৩১ তারিখের মধ্যে দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

Passenger Voice    |    ১০:৫৭ এএম, ২০২৬-০১-২৬


৩১ তারিখের মধ্যে দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

আন্দোলনরত আমানতকারীদের কাছ থেকে এক সপ্তাহ সময় নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতকারীদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর হেয়ারকাট পদ্ধতি বাতিল এবং আমানতকারীদের সব ধরনের হিসাবে নগদায়ন বা উত্তোলন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে এক সপ্তাহ সময় লাগবে। আন্দোলনরত আমানতকারীরা বলেছেন, যদি ৩১ জানুয়ারির মধ্যে আমাদের সব দাবি না মানা হয়, তাহলে ভুক্তভোগী আমানতকারীরা সারা দেশের প্রত্যেকটা শাখায় কঠোর  আন্দোলন গড়ে তুলবে। দাবি আদায় করেই ছাড়ব। 

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সারা দেশ থেকে আসা একীভূত করা ৫ ব্যাংকের গ্রাহকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করেন। এ সময় ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহমেদ এবং নির্বাহী পরিচালক সরোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রথমে আমানতকারীদের দাবির বিষয়ে শোনেন। তারপর গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে জানান। তারপর আমানতকারীদের বলেন, তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে, তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে এক সপ্তাহ সময় চেয়ে নেন। 

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ভুক্তভোগী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব আলিফ রেজা খবরের কাগজকে বলেন, সারা দেশ থেকে আমানতকারীরা এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। কারণ আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। নিজেদের টাকা ব্যাংকে রেখে আজ আমাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। আমাদের টাকা ইচ্ছামতো নয়-ছয় করা হচ্ছে– এমন বাস্তবতায় আজ আমরা সবাই একত্রিত হয়েছি। আমরা এর চূড়ান্ত সমাধান চাই। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা এক সপ্তাহ সময় চেয়েছেন। আমরা রাজি হয়েছি। তবে যদি এর মধ্যে চূড়ান্ত সমাধান না আসে তাহলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি বড় ধরনের আন্দোলনে যাব আমরা। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে তারা বলেছেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত নৈতিক, মানবিক এবং শরিয়াহ আইন সবদিক থেকেই অগ্রহণযোগ্য। 

কারণ হেয়ারকাট মানে আমানতের একটি বড় অংশ স্থায়ীভাবে কেটে নেওয়া, যা আন্তর্জাতিক ব্যাংকিংয়ে এটি বিরল এবং সাধারণত বড় বিনিয়োগকারীর জন্য ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশীদারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারীদের ওপর এই হেয়ারকাট পদ্ধতি চাপানো হচ্ছে কেন? সাধারণ আমানতকারীরা তো ব্যাংকে আমানত রেখে কোনো ঝুঁকি নেননি।

আমানতকারীরা মনে করেন, এই হেয়ারকাট সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য একটি ভয়ংকর বার্তা। যদি এই হেয়ারকাট সিদ্ধান্ত স্থায়ী হয় তাহলে ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংক কেলেঙ্কারির দায় এই সাধারণ আমানতকারীদের ওপর চাপানো হতে পারে। ইতোমধ্যেই অনেক আমানতকারী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। আজ এই ব্যাংক, কাল অন্য ব্যাংক, বিশেষ করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের হেয়ারকাট সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সব ব্যাংকের প্রতি আস্থার সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। যার প্রভাব পুরো আর্থিক ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। 

আমানতকারীরা মনে করেন, ব্যাংক লুট দীর্ঘস্থায়ী একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতার ফল। সেই ব্যর্থতার দায় আমানতকারীরা বহন করতে পারেন না। সেই সঙ্গে এত শর্ত চান না, আমানতকারীরা শর্তমুক্ত স্বাভাবিক লেনদেন চান। 

এ সময় তারা ৬ দফা দাবি জানান। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে- প্রথমত, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের নির্দিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক লিখিত চুক্তির ভিত্তিতে যে মুনাফা প্রদান করা হয়েছে। (হেয়ারকাট) পদ্ধতি অবলম্বন  করে মুনাফার হার কম বা বেশি করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সঞ্চয় হিসাব, চলতি হিসাব, এফডিআর, ডিপিএস, (স্বল্প মেয়াদি আমানত) এবং (মেয়াদি আমানত) সব হিসাবের টাকা মুনাফাসহ নগদায়ন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তৃতীয়ত, এফডিআর, ডিপিএস (স্বল্প মেয়াদি আমানত) এবং (মেয়াদি আমানত) সব হিসাবের টাকা মুনাফাসহ হিসাবধারী চাহিবামাত্র ভেঙে সঞ্চয়ী অথবা চলতি হিসাবে দিতে হবে। সঙ্গে আমানত সুরক্ষার ২ লাখ টাকা নগদায়ন বা উত্তোলন করার সুযোগ দিতে হবে। চতুর্থত, পুরোনো আমানতকারী হিসাবের এবং নতুন আমানতকারী হিসাবের জমা ও উত্তোলন এবং মুনাফার ক্ষেত্রে সমান অধিকার দিতে হবে।  পঞ্চমত, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব হিসাবের আমানতকারীদের মুনাফাসহ সম্পূর্ণ আমানত ফেরতের  নিশ্চয়তা দিতে হবে। সঙ্গে আমানত সুরক্ষা ২ লাখ টাকা ব্যতীত- অবশিষ্ট আমানত ২ মাস পর পর দুই লাখ টাকা করে দিতে হবে, এবং ২৪ মাস পরে, সম্পূর্ণ আমানতের টাকা এককালীন নগদায়ন বা উত্তোলনের সুযোগ দিতে হবে। 

ষষ্ঠত, এনপিএসবি, আরটিজিএস, ইএফটি, এটিএমসহ সব ধরনের অনলাইন সেবা চালু করতে হবে। সেই সঙ্গে লেনদেনও স্বাভাবিক করতে হবে।


প্যা.ভ.ম