কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় হতাশা

Passenger Voice    |    ০১:৪৪ পিএম, ২০২৬-০২-০৬


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় হতাশা

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন সংস্কার শুরু হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ সংশোধনের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় হতাশার কথা জানিয়েছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কর্মকর্তারা। এদিকে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে অর্থ উপদেষ্টার একটি বক্তব্যকে অন্যায্য ও অসংগত উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। এসব ইস্যুতে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।  

মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ কয়েকজন কর্মকর্তা বক্তব্য রাখেন। এ সময় কাউন্সিলের নেতারা ছাড়াও  নীল, হলুদ ও সবুজ দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা, সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ অর্থ উপদেষ্টা এবং ড. আহসান এইচ মনসুরের মতো অর্থনীতিবিদ গভর্নর থাকার সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ও ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধন না হওয়া হতাশার। তারা বলেন, ব্যাংক খাতের অনিয়মের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী করা  হয়, অথচ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হচ্ছে না। এটি হতে পারে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জবাবদিহি থাকতে হবে সংসদীয় কমিটির কাছে, সরকারের কাছে নয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তারা এই দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়াসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। 

কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ বলেন, সম্প্রতি এক আলোচনায় অর্থ উপদেষ্টা বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মন্তব্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যাদা হানি করেছে। নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তাদের মনোবলে আঘাত করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল এর  তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বায়ত্তশাসন হলে সরকার ঋণ নিতে পারবে না– এটা ভুল ধারণা। তবে প্রক্রিয়ায় কিছুটা পরিবর্তন হবে। সরকার একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ধার নিতে পারবে। তবে অনেক বেশি ধার করতে চাইলে সংসদে যেতে হবে। 

আইন সংশোধনের পাশাপাশি নিয়োগ-পদোন্নতিতে অচলাবস্থা দূর করা, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিয়োগ দেওয়া চুক্তিভিত্তিক সব উপদেষ্টার নিয়োগ বাতিল, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গভর্নরের সক্রিয় সময় ও মনোযোগ নিশ্চিত করা, দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের কারণে হয়রানির শিকার কর্মকর্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাসহ সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন দাবি জানানো হয়।