শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:৫০ পিএম, ২০২৬-০১-৩০
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) বিভক্ত করে পৃথক রেগুলেটর ও অপারেটর সংস্থা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে গত বুধবার পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে বেবিচককে এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানানো হয়।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল পাঠানো এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, বেবিচক যুগপৎভাবে দুটি ভূমিকা পালন করে আসছে। একদিকে বেবিচক রেগুলেটর হিসেবে বিমান চলাচলে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রদান কার্যক্রম তদারক করে। অন্যদিকে অপারেটর হিসেবে এয়ার নেভিগেশন পরিষেবা প্রদান ও বিমানবন্দরগুলো পরিচালনা করে। ফলে রেগুলেটর হিসেবে অপারেটরের কাজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়।
তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত অডিটে বেবিচকের রেগুলেটর ও অপারেটর সত্তা পৃথক্করণের প্রয়োজনীয়তার উল্লেখ ছিল। এছাড়া ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনেও বেবিচকের অপারেটর ও রেগুলেটর সত্তা পৃথক্করণের সুপারিশ ছিল। এ প্রয়োজনীয়তা পূরণের লক্ষ্যে সরকার বেবিচককে বিভক্ত করে পৃথক রেগুলেটর ও অপারেটর সংস্থা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অতি সত্বর প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি প্রণয়ন ও সংশোধনের মাধ্যমে এয়ার নেভিগেশন পরিষেবা প্রদানসহ বিমানবন্দরগুলো পরিচালনার জন্য পৃথক অপারেটর সংস্থা গঠন হবে উল্লেখ করে তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, এ সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পরিপূরণ ছাড়াও বেসামরিক বিমান পরিচালনা-সংক্রান্ত পরিষেবার মানোন্নয়ন ঘটবে।
বেসামরিক বিমান চলাচল বিভাগ (ডিসিএ) ও এয়ারপোর্টস ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (এডিএ) নামের দুটি সংস্থা এক করে ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ গঠন হয়। সংস্থাটি বাংলাদেশে বেসামরিক বিমান চালনা কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ; নিরাপদ, দক্ষ, পর্যাপ্ত, সাশ্রয়ী ও যথাযথভাবে সমন্বিত বেসামরিক বিমান পরিবহন সেবা প্রদানের নিমিত্ত অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সরকারের অনুমোদন গ্রহণ করে আছে।
এর বাইরে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটি-সম্পর্কিত বিষয়, আকাশপথে উড়োজাহাজ চলাচলের সেবা প্রদান-সম্পর্কিত বিষয়, বাংলাদেশে নিবন্ধিত সব বিমানে বিমান চালনাবিদ্যা ও উড্ডয়ন পরিদর্শন সেবা প্রদান, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম সেবা প্রদান, সব বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটিতে বিমান বিধ্বস্ত, বিমানে অগ্নিকাণ্ড প্রয়োজনে উদ্ধার কার্যক্রমে সেবা প্রদান, বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটির সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত