বাণিজ্য চুক্তির কারণে ৯ ফেব্রুয়ারি কমতে পারে শুল্কহার

Passenger Voice    |    ১০:৫০ এএম, ২০২৬-০২-০২


বাণিজ্য চুক্তির কারণে ৯ ফেব্রুয়ারি কমতে পারে শুল্কহার

আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্কহার নিয়ে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আলোচনার জন্য সময় পেয়েছে। এ ব্যাপারে চুক্তির খসড়া এবং এই তারিখেই সই করার জন্য একটি অনুমোদন চেয়ে আমরা সার-সংক্ষেপ পাঠিয়েছি। এটা এলে পরে আমরা চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের পণ্যের ওপর প্রথমে ৩৭ শতাংশ এবং পরে ৩৫ শতাংশ ‘পাল্টা শুল্ক’ ঘোষণা করে আলোচনার সুযোগ রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফার আলোচনা শেষে গত ৩১ জুলাই পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। তবে এ জন্য দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিসহ বাংলাদেশকে বেশ কিছু ছাড় দিতে হয়।

শুল্ক কত শতাংশ হতে পারে–এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ আছে। অন্যান্য দেশে একই আছে। আবার কিছু দেশে বেশি আছে। তবে আমরা আশা করছি, হয়তো আরও কিছু কমতেও পারে। সে ধরনের একটা ধারণা আছে। তবে নিশ্চিত করে বলতে পারব না, এখনো নিশ্চিত হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চুক্তির খসড়া করেছি, তবে চূড়ান্ত শুল্ক কত হবে, সেটা ৯ তারিখের আগ পর্যন্ত বলা যাবে না।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সুবিধা পেতে বাংলাদেশকেও বেশ কিছু ছাড় দিতে হচ্ছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর পাল্টা শুল্কের হার কমিয়ে ২০ শতাংশ কার্যকর করলেও দেশটির সঙ্গে কোনো চুক্তি হয়নি। পরে এই শুল্কহার আরও কমানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায় উৎপাদিত পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখে ঢাকা, যা চূড়ান্ত হয়ে চুক্তিতে পরিণত হতে যাচ্ছে।

সম্প্রতি ভারত ইউইউর সঙ্গে একটি এফটিএ চুক্তি সই করেছে। এটা নিয়ে সরকার কি উদ্বিগ্ন–এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘এখানে উদ্বেগের কিছু নেই। আমরা তৈরি পোশাক খাতে আমাদের সক্ষমতা অর্জন করেছি ৪৫ বছর ধরে এবং আমরা পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো আমাদের আছে তৈরি পোশাক খাতে। এটা আপনাকে বুঝতে হবে এখন এই সক্ষমতা আরেকজন ওভারনাইট অর্জন করে ফেলেছে–এটা আমাদের কাছে মনে হয় না।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন ভারত টেক্সটাইল ব্যবসায়ে বেশ ভালো। অনেক শক্তিশালী। সারা বিশ্বে তাদের ভালো অবস্থান আছে। আমাদের কাঁচামালের উপকরণও তাদের কাছ থেকে কেনা হয়। কাজেই এই দুই দেশ এখনো সহ-অবস্থানে আছি। যেমন, দেশটিতে উপকরণ উৎপাদন এবং তাদের সুতাও আছে। তাদের যা লাগে পুরোটাই আছে। ফলে ভারত আমাদের সঙ্গে এই ব্যাপারে প্রতিযোগী না, সহ-অবস্থানে আছে।’ 

এলডিসির পরে তো আমরা অনেক সুযোগ সুবিধা হারাব। অনেক শুল্ক আমাদের নতুন যুক্ত হবে। সে ক্ষেত্রে কি এফটিএর ক্ষেত্রে সরকার নতুন করে কিছু ভাবছে?–এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘হ্যাঁ আমরা অনেকগুলো দেশের সঙ্গে এফটিএ করছি। আমরা জাপানের সঙ্গে এফটিএর সব আলোচনা প্রায় শেষ করেছি। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে এফটিএ সই করব।’

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবারে আমাদের সাউথ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা  সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি, এই বছরের মধ্যে তাদের সঙ্গেও সই হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আমরা এফটিএর জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি এবং অন্য যেসব বাজারে আমরা এখন শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাই সবগুলোর কাছেই আমাদের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং আমরা সেখানে আলোচনা সহসাই শুরু করব।’

রমজানের প্রস্তুতির ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রমজানের বাজার নিয়ে এবং মূল্য নিত্যপণ্য এবং রমজান মাসভিত্তিক বিশেষ বিশেষ যেসব পণ্যের বাজার ওঠানামা করে সেগুলোর সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। এ বছরের অবস্থা ভালো।’

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘আমাদের বিমান কেনার ব্যাপারটা তো আলোচনায় আছে। আমাদের বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তির আগেও তাদের পরিকল্পনা ছিল। আমাদের সঙ্গে শুধু বোয়িং-ই না অন্যান্য ইয়ের সঙ্গে আলোচনা ছিল। তো সেটা মোটামুটি একটা কাঠামো পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং পারস্পরিক বাণিজ্যে ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা চলছে।’ 

তিনি বলেন, ‘বোয়িং তারা কতগুলো, কোন বছর সরবরাহ করতে পারবে, কী দাম হবে, আমাদের বোয়িং এর ভেতরে কী ধরনের যন্ত্রপাতি থাকবে–এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা আছে, সেটা চলছে।’

এখানে কি যুদ্ধবিমানও আছে–এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘যুদ্ধবিমান এই চুক্তির আওতায় কখনোই আসবে না। মিলিটারি ইস্যুটা কখনো বাণিজ্য ইস্যুতে থাকে না।’

বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘আমরা পর্যালোচনা করেছি বিশ্ব বাণিজ্যে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ঘাটতি হয়েছে। আমরা তো পৃথিবীর বাইরে না, ওই হিসেবেই আমাদের ওপরও। তবে আমাদের ৩ শতাংশ নেগেটিভ নেই। আমাদের ১ দশমিক ৬ শতাংশ আছে। তবে আমরা আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়েও আমরা একটু ভালো অবস্থায় আছি।’

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে উৎপাদিত পোশাক ওই দেশের রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যেতে পারে, চুক্তিতে এ বিষয় থাকবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় সব চুক্তিতে যেন দেশের কাছ থেকে একটা উপকরণ আনলে সেটার ওপরে সেই দেশে এক ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়। আমরা ওটা তো আশা করছি এবং ওটা যে একদম চুক্তিতে থাকতে হবে এমনো নয়। হয়তো এরকম কিছু সুবিধা সব দেশে পায় বলেই কিন্তু এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করে। না হলে করে কোনো লাভ নেই।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়ে আসছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে এরই মধ্যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় তৈরি পোশাকে দেশটিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া গেলে তা উভয়পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রপ্তানি বাড়বে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিও বাড়বে।

প্যা/ভ/ম