শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৪৪ এএম, ২০২৬-০২-০২
বন্দর শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে গত কয়েক দিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া গত এক বছরেরও বেশি সময় বন্দর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব, বিভিন্ন আন্দোলনসহ নানান কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়। এতে সংকটের মুখে পড়ে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প। এরই মধ্যে অনেক পোশাক কারখানা অর্ডার সীমিত হয়ে গেছে। কোনো কোনো কারখানা নতুন করে অর্ডার পাচ্ছে না। গত এক বছরে জেলার ১৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। অর্ডার কমেছে অন্তত ২০ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে আরও কারখানা বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পোশাক কারখানার মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কারখানায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ না হওয়া, বন্দরের শ্রমিকদের কর্মবিরতি, কনটেইনার জট, জাহাজ জেটিতে ভিড়তে দেরি হওয়া, ইয়ার্ডে ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সে ধীরগতির কারণে পণ্য খালাস ও রপ্তানি কার্যক্রম গত এক বছর ধরে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বন্দর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব এবং অপারেটর নিয়োগে সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি সংস্থাকে লিজ দেওয়ার ইস্যু নিয়ে অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পোশাক কারখানাগুলোতে। এতে কাঁচামাল সময়মতো না পৌঁছানোয় উৎপাদন ব্যাহত হয়। অন্যদিকে প্রস্তুত করা পোশাক নির্ধারিত সময়ে জাহাজে তুলতে না পারায় রপ্তানি বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা কমছে। অনেক ক্ষেত্রে অর্ডার বাতিল বা অন্য দেশে স্থানান্তরের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এমন পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় তৈরি পোশাক খাতে মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে।
পোশাকমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএর নেতারা জানান, পোশাক ডেলিভারি বিলম্বের কারণে কারখানাগুলোকে অতিরিক্ত ডেমারেজ ও পরিবহন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল এয়ার শিপমেন্ট বেছে নিচ্ছেন, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় এ শিল্পের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। কিছু কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ও আন্দোলন হচ্ছে।
পোশাক কারখানার মালিকদের মতে, তৈরি পোশাক খাত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস। এই খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে রপ্তানি আয় কমবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়বে। সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, ‘বন্দরের অচলাবস্থা শুধু বন্দরের সমস্যা নয়, এটি দেশের অর্থনীতির জন্য সংকট। শুধু পোশাক খাত নয়, এ বন্দরের ওপর পুরো বাংলাদেশ নির্ভর করে। বন্দর সমস্যার দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পোশাকশিল্পসহ সামগ্রিক রপ্তানি খাত দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।’
নগরীর দেওয়ানহাটের ডেলমাস নামে একটি পোশাক কারখানার মালিক মোহাম্মদ হোসেন বলেছেন, ‘বন্দরে পোশাক কারখানার কাঁচামাল আটকে যাচ্ছে। সুতা, কাপড়, এক্সেসরিজ সময়মতো খালাস না হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শিপমেন্ট দেরিতে হচ্ছে বা তৈরি পোশাক জাহাজে তুলতে দেরি হচ্ছে। ক্রেতার ডেলিভারি মিস হচ্ছে। আবার বন্দরের ডেমারেজ, কনটেইনার ভাড়া, বিকল্প এয়ার শিপমেন্ট–সব মিলিয়ে এই খাতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এসবের দায়ভার এসে পড়ছে পোশাকশিল্পের মালিকের ওপর। অর্ডার না থাকায় আমার নিজের কারখানাও আগামীতে বন্ধ রাখতে হবে।’
একজন পোশাক কারখানার মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অর্ডার না থাকায় চালু কারখানা হঠাৎ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। এতে কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়েছেন। অন্তর্বর্তী এ সরকারও জরুরিভিত্তিতে তৈরি পোশাক কারখানা রক্ষায় উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’
বিজিএমইএ পরিচালক ও ক্লিপটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বৈশ্বিক মন্দার কারণে নতুন অর্ডার কমেছে। এর মধ্যে যুক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা। ফলে পোশাক কারখানাগুলোর মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বন্দরে রপ্তানি পণ্যের জট সৃষ্টি হচ্ছে। ঠিক মতো জাহাজে পণ্য তুলতে না পারায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না। এ সংকট নিরসন খুবই জরুরি।’
প্রসঙ্গত, গত শনিবার থেকে কর্মবিরতি পালন করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকরা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তারা বন্দর ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন। কর্মবিরতির সঙ্গে সোমবার কালো পতাকা মিছিল ও বিক্ষোভ করার ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিকরা।
প্যা/ভ/ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত