তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের বিবাহবার্ষিকী আজ

Passenger Voice    |    ০১:৫২ পিএম, ২০২৬-০২-০৩


তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের বিবাহবার্ষিকী আজ

আজ ৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার। তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের ৩২তম বিবাহবার্ষিকী। ১৯৯৪ সালে আজকের দিনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর একসাথে নানা সংগ্রাম পেরিয়ে ৩২ বসন্ত অতিবাহিত করেছেন তারা।

জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে। তার জন্ম ১৯৭২ সালের ১৮ জুন। তিনি সাবেক নৌবাহিনী প্রধান এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের মেয়ে।

এছাড়াও জুবাইদা রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীর ভাতিজি এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আইরিন খানের চাচাতো বোন।

জিয়া পরিবারের সদস্য ছাড়াও তিনি নিজেকে একজন 'মেরিটোক্র্যাট' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতার অন্যতম কারণ- তার উচ্চশিক্ষা এবং একজন সফল চিকিৎসক হিসেবে তার ব্যক্তিগত ইমেজ। এজন্যেই তিনি আলাদা।

জুবাইদা রহমানের বাবা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশের নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকারে তিনি যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানী জুবাইদা রহমানের কাকা।

জুবাইদা রহমান ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। তিনি কে-৪৭ (K-47) ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে ১৯৯৫ সালে সফলভাবে এমবিবিএস (MBBS) ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে ২১তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে মেধা তালিকায় প্রথমস্থান অর্জন করে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালে তারেক রহমানের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার পর, জুবাইদা রহমান সেখানে নিজের উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যান। তিনি ২০০৯-১০ সেশনে লন্ডনের বিশ্বখ্যাত ইম্পেরিয়াল কলেজে (Imperial College London) কার্ডিওভাস্কুলার সায়েন্সে ভর্তি হয়ে ২০১১ সালে এমএসসি (MSc) সম্পন্ন করেন। সেখানে প্রতিযোগিতামূলক কঠিন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলেন। এ অসামান্য অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে মর্যাদাপূর্ণ স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।

বলা বাহুল্য, হৃদরোগ নিয়ে তার গবেষণা ও একাডেমিক কাজগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগে বেশ প্রশংসিত এবং লন্ডনের চিকিৎসা মহলে তার একাডেমিক পরিচিতি বেশ দৃঢ়।

সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং দাতব্য চিকিৎসালয় পরিদর্শনে সক্রিয় হয়েছেন। তারেক রহমানের প্রতিষ্ঠিত 'জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন'-এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে তিনি বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতা হিসেবে ভূমিকা রাখছেন।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি সদ্যপ্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর থেকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাশে থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এবং দলকে সহযোগিতা করছেন। পেশায় ডাক্তার হলেও সম্প্রতি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার স্বতস্‌ফুর্ত অংশগ্রহণ রাজনীতিতে তার সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত তরুণ মুখ ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের একমাত্র সুযোগ্য কন্যা।