চতুর্মুখী চাপে পড়বে নতুন সরকার

Passenger Voice    |    ১২:৩৩ পিএম, ২০২৬-০২-০৩


চতুর্মুখী চাপে পড়বে নতুন সরকার

আর মাত্র আট দিন বাকি জাতীয় নির্বাচনের। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন যে সরকার গঠিত হবে, তার সামনে বহুমুখী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রেখে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে: চড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা, রাজস্ব ঘাটতি, নি¤œমুখী রফতানি আয়, ব্যাংকিং খাতের সঙ্কট, শেয়ারবাজারে ধস, বিনিয়োগ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণের দায় এবং শিল্প খাতকে চাঙা করতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। এছাড়া রয়েছে ঋণের সুদহার কমানো, ডলারের জোগান বাড়িয়ে টাকার মান ধরে রাখা, বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো, রাজস্ব আয় বাড়ানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, রফতানি বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, উন্নয়ন ও চলমান সংস্কার এগিয়ে নেয়া উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি রয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের সঙ্গে দরকষাকষির মাধ্যমে দেশের মানুষের অনুকূলে পদক্ষেপ নেয়া। যদিও আইএমএফ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নানাবিধ ব্যর্থতার কারণে ইতোমধ্যে দেশের অর্থনীতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের মতে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন-পরবর্তী নতুন সরকারের সামনে কাঠামো ও নীতিগত অনেক বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আইএমএফের ২০২৫ সালের আর্টিকেল-ফোর (সদস্য দেশ পর্যালোচনা) রিপোর্টে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, ঝুঁকির উৎস এবং দুর্বল খাতগুলোর সার্বিক চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে: সংস্কার ত্বরান্বিত না হলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ব্যাহত হবে। মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক খাতের চাপ দীর্ঘায়িত হতে পারে। আইএমএফ বলেছে, নতুন সরকারের প্রথম ১২ থেকে ১৮ মাস হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। গতকাল এক অনুষ্ঠানে খোদ অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সতর্ক করে বলেছেন, নতুন যে সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসবে, অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে তাদেরকে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরেই অর্থনীতিতে মন্দা চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারও অর্থনীতিকে চাঙা করতে পারেনি। নতুন সরকারকে অর্থনৈতিকভাবে মানুষকে স্বস্তি দেয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে। এ জন্য বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। শিল্প খাতকে চাঙা করতে হবে। মূল্যস্ফীতি কমাতে হবে। পণ্যমূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে হবে। কিন্তু দেশের চলমান অর্থনৈতিক সঙ্কট বিপাকে ফেলবে নতুন সরকারকে। শুধু আর্থিক খাতের উন্নয়নই নয়; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এগুলোই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা বসবে নতুন সরকার। দেশি-বিদেশি সবাই এখন নতুন সরকারের দিকে তাকিয়ে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন সরকার কেমন নীতি গ্রহণ করে এবং দেশের অর্থনীতিকে তারা কিভাবে এগিয়ে নিতে চায়: সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশের অর্থনীতিকে টেনে নিতে যা দরকার তার কিছুই রেখে যাচ্ছে না বর্তমান সরকার। আগামী দিনে দেশের অর্থনীতিকে পুরোপুরি বিপাকে রেখে যাচ্ছে সরকার। চলমান অর্থ সঙ্কটের পাশাপাশি আগামী সরকারের কাছে সরকার নানা বকেয়া রেখে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুপারিশকৃত দ্বিগুণ বেতনের বোঝা এবং স্বৈরাচার হাসিনার আদানি-সামিট-এস আলম গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের অসম চুক্তির ঘানি টানা। বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত প্রায় পৌনে চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতনের চাপ এবং অন্তর্বর্তী সরকার শেষ সময়ে দেদার নিয়োগ প্রদান করছে: তাদের বেতনের চাপ। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে নতুন ৮৫৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যাপারে গ্রিন সিগন্যাল দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প চলতি অর্থবছরে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) সবুজ পাতায় বরাদ্দ ছাড়াই অনুমোদনহীন এসব প্রকল্পকে যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিলে বাস্তবায়নের জন্য ৬৬৮টি, বৈদেশিক ঋণে ১৫৬টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প ৩২টি। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ ১৯ হাজার ৮৭২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলে সাত লাখ ৩৬ হাজার ৮২৫ কোটি এবং বৈদেশিক ঋণে প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। নির্বাচিত সরকারের ওপর প্রকল্পগুলো অনুমোদনের চাপ সৃষ্টি করবে। শুধু প্রকল্প ব্যয়ই নয়; অর্থ সঙ্কটে সরকার এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকে (এডিবি) কর্মরতদের বেতন গত চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। অন্যান্য দাতা সংস্থায় কর্মরতদের বেতনও কয়েক মাস ধরে বন্ধ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রাথমিক হিসাব মতে, বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণের দায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেশি। অবশ্য এই হিসাব শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ঋণ ও বাজেট সহায়তার ঋণকে অন্তর্ভুক্ত করে। সরকারের গ্যারান্টি দেয়া ঋণ এতে ধরা হয়নি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ থেকে নেয়া ঋণও এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত নয়।

একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতের শত শত প্রকল্পের বকেয়া হাজার হাজার কোটি টাকার বিল না পাওয়ায় ঠিকাদাররা চলমান হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ খোঁড়াখুঁড়ি করে রেখে দিয়েছে। শুধু স্থানীয় সরকারই নয়, সড়ক ও জনপথ, স্বাস্থ্যসহ সব কাজেরও বড় বড় বিল বকেয়া রয়েছে। বকেয়া না পাওয়ায় কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে বেড়েছে নাগরিক ভোগান্তি। পাশাপাশি নতুন সরকারকে দায়িত্ব নিয়েই এগুলোর সামাধান করতে হবে, ফলে চতুর্মুখী চাপে পড়তে যাচ্ছে নতুন নির্বাচিত সরকার। অপরদিকে, নির্বাচনের পরপরই রমজান শুরু হচ্ছে। রমজানে দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানাসহ বাড়তি চাহিদার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাস সরবরাহ করতে গিয়ে বিপাকে পড়বে সরকার। যা দেশের আগামী অর্থনীতির জন্যও অশনি সঙ্কেত। অবশ্য অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর চাপে পড়ার সঙ্গে যোগ হয়েছে বিনিয়োগ। অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বিনিয়োগ প্রবাহেও কোনো সু-খবর নেই। বর্তমানে নতুন ব্যবসা বা প্রকল্প শুরু কিংবা বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন না। আর তাই গত এক থেকে দেড় বছরে প্রায় প্রতিটি সূচকের অবস্থান দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়েছে। সব মিলিয়ে অর্থসঙ্কটে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এখন হুমকির মুখে। এছাড়া দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অবস্থা নাজুক।

এদিকে নির্বাচন এলেই রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সামনে প্রতিশ্রুতির ফিরিস্তি তুলে ধরে। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনও এর ব্যতিক্রম নয়। বিএনপি-জামায়াতসহ এই দুই জোটের কাণ্ডারীসহ অন্যরাও নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছে। কিন্তু দেশের চলমান অর্থসঙ্কট এবং আগামী সরকারের কাছে চাপানো দায় মিটিয়ে এসব প্রতিশ্রুতির কতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব হবে: সে প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দলগুলো ভোট টানতে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

সূত্র মতে, একটি দেশের চালিকাশক্তি হলো অর্থনীতি। অর্থনীতি না বাঁচলে দেশ বাঁচে না। কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ না হলে মানুষ ভালো থাকতে পারে না। কোনো সরকারই মানুষের এই সামান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেনি। জনগণ আশাহত হয়েছে। এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নতুন সরকারের কাছে তাই মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। কিন্তু নির্বাচনের পর নতুন সরকারের ওপর অর্থনৈতিক দৈন্যদশার নানা চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বাধ্যবাধকতা না থাকলেও এক ধরনের চাপ তৈরি হবে। তা পূরণের রশদ থাকছে না নতুন সরকারের কাছে।

সূত্র মতে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন মূলত শুরু হয়েছিল তরুণ প্রজন্মের বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে। যার রেশে একপর্যায়ে স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতন।

