শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৫৭ এএম, ২০২৬-০২-০৮
চট্টগ্রাম বন্দরে ঘোষিত ধর্মঘট নিরসন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি হস্তক্ষেপের জন্য সম্মিলিত আবেদন জানিয়েছে চার শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও বাংলাদেশ টেক্সটাইলস মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ এ আবেদন জানান।
চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে গণতান্ত্রিক উৎসবের আমেজ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এমন সময় দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরে একটি গভীর অচলাবস্থার উপক্রম হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে লাগাতার ধর্মঘট ও বহির্নোঙরে কার্যক্রম বন্ধের ডাক দিয়েছে। এটা আমাদের শিল্প ও বাণিজ্যে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, বন্দরে কর্মরত প্রতিটি শ্রমিক-কর্মচারী আমাদের অর্থনীতির অগ্রযাত্রার সম্মুখ সারির সহযোদ্ধা। তাই নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে শিল্প, বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে আন্দোলনকারী ও বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সব পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার ভিত্তি নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।
বন্দর অচল হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, বিগত সাত দিন ধরে আমরা ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো উদ্ভূত সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সংলাপ ও সমন্বয় সভা করেছি, যাতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আস্থার সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো ফলপ্রসূ সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আন্দোলনকারীরা বন্দরের বহির্নোঙরে বার্থিং ও পণ্য খালাস বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
এই অচলাবস্থায় সৃষ্ট সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে চিঠিতে বলা হয়, দেশের ৯৯ শতাংশ কনটেইনার এবং ৭৮ শতাংশ সমুদ্রপথের বাণিজ্য এই বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হলে তৈরি পোশাকসহ সব প্রধান রপ্তানি খাত অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামালবাহী জাহাজ খালাস না হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে, যা দ্রব্যমূল্যকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ঠেলে দেবে। বন্দরে জাহাজ জট ও কার্যক্রম স্থগিতের ফলে প্রতিদিন আমদানিকারকদের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ‘ডেমারেজ চার্জ’ হিসেবে পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি বিশাল বোঝা।
আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও তদন্তের উদ্যোগ পরিস্থিতি আরও জটিল ও উত্তপ্ত করে তুলেছে জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, এনসিটি ইজারা সংক্রান্ত বিরোধটি বর্তমানে কর্মচারী ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সাংঘর্ষিক অবস্থানে পৌঁছেছে। বিশেষ করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও তদন্তের উদ্যোগ পরিস্থিতি আরও জটিল ও উত্তপ্ত করে তুলেছে বলে আমরা মনে করি।
জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো প্রকার ব্যাঘাত ঘটা আমাদের কারোরই কাম্য নয়। এমতাবস্থায়, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে আমরা আপনার (প্রধান উপদেষ্টা) ব্যক্তিগত ও সরাসরি হস্তক্ষেপ একান্তভাবে প্রার্থনা করছি।
প্যা.ভ.ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত