চট্টগ্রামে চালকরা দিশেহারা,ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

Passenger Voice    |    ১১:১১ এএম, ২০২৬-০২-০৬


চট্টগ্রামে চালকরা দিশেহারা,ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার বাসিন্দারা গণপরিবহন হিসেবে তিন চাকার অটোরিকশা বেশি ব্যবহার করেন। এসব যানের বেশিরভাগই এলপি গ্যাসে চলে। কিন্তু প্রায় এক মাস ধরে সাতকানিয়াতে এলপি গ্যাসের তীব্রসংকট দেখা দিয়েছে। এতে গণপরিবহন খাতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। উপজেলায় থাকা বেশিরভাগ রেফুয়েলিং সেন্টারে গ্যাস না থাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে।

কালেভদ্রে কোনোটিতে এলপিজি এলে সব অটোরিকশা সেখানে হামলে পড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে চালকরা সর্বোচ্চ ৪০০ টাকার গ্যাস নিতে পারেন। কখনো কখনো পুরো রাত অপেক্ষায় থেকেও গ্যাস ছাড়াই ফিরতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশার চালকদের বিরুদ্ধে যাত্রীদের থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন অবস্থায় উপজেলার গণপরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ থেকে সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাটের ভাড়া ৩০ টাকা হলেও বর্তমানে ৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও কেরানীহাট থেকে চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারীর ভাড়া ২০ টাকা হলেও চালকরা আদায় করছেন ৩০ টাকা। কেরানীহাট থেকে বান্দরবান ও বাঁশখালী উপজেলায় যাতায়াতের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে।

এলপিজিচালিত অটোরিকশাচালক কামাল আহমদ বলেন, ‘কয়েক দিন আগে বিকেলে সাতকানিয়ার আনুফকিরের দোকান এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে এলপিজি আসার খবরে গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সহস্রাধিক চালক গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়ান। পরে দেখি এলপিজি আসেনি। একপর্যায়ে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, এলপিজি পৌঁছাতে অনেক রাত হবে। এরপরও আমি আশা নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু রাত পার হয়ে পরদিন সকালে এলপিজি এসে পৌঁছায়। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে তারা শুধু ৪০০ টাকার এলপিজি দেন। ওই গ্যাস দিয়ে এক দিন গাড়ি চালাতে পেরেছিলাম। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত গাড়ি বন্ধ রয়েছে।’

গিয়াস উদ্দিন সাগর নামে আরেক চালক বলেন, ‘গত তিন সপ্তাহ ধরে এলপিজি সংকটের কারণে ঠিকমতো গাড়ি চালাতে পারছি না। মাঝে মধ্যে এলপিজি এলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ফিরে আসতে হচ্ছে। ফলে সড়কে যাত্রীর তুলনায় গাড়ির পরিমাণ কমে গেছে। ফিলিং স্টেশনে মাঝে মধ্যে এলপিজি এলে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে অনেক কষ্ট করে তা সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তাই আমরা একপ্রকার বাধ্য হয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ টাকা ভাড়া বেশি নিচ্ছি। আমাদেরও তো সংসার আছে।’

লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এলাকা থেকে এলপিজিচালিত অটোরিকশায় করে কেরানীহাটে এসেছেন রিয়াজ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এলপিজিসংকটকে পুঁজি করে চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন। পদুয়া থেকে কেরানীহাটের ভাড়া ২০ টাকা। কিন্তু চালকরা আদায় করছেন ৩০ টাকা। আমাদের আশপাশের অন্য রুটগুলোতেও একই চিত্র। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে চালকদের প্রশ্ন করা হলে তারা এলপিজিসংকটের অজুহাত দেখান। ফলে আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।’

মো. ইব্রাহিম নামে আরেক যাত্রী বলেন, ‘এলপিজিসংকটের অজুহাতে প্রতিটি রুটে চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। প্রতিবাদ করলে তারা বলছেন, এলপিজি নেই তাই অকটেন দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন। অকটেনের দাম বেশি তাই ভাড়াও বেশি নিচ্ছেন। এমন অবস্থা প্রায় এক মাস ধরে। ভোটের আমেজে এলপিজিসংকটের বিষয়টি একপ্রকার চাপা পড়েছে। এ বিষয়ে কাউকে কথা বলতে দেখছি না।’

সাতকানিয়ার বড়দুয়ারা এলপিজি ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি মোহাম্মদ মিজান বলেন, ‘এক মাস ধরে আমাদের ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে। সরবরাহ না থাকার কারণে এলপিজিসংকট চরম আকার ধারণ করেছে। তারপরও চালকদের কথা মাথায় রেখে চট্টগ্রাম নগরীর ওমেরা এলপিজির অফিসে কথা বলতে এসেছি। এলপিজি সরবরাহ কখন স্বাভাবিক হবে এটা কেউ বলতে পারছে না।’

চালকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে ফোন রেখে দেন।