শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:১৬ এএম, ২০২৬-০১-৩০
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঘোষণার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, আগামী সপ্তাহে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের আপত্তির মুখে নির্ধারিত সময়ে মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথা অনুযায়ী, মুদ্রানীতি ঘোষণার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে তা অনুমোদন করতে হয়। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় মুদ্রানীতি উত্থাপন করা হলে বেশ কয়েকজন পরিচালক অপরিবর্তিত নীতি-সুদহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নীতি-সুদহার ১০ শতাংশে রয়েছে। কিন্তু তাতেও কাঙ্ক্ষিত হারে কমছে না মূল্যস্ফীতি। তবে নীতি-সুদহারের প্রভাবে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের। এতে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। ফলে বিনিয়োগে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত।
এমন অবস্থায়, তারা নীতি-সুদহার কিছুটা কমানো যায় কি না, সেই বিষয়টি বিবেচনার তাগিদ দেন। কিন্তু গভর্নর বলেছেন, এখনই নীতি-সুদহার কমানোর সময় আসেনি। উচ্চ নীতি-সুদহারের প্রভাবে মূল্যস্ফীতির ধারা নিম্নমুখী রয়েছে। আগামী মাসে সেটা আরও কিছুটা কম হতে পারে। এমন অবস্থায় মুদ্রানীতিতে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। মূলত এই কারণেই মুদ্রানীতির ঘোষণা পেছানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে উপস্থিত একজন পরিচালক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে সঠিক মুদ্রানীতি প্রণয়নের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়িয়ে বাজারে টাকার সরবরাহ কমানোর নীতি গ্রহণ করেছে। এতে মূল্যস্ফীতি কমছে, তবে ধীরগতিতে। ধীরগতিতে কমার কারণ সুস্পষ্টভাবে মুদ্রানীতিতে ব্যাখ্যা করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ে মুদ্রানীতি না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, পরিচালনা পর্ষদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে গিয়ে একটু বেশি সময় লাগছে। এ জন্যই আগামী সপ্তাহে মুদ্রানীতি ঘোষণা করার কথা বলা হয়েছে। তবে অপর একজন কর্মকর্তা বলেন, আগামী সপ্তাহে জানুয়ারি মাসের মূল্যস্ফীতি প্রকাশিত হবে। সেই মূল্যস্ফীতির হার যদি নিম্নমুখী হয়, তাহলে নীতি-সুদহার কিছুটা কমানোও হতে পারে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএসএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নভেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।
এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত হারে কমেনি, তবে প্রভাব যে একেবারে পড়েনি তা নয়। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ১১ দশমিক ৫ থেকে ৮ শতাংশের আশপাশে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি প্রণয়নের পরিপ্রেক্ষিতেই কয়েকবার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। না হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ আছে। এর মধ্যে প্রধান হলো সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি, উৎপাদন সমস্যা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। বাজার ব্যবস্থাপনার অকার্যকারিতা অনেক সময় মুদ্রানীতির প্রভাবকে সীমিত করে দেয়। এই ‘নন-ইকোনমিক ফ্যাক্টর’ বা অর্থনীতিবহির্ভূত বিষয়গুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা।
তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম উপায় হচ্ছে নীতি-সুদহার বাড়িয়ে বাজারে অর্থের সরবরাহ কমানো। সেই কাজটিই করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে আবার ঋণের সুদহারও অনেক বেড়ে গেছে। যার প্রভাবে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এমন বাস্তবতায় আমার মনে হয়, এবারের মুদ্রানীতিতে নীতি-সুদহার বা রেপো রেট আর বাড়ানো হবে না। তবে কমানোরও কোনো সুযোগ নেই। ফলে নীতি-সুদহার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা বেশি। সূত্র খবরের কাগজ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত