শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৫৪ এএম, ২০২৬-০২-০৮
একীভূত করা ৫ ব্যাংকের কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এসব ব্যাংক থেকে অধিকাংশ গ্রাহকই টাকা পাচ্ছেন না। এমনকি আইসিইউতে থাকা রোগীর চিকিৎসার জন্য, বিদেশে বৃত্তিপ্রাপ্ত সন্তানের জন্য, এমনকি মেয়ের বিয়ের জন্য জমানো টাকাও গ্রাহককে দিতে পারছে না এই ব্যাংকগুলো। তার ওপর বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মুনাফার টাকা ‘হেয়ার কাট’ পদ্ধতির মাধ্যমে আমানতকারীদের হিসাব থেকে কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে আমানতকারীদের আন্দোলনসহ নানামুখী চাপে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার কথা বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। কিন্তু এরপরও কাটছে না এসব ব্যাংকের অচলাবস্থা। এখনো পর্যন্ত ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। প্রশাসকের মাধ্যমেই চলছে ব্যাংকগুলো। এই প্রশাসকদের মধ্যেও নেই কোনো সমন্বয়।
প্রশাসক হিসেবে এক্সিম ব্যাংকের দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শওকাতুল আলম। সোশ্যাল ইসলামীতে নির্বাহী পরিচালক সালাহউদ্দিন এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্বে আছেন নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদার। আর গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব পেয়েছেন পরিচালক মো. মোকসুদুজ্জামান এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে আরেক পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হাসেম।
একেক ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের একেক রকম সিদ্ধান্তের কথা জানানো হচ্ছে। ফলে এসব ব্যাংকের গ্রাহকরা প্রতিদিনই নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৫ ব্যাংকের ভুক্তভোগী আমানতকারীরা আজ রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে গণঅনশন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। কিন্তু পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় এবং আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পরে তারা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।
তারা বলছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে নিশ্চয়ই আমানতকারীদের বিষয়টি তারা ভালোভাবে দেখবেন। যে গ্রাহকের অর্থের মাধ্যমে ব্যাংক পরিচালিত হয়, সেই গ্রাহকদের দুর্ভোগ তারা নিশ্চয়ই নিরসন করবেন।
এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ভুক্তভোগী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব আলীফ রেজা বলেন, আমানতকারীদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আমরণ অনশনের মাধ্যমে হলেও তারা হেয়ার কাট অর্থাৎ আমানতকারীদের হিসাব থেকে মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘যাদের কারণে ব্যাংকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদেরকে কোনো ধরনের শাস্তি না দিয়ে এর দায় দেওয়া হচ্ছে সাধারণ আমানতকারীদের। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে তিন দিনের গণঅনশনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যেন না হয়, সে জন্যই আমরা আমাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি। তবে শাখায় শাখায় আমাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় দুর্বল আখ্যায়িত ৫টি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। যদিও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি। এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আর মাত্র ৩টি কার্যদিবস আছে। এখনো সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চূড়ান্ত রূপরেখাও বাস্তবায়ন হয়নি। কেবল আমানতকারীদের সুরক্ষা হিসেবে ২ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও সেটাও ঠিকভাবে পাচ্ছেন না গ্রাহক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক হচ্ছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত এই ব্যাংকগুলো। গ্রাহকদের পাশাপাশি কর্মকর্তারাও চাপে আছেন। আমানতকারীরা অভিযোগ করে বলেছেন, জমানো টাকা যদি প্রয়োজনে ব্যাংক দিতে না পারে, তাহলে মানুষ কেন সেখানে টাকা রাখবে? এমন সব অভিযোগ নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই কর্মকর্তাদের সঙ্গে গ্রাহকদের বাগবিতণ্ডা হচ্ছে। কখনো কখনো তা মারামারির পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে একদিকে কাঙ্ক্ষিত হারে নতুন আমানত আসছে না, অন্যদিকে ব্যবসাও করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। সব মিলিয়ে গভীর সংকটে আছে এই পাঁচ ব্যাংক।
এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৫ ব্যাংকের প্রশাসকের মধ্যে সমন্বয়হীনতা আছে, এটা ঠিক। তবে গভর্নর প্রতিদিনই ৫ ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। আশা করি শিগগিরই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত