শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:১৪ এএম, ২০২৬-০১-২৮
জয়পুরহাট জেলা শহরের ফোর লেনের প্রধান সড়কের বিভাজক বা ডিভাইডার জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনী ফেস্টুন। নিজেদের জনমত তৈরি ও ভোটারদের আকর্ষণ বাড়াতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় নেমে এসব ফেস্টুন সাঁটিয়েছেন বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা। এতে নির্বাচনী আচরণবিধির প্রকাশ্য লঙ্ঘন করা হলেও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে ফোর লেন সড়ক বিভাজকের পূর্ব দিকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনের বিএনপির দলীয় প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান ও জামায়াতের দলীয় প্রার্থী ফজলুর রহমান সাঈদের ফেস্টুন আড়াআড়ি ভাবে দেওয়া হয়েছে। এসব ফেস্টুনে খুঁটি দিয়ে সড়ক বিভাজকের মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছে। ফেস্টুনগুলোতে নির্বাচনী এলাকা উল্লেখ করে প্রার্থীদের দলীয় প্রতীক, ছবি ও নাম লেখা রয়েছে।
নির্বাচন বিধিমালার তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালার ‘বিধি ৭’ এ লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড ব্যবহার নিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ‘বিধি ৭(ক)’ তে বলা আছে, কোনো প্রার্থী কিংবা তাহার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় অবস্থিত কোনো দালান, দেওয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনাসমূহে এবং বাস, ট্রাক, ট্রেন, স্টিমার, লঞ্চ, রিকশা, অটোরিকশা, লেগুনা, ট্যাক্সি, বেবিট্যাক্সি বা অন্য কোনো যানবাহনে কোনো প্রকার লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন সাঁটাইতে পারবে না। একই বিধিমালার ‘বিধি ২ (গ)’ তে দেওয়াল-এর অর্থ অনুযায়ী সড়ক বিভাজক, সড়কের উপরিভাগকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ সড়ক বিভাজকে ফেস্টুন দিয়ে প্রচারণা চালানো যাবে না।
প্রধান সড়ক বিভাজকে এমনভাবে ফেস্টুন দেওয়ায় ইতোমধ্যে ফেসবুকের কয়েকটি গ্রুপে সমালোচনা করে পোস্ট করা হয়েছে। ৬০ হাজার সদস্যের ‘জয়পুরহাট জেলা’ নামের গ্রুপে আলী আহসান মোজাহিদ নামের একজন দুটি ছবি যোগ করে লিখেছেন ‘ডিভাইডারের সঠিক ব্যবহার’। একই গ্রুপে এম হাসান নামের একজন লিখেছেন ‘রোড ডিভাইডার-ভোট ডিভাইডার’। ৬১ হাজার সদস্যের ‘জয়পুরহাট-৫৯০০ গ্রুপ’ এ মারুফ চৌধুরী নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন ‘ভাই রোডের ডিভাইডার না ভোটের প্রচারের খাম্বা’। এসব পোস্টগুলোতে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। কেউ মন্তব্য করেছেন ‘ভোটের এই কয়দিন এসব চলবেই এটিই ভোটের সৌন্দর্য’ আবার কেউ মন্তব্য করেছেন ‘খুব দুঃখজনক’।
জামায়াতের প্রার্থী ফজলুর রহমান সাঈদ বলেন, এটা আচরণ বিধির মধ্যে পড়েছে কি-না দেখি। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সড়ক বিভাজকে দেওয়া এসব প্রচারপত্র ফেস্টুন বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান। জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া বলেন, এটা আমি আগে দেখছি।
প্যা.ভ.ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত