তারেক রহমানের কাছে ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের স্মারকলিপি

Passenger Voice    |    ১০:৪১ এএম, ২০২৬-০১-২৮


তারেক রহমানের কাছে ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের স্মারকলিপি

একীভূত হওয়া ৫ ব্যাংকের আমানতকারীরা এবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তারা ৭৬ লাখ পরিবারকে উদ্ধার করার জন্য পরবর্তী সম্ভাব্য রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান। 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে তারেক রহমানের গুলশানের বাসভবনে আমানতকারীরা এই স্মারকলিপি দেন। যদিও এ সময় তারেক রহমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে তার পিএস আমানতকারীদের আশ্বস্ত করেছেন, তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে পরে তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সময় দেওয়া হবে। 

স্মারকলিপিতে ভুক্তভোগী আমানতকারীরা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ৫টি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে। বলা হয়েছে, এটি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংক হবে। সরকার ব্যাংকটিকে ২০ হাজার কোটি টাকাও দিয়েছে। ফলে এই ব্যাংক নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু আমরা দেখলাম, একীভূত করা এই ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের আমানতের ওপর কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না। আমানতকারীদের তীব্র প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন প্রজ্ঞাপন দিয়ে বলেছে, দুই বছরের আমানতের ওপর ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়া হবে। কিন্তু আমানতকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, ব্যাংকে আমানত রাখা হয় লিখিত-অলিখিত চুক্তির ভিত্তিতে। নির্দিষ্ট সময়ের শেষে নির্দিষ্ট হারে মুনাফা পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। কিন্তু এখন এই চুক্তি বাতিল করা হচ্ছে, যা আমানতকারীদের অধিকারকে হরণ করে। এসব ব্যাংকের আমানতকারীরা শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী, পেনশনভোগী স্বামীর স্ত্রী, প্রবাসীদের পরিবার, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী; তারা এই মুনাফার টাকার ওপর নির্ভরশীল। তাহলে কেন তাদের হঠাৎ দুই বছরের আয় থেকে টাকা কর্তন করা হবে। 

গভর্নর বলেছেন, ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ড এই সুপারিশ করেছে। যদিও জানা গেছে, শরিয়াহ বোর্ড এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। শরিয়াহ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুদারাবাহ চুক্তি একটি আমানত বা বিশ্বাসভিত্তিক চুক্তি। সুতরাং মুদারিব মুদারাবাহ পুঁজি বিশ্বাসের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করবেন। এ ক্ষেত্রে আমানতের শর্ত ভঙ্গ না করা পর্যন্ত মুদারিব কোনো ক্ষতির জন্য দায়ী হবেন না। যেমন মুদারাবাহ তহবিলের ক্ষেত্রে অপব্যবহার বা অবহেলা এবং মুদারাবাহ চুক্তির শর্তাবলি লঙ্ঘন করা। এগুলোর মধ্যে কোনোটি সংঘটিত হলে, মুদারিব মুদারাবাহ পুঁজির সমপরিমাণ অর্থের জন্য দায়ী থাকবেন।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে আমানতকারীরা আশা করেন, তারেক রহমান পরবর্তী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাদের এই সংকট থেকে উদ্ধার করতে পারেন। স্মারকলিপিতে তারা বলেন, অনুগ্রহ করে আপনি এই ৭৬ লাখ পরিবারের ৩ কোটি ভোটারের পাশে দাঁড়ান। 

তারা বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা বর্তমানে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন। এই বিপুলসংখ্যক পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ৩ কোটি ভোটারকে মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানান তারা। 

প্যা.ভ.ম