শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:৪০ এএম, ২০২৬-০১-২২
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজের মালামাল বিক্রির দোকানে আগুন এখনো জ্বলছে। এ ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং গতকাল বুধবার রাতভর দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও কর্মজীবী মানুষ।
আজ সকালে চট্টগ্রাম নগরের সিটি গেট থেকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মাদানবিবিরহাট এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার পথ ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কের যানবাহন থেমে থেমে চলছে। সিটি গেট, ফকিরহাট, বাংলাবাজার, ফৌজদারহাট, জলিল গেট ও ভাটিয়ারী বাজার এলাকায় বহু কর্মজীবী মানুষ ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীকে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে যানজট থাকায় কেউই সময়মতো গাড়ি পাননি।
এর আগে গতকাল রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সোনারগাঁও ফিলিং স্টেশন এলাকায় স্ক্র্যাপ জাহাজের মালামাল বিক্রির কয়েকটি দোকানে আগুন লাগে। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিস আগুন নির্বাপণের কাজ শুরু করে। এরপরই নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।
সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি দলকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে দেখা যায়। তখন মহাসড়কে আটকে থাকা যান ধীরে ধীরে চলছিল। ফৌজদারহাট এলাকায় ছেলেকে নিয়ে গাড়ির অপেক্ষায় ছিলেন রফিকুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ছেলের স্কুল শুরু হয় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে। প্রতিদিনের মতো আজও পৌনে আটটায় তাঁরা রাস্তায় দাঁড়ান। তবে যানজটের কারণে ৯টার দিকেও স্কুলে পৌঁছাতে পারেননি।
চট্টগ্রাম নগরের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত সাজেদা বেগম ভাটিয়ারী এলাকায় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বলেন, রাতে অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনলেও যানজট সকাল পর্যন্ত গড়াবে, এমনটা ভাবেননি। সময়মতো কাজে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
জানতে চাইলে বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট শফিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা রাতভর যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছেন। সকালে যানজট কিছুটা কমেছে। চট্টগ্রামমুখী লেন অনেকটাই সচল হলেও ঢাকামুখী লেন পুরোপুরি সচল করতে সময় লাগছে। উল্টো পথে যান ঢুকে পড়ায় যানজট নিরসনে বেগ পেতে হচ্ছে।
থেমে থেমে জ্বলছে দোকান
সকাল ৯টার দিকে অগ্নিকাণ্ডস্থল ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলো থেকে তখনো ঘন ধোঁয়া উঠছে। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল থেমে থেমে জ্বলে ওঠা আগুনে পানি ছিটিয়ে নির্বাপণের কাজ করছে। লোহার তৈরি দোকানগুলোর অবকাঠামো আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেতরে থাকা সব মালামাল পুড়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, রাতে আগুনের তাপ এত বেশি ছিল যে চার লেনের মহাসড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়া যাচ্ছিল না। এ কারণেও মূলত মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ রাখা হয়।
পুড়ে যাওয়া দোকানের সামনে বসে ছিলেন দোকান মালিক মো. ইব্রাহিম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, প্রতিদিনের মতো রাত আটটায় দোকান বন্ধ করে চলে যান। পরে আগুন লাগার খবর পেয়ে এসে দেখেন তাঁর দোকান জ্বলছে। দোকানে জাহাজের বিভিন্ন ধরনের পণ্য ছিল—সবই পুড়ে গেছে।
আরেক দোকানি মো. সুমন বলেন, তাঁর দোকানে জাহাজের নেভিগেশন, সেফটি আইটেম ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য ছিল। আগুনের তাপে সব গলে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ভাটিয়ারী একটি শিল্প এলাকা হলেও এখানে পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই। এতে বারবার অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের লিডার মো. কামরুজ্জামান বলেন, রাত পৌনে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভেতরে তাপ থাকায় থেমে থেমে আগুন জ্বলছে। এ কারণে তাঁদের দল রাতভর ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।
প্যা.ভ.ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত