। প্রতিদিন গড়ে ১৭০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে তারা। ২১ ডিপো মালিকের প্রতিদিন আয় হয় গড়ে ৮ কোটি টাকা। গত ৭ দিনে তাদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।
সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু জানান, কমিশন ভিত্তিতে কাজ করা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের ক্ষতি হয়েছে ২০০ কোটি টাকার বেশি। আবার বার্থ অপারেটরের একটি বার্থে প্রতিদিন অন্তত ৫০০ শ্রমিক কাজ করে। জিসিবির ছয়টি বার্থে ধর্মঘট চলাকালে কাজ করেনি শ্রমিক-কর্মচারীরা। এতে বার্থ ও টার্মিনাল অপারেটরদের ক্ষতি ছাড়িয়েছে শতকোটি টাকা। প্রতিদিন গড়ে আট হাজার গাড়ি আসা-যাওয়া করে বন্দর জেটিতে। অচলাবস্থা থাকায় ৭ দিনে তাদের ক্ষতি শতকোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন সহস্রাধিক আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক। কারণ শিপিং এজেন্ট তাদের ক্ষতির টাকা কেটে রাখবে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই।
প্যা.ভ.ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত