শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:০১ এএম, ২০২৬-০২-০৩
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষের হাতে নগদ অর্থের প্রবাহ বেড়েছে। প্রবাসীরাও বেশি বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ব্যাংক থেকে মানুষের হাতে নগদ অর্থের প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। এদিকে অস্বাভাবিক লেনদেন এড়াতে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে অর্থাৎ বিকাশ, রকেট ও নগদে লেনদেনের সীমা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন উপলক্ষে প্রচার কার্যক্রম এখন তুঙ্গে। সারা দেশে চলছে নির্বাচনি ডামাডোল। শহর-নগর ছাড়িয়ে প্রচারকাজ জমে উঠেছে গ্রামগঞ্জে। এবারের নির্বাচনে টাকার ছড়াছড়ি হচ্ছে বেশ ভালোই। পোস্টার, ব্যানার, দেয়াললিখনসহ বিভিন্ন প্রচারের ব্যয় মেটাতে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের হিড়িক পড়েছে। বিশেষ করে শেষ দুই মাসে মানুষের হাতে নগদ অর্থের উত্তোলন বেড়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে ডিসেম্বর এবং জানুয়ারিতে প্রবাসীরাও অনেক বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এই দুই মাসে তারা প্রায় সাড়ে ৬০০ কোটি ডলার বা ৭৮ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রতি মাসেই রেমিট্যান্স বাড়ছে। তবে শেষ দুই মাসেই ৩ বিলিয়নের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। সেই সঙ্গে গত দুই মাসে নগদ টাকা উত্তোলনের পরিমাণও বেড়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এমনটি হচ্ছে। কারণ নির্বাচনি ব্যয় মেটাতে প্রার্থীরা ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করছেন। তবে অবৈধ বা বড় কোনো লেনদেন সন্দেহজনক হলে তা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) পর্যবেক্ষণ করছে। সন্দেহজনক লেনদেন দেখলেই ব্যাংকগুলোকে রিপোর্ট করার নির্দেশনা দেওয়া আছে।
দেশের মোট প্রচলিত মুদ্রা থেকে ব্যাংকে জমা টাকা বাদ দিয়ে প্রতি মাসে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে দেখা যায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই মাসের ব্যবধানে ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকা বেড়েছে ৪০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা।
গত বছরের জুলাই থেকে ব্যাংকের বাইরে মানুষের হাতে নগদ টাকা কমতে শুরু করে। এই ধারাবাহিকতা নভেম্বর পর্যন্ত বজায় ছিল। তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা, আগস্টে কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা, সেপ্টেম্বরে কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা এবং অক্টোবরে কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, প্রতি নির্বাচনের আগেই মানুষের হাতে নগদ টাকা বাড়ে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কারণ প্রার্থীরা তাদের ব্যয় মেটাতে নগদ লেনদেন করে থাকেন। তবে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক লেনদেন হচ্ছে কি না, সেটি তদারকি করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে গত ১১ জানুয়ারি থেকে নগদ অর্থ জমা বা উত্তোলনে তদারকি জোরদার করেছে বিএফআইইউ। সংস্থাটির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো একটি হিসাবে কোনো নির্দিষ্ট দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বা তদূর্ধ্ব অর্থ কিংবা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা জমা বা উত্তোলনের (অনলাইন, এটিএমসহ যেকোনো ধরনের নগদ লেনদেন) ক্ষেত্রে বিএফআইইউর কাছে প্রতিবেদন (সিটিআর) অবশ্যই জমা দিতে হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবেদন সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জমা দিতে হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে সিটিআর দাখিলে ব্যর্থতা কিংবা ভুল, অসম্পূর্ণ বা মিথ্যা তথ্য বা বিবরণী সরবরাহ করলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে যাতে টাকার ব্যবহার না করা যায়, এ জন্য আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এই পরিকল্পনা করছে, যা কার্যকর করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে বিকাশ, রকেট, নগদসহ মোবাইল ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকরা দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন। প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে এক হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্যাংকিং চ্যানেলে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির হিসাবে টাকা স্থানান্তর সেবা বন্ধ রাখা হবে। ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সীমিতকরণ অব্যাহত থাকবে। দুই-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করবে। টাকার লেনদেনের সীমা কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
প্যা.ভ.ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত