চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানের দাবি বন্দর সচল, বাস্তবতা ভিন্ন

Passenger Voice    |    ০৫:০৮ পিএম, ২০২৬-০২-০৮


চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানের দাবি বন্দর সচল, বাস্তবতা ভিন্ন

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান দাবি করেছেন, শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন এবং বন্দর সচল রয়েছে। তবে, শিপিং এজেন্ট, কাস্টমস এজেন্ট, বার্থ অপারেটর ও শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের ভাষ্য ভিন্ন। তারা বলছেন, বন্দরের টার্মিনালগুলোতে জাহাজ থেকে কন্টেইনার ওঠানামা, পণ্য ডেলিভারিসহ সব ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ রয়েছে। এমনকি আজ সকাল থেকে বহির্নোঙরে থাকা কার্গো জাহাজগুলো থেকেও পণ্য খালাস বন্ধ আছে।

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বন্দর ভবনের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, 'সকালে শ্রমিকদের সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রায় দুই ঘণ্টা মিটিং হয়েছে। এরপর শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। কেউ যদি তাদের কাজে বাধা দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

তিনি দাবি করেন, বন্দর সচল আছে এবং সব ধরনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এনসিটি চুক্তি প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও আন্তর্জাতিক বন্দরগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ও বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে টার্মিনালটি বিদেশি দক্ষ অপারেটরের কাছে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তির নেগোসিয়েশন এখনো শেষ হলে বিষয়টি কেবিনেটে যাবে। কেবিনেট অনুমোদন দিলে চুক্তি করা হবে।

চুক্তি সম্পাদনে তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, গত দেড় বছর ধরে বিশ্বব্যাংকের প্রতিষ্ঠান আইএফসির মাধ্যমে চুক্তির শর্ত প্রণয়নের কাজ চলছে। 

দেশের স্বার্থবিরোধী কোন চুক্তি করা হবে না বলে আস্বস্ত করে তিনি বলেন, চুক্তি এখনো চুড়ান্ত হয়নি। তার আগেই চুক্তির বিষয়ে অপতথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

তাকে অপসারণ করার খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, 'আমি কিছুক্ষণ আগে শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে দুই ঘণ্টা মিটিং করে এলাম। অপসারণ করা হলে আমার তো এখানে থাকার কথা না।'

বাংলাদেশ কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দর বিষয়ক সম্পাদক রোকনুদ্দিন মাহমুদ বলেন, 'বন্দরে আমাদের জানা মতে কোনো কাজ হচ্ছে না। এতে আমদানিকারক ও রফতানিকারকরা প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এই ধর্মঘটের কারণে আমদানিকারকদের যে পোর্ট রেন্ট আসবে, তা মওকুফ করার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।'

শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সরওয়ার হোসেন সাগর বলেন, বহির্নোঙরে থাকা ৮০টির মতো মাদার ভেসেলে পণ্য খালাস সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে। ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কয়েকটি জাহাজে শেষ মুহুর্তের কাজ চলছে।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার জানান, ডিপোগুলো থেকে কোনো রপ্তানি পণ্য বন্দরে যাচ্ছে না এবং বন্দর থেকেও কোনো আমদানি পণ্য ডিপোতে আসছে না। ডিপোগুলোতে ১৩ হাজার ৪৮৩ টিইইউস কন্টেইনার আটকে আছে। আজকে আরও ১৪০০ টিইইউস কন্টেইনার ঢুকবে ডিপোগুলোতে।

বন্দরের তথ্যমতে, ৪১ হাজারেরও বেশি কন্টেইনার আটকে আছে টার্মিনাল ইয়ার্ডগুলোতে।

 

 

প্যা.ভ.ম