শিরোনাম
চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি
Passenger Voice | ১১:২৬ এএম, ২০২৬-০২-০২
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি কনসেশন চুক্তি নিয়ে দর-কষাকষি চলছে। ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই দর-কষাকষি চূড়ান্ত হলেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষে কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তি হওয়ার কথা। সই হওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই চুক্তির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
কর্মবিরতি কর্মসূচির কারণে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো প্রায় আট ঘণ্টা অচলাবস্থা ছিল বন্দরে। কর্মসূচির কারণে আট ঘণ্টা বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ বা জিসিবিতে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এ ছাড়া চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালেও কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
ইজারাপ্রক্রিয়া বাতিল এবং কর্মচারীদের বদলির প্রতিবাদে আজ সোমবার আবারও সকাল আটটা থেকে আট ঘণ্টা কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারীরা। তবে এবার বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের পরিবর্তে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের’ ব্যানারে এই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন তাঁরা।
এ নিয়ে টানা দুই দিন ৮ ঘণ্টা করে ১৬ ঘণ্টা কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। গতকাল বিকেল চারটার দিকে কর্মবিরতি কর্মসূচি শেষ হলে বন্দরে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানো এবং খালাসের কার্যক্রম শুরু হয়।
এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়াও শুরু করেছে। গতকাল পৃথক দুটি আদেশে ১২ কর্মচারীকে ঢাকার কেরানীগঞ্জে পানগাঁও নৌ টার্মিনাল ও কমলাপুর কনটেইনার ডিপোতে বদলি করা হয়েছে। এ নিয়ে শনি ও রোববার—দুই দিনে ১৬ কর্মচারীকে বদলি করা হলো। তবে বদলির আদেশে জরুরি দাপ্তরিক ও অপারেশনাল কাজে তাঁদের বদলি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। যদিও আন্দোলনকারীরা বলছেন, আন্দোলন নস্যাৎ করতে এই বদলি করছে কর্তৃপক্ষ।
ইজারাপ্রক্রিয়া বাতিল এবং কর্মচারীদের বদলির প্রতিবাদে আজ সোমবার আবারও সকাল আটটা থেকে আট ঘণ্টা কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারীরা। তবে এবার বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের পরিবর্তে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের’ ব্যানারে এই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন তাঁরা। বিএনপিপন্থী শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর এই সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হিসেবে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা জানান।
এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়াও শুরু করেছে। গতকাল পৃথক দুটি আদেশে ১২ কর্মচারীকে ঢাকার কেরানীগঞ্জে পানগাঁও নৌ টার্মিনাল ও কমলাপুর কনটেইনার ডিপোতে বদলি করা হয়েছে। এ নিয়ে শনি ও রোববার—দুই দিনে ১৬ কর্মচারীকে বদলি করা হলো।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর দেশীয় সংবাদ মাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আন্দোলন করার কারণে বন্দর কর্তৃপক্ষ একের পর এক কর্মচারীদের বদলি করছে। ইজারাপ্রক্রিয়া বাতিল এবং বদলির বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। প্রতিবাদে আজ সোমবারও কর্মবিরতি চলবে।’
চট্টগ্রাম বন্দরের বৃহৎ এই টার্মিনাল নির্মিত হয় ২০০৭ সালে। টার্মিনালটি নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সংযোজনে বন্দর কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে মোট ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কনটেইনারের সিংহভাগ এই টার্মিনাল দিয়ে পরিবহন হয়। বর্তমানে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার আগ পর্যন্ত চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেডের এই টার্মিনাল পরিচালনা করার কথা রয়েছে।
ঢাকায়ও প্রতিবাদ
নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার উদ্যোগকে দেশের স্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে ‘স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি’ নামের একটি সংগঠন। গতকাল বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে দেশি-বিদেশি একটি সিন্ডিকেটের স্বার্থ কাজ করছে।
নেতারা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকদের আন্দোলন দমনে প্রশাসনিক চাপ, বদলি ও নানা হয়রানি করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ জিয়াউল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক মুহিউদ্দিন রাহাত ও দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।
বর্তমানে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার আগ পর্যন্ত চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেডের এই টার্মিনাল পরিচালনা করার কথা রয়েছে।
চলমান বিষয় নিয়ে বন্দরের বক্তব্য
গতকাল দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। নিউমুরিং টার্মিনালের চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই (চুক্তি) কার্যক্রমটি সরকারের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটির (পিপিপিএ) মাধ্যমে পিপিপি নির্দেশিকা অনুসরণ করে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষর-সংক্রান্ত কোনো খবর নেই। চুক্তি স্বাক্ষরের আগে আন্দোলন ও কর্মসূচি শুরু করা ঠিক নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মবিরতির কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব পড়ছে।
কর্মচারীদের বদলি প্রসঙ্গে ওমর ফারুক বলেন, এটি জরুরি দাপ্তরিক প্রয়োজনের জন্য নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে করা হয়েছে।
প্যা.ভ.ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত