শিরোনাম
Passenger Voice | ০২:৫৫ পিএম, ২০২৬-০২-০৩
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা ইস্যুতে শ্রমিক-কর্মচারীদের টানা কর্মবিরতি চলছে। ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের ফলে থমকে আছে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কাজ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এর ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
এদিকে, শ্রমিকেরা তিন দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো— এনসিটি জেটি বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া যাবে না, বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং আন্দোলন ঘিরে সব বদলির আদেশ বাতিল করতে হবে।
এর আগে, গত শনিবার থেকে টানা তিন দিন ৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়া কিংবা আলোচনার কোনো উদ্যোগ না আসায় নতুন করে মঙ্গলবার থেকে সর্বাত্মক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
কর্মবিরতির প্রভাবে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও সাধারণ পণ্য ওঠানামার সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এনসিটি, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থসহ সব টার্মিনালেই কাজ বন্ধ থাকায় বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
এর আগে, সকালে বন্দর শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে মিছিলটি বন্দর অভিমুখে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় বদলি হওয়া ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মসূচির সময়সীমা ৮ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ২৪ ঘণ্টা করা হয়েছে।
স্কপের যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল জানান, কর্মবিরতির কারণে বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ, সিসিটি, এনসিটি ও কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করছে।
এদিকে, বন্দরের অভ্যন্তরে কনটেইনারবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকায় আমদানি-রপ্তানিকারকদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএর সহসভাপতি সেলিমুর রহমান। তিনি বলেন, পণ্য ওঠানামা বন্ধ থাকায় চার দিন ধরে জেটিতে জাহাজগুলো অপেক্ষায় রয়েছে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়ছে এবং রপ্তানি শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএ নেতা ইব্রাহিম খোকন বলেন, শান্তিপূর্ণভাবেই আমাদের কর্মসূচি চলছে। চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক টার্মিনাল এনসিটিকে কোনোভাবেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হবে না।
আন্দোলনকারীরা এনসিটি ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে’ বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ তুলে বন্দর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত