নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বের হওয়া নিষিদ্ধ করল ইসি

Passenger Voice    |    ০৬:৩৮ পিএম, ২০২৬-০২-০৫


নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বের হওয়া নিষিদ্ধ করল ইসি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের বাইরে আসা সম্পূর্ণ স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থেকেই এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নাশকতার আশঙ্কা ও গোয়েন্দা তথ্য

ইসি সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেজনক গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। নির্বাচনের সময় কোনো বিশেষ পক্ষ যাতে রোহিঙ্গাদের ভোটকেন্দ্রে লোকবল হিসেবে ব্যবহার, জাল ভোট প্রদান কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলা চালাতে না পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি চেকপোস্টে পরিচয় যাচাই ও তল্লাশি জোরদার করতে বলা হয়েছে।

চিহ্নিত ঝুঁকিগুলো

নির্বাচন কমিশনের পর্যালোচনায় রোহিঙ্গাদের ঘিরে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ঝুঁকির কথা উঠে এসেছে:

প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় রোহিঙ্গাদের অবৈধ অংশগ্রহণ।

অর্থের বিনিময়ে জাল ভোট প্রদান ও কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি।

সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ (যেমন: RCPR, Ro-FDMN RC) ব্যবহার করে উসকানিমূলক বার্তা প্রচার।

আরসা (ARSA), আরএসও (RSO) বা আরাকান আর্মির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা।

ইসির একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চার দফা বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:

১. চলাচলে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা: নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন কোনো রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে যেতে পারবে না। ক্যাম্পের ভেতরে সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

২. বাজার ও এনজিও নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত জনসমাগম এড়াতে বালুখালী, লেদা ও নয়াপাড়ার মতো ক্যাম্পসংলগ্ন বড় বাজারগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এছাড়া এনজিও কর্মীদের ক্যাম্প পরিদর্শনও সীমিত করা হয়েছে।

৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ: ক্যাম্পের ভেতর সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। মসজিদের ইমাম ও মাঝিদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে।

৪. যৌথ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত: অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ক্যাম্পে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। তাৎক্ষণিক বিচার নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) মোতায়েন থাকবে।

নির্বাচনী প্রস্তুতি ও জনবল

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫০ জন সদস্য মোতায়েন থাকছেন। এছাড়া প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে দেশের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৩৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে বর্তমানে বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।