আশা করা হয়েছিল, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিকে চাঙা করে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোরালো পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু সরকার কোনো পদক্ষেপই নিতে পারেনি। বিনিয়োগ সম্মেলন, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েও কোনো সাফল্য আসেনি। উল্টো চলমান কারখানাগুলো সচল রাখতে সরকারের অসহযোগিতার অভিযোগে করেছেন উদ্যোক্তারা। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, গ্যাস-বিদ্যুতের সঙ্কটের কারণে চালু কারখানা বন্ধের নজিরও রয়েছে। এছাড়া প্রায় তিন হাজার ব্যবসায়ীর ব্যাংক হিসাব বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতায় ছোট ছোট ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর মইনুল ইসলাম বলেন, নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিনিয়োগ বাড়ানো, জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে গতি আনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটুকু উন্নয়ন ঘটাতে পারে, সেটি দেখার বিষয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করছে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনীতিকে চাঙা করার বিষয়টি। উদ্যোক্তাদের মনে আস্থার সঞ্চার করতে হবে।

এদিকে ফেব্রুয়ারির মধ্যভাগে দায়িত্ব নিচ্ছে নতুন সরকার। ফলে তারা অর্থনীতির ক্ষেত্রে ‘সুখকর’ কোনো পরিস্থিতি পাচ্ছে না। প্রথমেই আসবে মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণ। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে গত বছরের মে পর্যন্ত এ হার ছিল ৯ শতাংশের ওপরে। নির্বাচনের কারণে অনুৎপাদনশীল খাতে টাকার প্রবাহ বাড়ার কারণে বর্তমানে এ হার আরো বাড়তে পারে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন, মার্চে রোজা ও ঈদের বাড়তি চাহিদার কারণেও মূল্যস্ফীতির হার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নতুন সরকারের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। পাশাপাশি রফতানি আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বর্তমানে টানা ছয় মাস রফতানি আয় নি¤œমুখী। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এ খাতকে চাঙা করাটাও নতুন সরকারের কাছে একটি চ্যালেঞ্জ। এ জন্য কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুতের জোগান বাড়াতে হবে।

এদিকে কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বর্তমান সরকার গত দেড় বছরে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। এটি নতুন সরকারকে করতে হবে। এ জন্য দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুতের নিশ্চয়তা, ঋণের সুদের হার কমানো, ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের সক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপ জরুরি। যাতে তারা বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়।

উদ্যোক্তারা বলেছেন, কর্মসংস্থানে চলছে মন্দা। শিল্প খাত ধুঁকছে। সুদের হার কমলে বিনিয়োগ বাড়বে। এতে কর্মসংস্থান বেড়ে ভোক্তার আয় বৃদ্ধি পাবে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ ভোক্তা সহ্য করতে পারবে বাড়তি আয় দিয়ে। আর বাজারে সিন্ডিকেটের থাবা নিয়ন্ত্রণ করলে পণ্যের দামও সহনীয় থেকে মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে।

আগামীতে নতুন সরকারের জন্য একটি অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। বিগত সরকারের সময়ে লুটপাটের অর্থ এখন খেলাপি হচ্ছে। খেলাপি বেড়ে ছয় লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকায় ছাড়িয়েছে। বাড়তি খেলাপির কারণে ব্যাংক খাতের সব সূচক নি¤œমুখী। খেলাপির চাপ কমানো হবে বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা না রাখলে ব্যাংক খাত আবার সঙ্কটে পড়বে।

করোনার সময় থেকে রাজস্ব আয়ে মন্দা চলছে। টাকা ছাপিয়ে ওই সরকার ব্যয় নির্বাহ করেছে। ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে লাগামহীন গতিতে। বর্তমান সরকারের আমলে এ খাতে ঘাটতি আরো বেড়েছে। তবে তারা টাকা ছাপায়নি; বরং আওয়ামী লীগের সময়ে ছাপানো টাকা বাজার থেকে তুলে নিচ্ছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়বে। অথচ সরকারের ব্যয় বাড়বে। কারণ সরকারি কর্মীদের নতুন পে-স্কেল দিতে হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অর্থ ছাড় করতে হবে। এ বাড়তি খরচ মেটাতে বর্ধিত হারে রাজস্ব আহরণ সম্ভব না হলে সরকারকে ঋণ করতে হবে। ব্যাংকের অবস্থাও ভালো নয়। ফলে ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি খাত চাহিদা অনুযায়ী ঋণ পাবে না। তখন সরকার যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপানো শুরু করে, তাহলে অর্থনীতির আবার সর্বনাশ হয়ে যাবে।