পোস্টাল ভোটের বাইরে গণমাধ্যমকর্মীরা

Passenger Voice    |    ১১:১২ এএম, ২০২৬-০২-০৯


পোস্টাল ভোটের বাইরে গণমাধ্যমকর্মীরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কর্মস্থলের কারণে নিজ এলাকায় ভোট দিতে না পারা সারা দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য পোস্টাল ভোটের কোনো ব্যবস্থা রাখেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকা অসংখ্য সাংবাদিক এবারও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণি ও পেশার ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় পোস্টাল ভোটের সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব শ্রেণির মধ্যে রয়েছেন-সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নির্বাচন দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার এবং নির্বাচনি কাজে যুক্ত কিছু সরকারি সংস্থার সদস্য। তবে পেশাগত দায়িত্বে নিয়োজিত গণমাধ্যমকর্মীদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলার একাধিক সাংবাদিক বর্তমানে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে কর্মরত রয়েছেন। নির্বাচনের আগের দিন ও ভোটের দিন অফিস খোলা থাকা এবং মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতায় তারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না।

দৈনিক পূর্বকোণের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের সাংবাদিক এহসানুল হক বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আমরা মাঠে থেকে গণতন্ত্রের খবর মানুষের কাছে তুলে ধরি। অথচ আমাদের নিজেদের ভোট দেওয়ার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি। নির্বাচন কমিশন যদি সাংবাদিকদের জন্য পোস্টাল ভোটের আয়োজন করত, তাহলে নাগরিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হতো।’

দৈনিক সমকাল পত্রিকার সাংবাদিক নাসির উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘আমি চকরিয়ার ভোটার হলেও বর্তমানে চট্টগ্রামে কর্মরত। নির্বাচন কমিশন পোস্টাল ভোটের সুযোগ না রাখায় পরিবার-পরিজন নিয়ে এলাকায় গিয়ে ভোট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অফিসের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভোটাধিকার হারানো একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে কষ্টের।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সাংবাদিক পেশায় যুক্ত হওয়ার পর থেকে একবারও ভোট দিতে পারিনি। গণতন্ত্র রক্ষার সংবাদ করতে গিয়ে নিজেই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।’

এদিকে পেকুয়ার উজানটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও নিউজ ২৪–এর সিনিয়র রিপোর্টার মীর মোহাম্মদ আকরাম হোসেন বলেন, ‘আমি পেকুয়ার ভোটার। কিন্তু নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের কারণে ভোটের দিন আমাকে চট্টগ্রামে থাকতে হবে। গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য পোস্টাল বা বিকল্প ভোটের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এবারও আমার ভোট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে গণমাধ্যমকর্মীরা দায়িত্ব পালন করলেও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্নে তারা ধারাবাহিকভাবে উপেক্ষিত হয়ে আসছেন। ভবিষ্যৎ নির্বাচনে সাংবাদিকদের পোস্টাল ভোট বা বিকল্প ভোটিং ব্যবস্থার আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

 

প্যা.ভ.ম