শিরোনাম
Passenger Voice | ০৩:৪০ পিএম, ২০২৬-০১-২১
সঠিক গভর্ন্যান্সের অভাবে দেশের ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান হাবিব মনসুর। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে পরিবারতন্ত্র ও অনিয়মের মাধ্যমে বিগত সময়ে ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে পাচার হয়েছে। আর বর্তমানে দেশে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাংক রয়েছে। বাস্তবতা বিবেচনায় বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংকই যথেষ্ট। আজ বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক লোকবক্তৃতা সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, দেশে বর্তমানে ৬১টি ব্যাংক রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। বাস্তবতা বিবেচনায় বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংকই যথেষ্ট। ব্যাংকের সংখ্যা কমানো গেলে সুশাসন নিশ্চিত করা সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, দুর্বৃত্তায়ন, অনিয়ম, পরিবারতন্ত্র ও সুশাসনের অভাবে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে, যার একটি বড় অংশ পাচার হয়ে থাকতে পারে। সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে দুটি রাখার পরিকল্পনা করছে এবং বাকিগুলো মার্জ করা হবে।
খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, আগামী মার্চের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়ে আশাবাদী। তবে সংশোধিত বাংলাদেশ ব্যাংক অধ্যাদেশ জারি না হলে ব্যাংক খাতে আবারও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
গভর্নর জানান, ব্যাংক রেজ্যুলিউশন ফান্ড গঠনের কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিলে ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা জমা করা হবে। শুধু ব্যাংক নয়, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও রেজ্যুলিউশন কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
এদিন সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, ব্যাংকিং খাত কতটা নাজুক অবস্থায় রয়েছে, তা এখন স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে এই খাতকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং ইতিবাচক উন্নয়নের ধারাটি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শরিফ মোশারফ হোসেন বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি সবাই জানে। ঋণ খেলাপির হার বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকের ঋণ প্রদান কমে গেছে, ফলে বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া ব্যাংকগুলো নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছে। আয় বৈষম্য কমাতে বিভিন্ন নীতিমালা গ্রহণ করা হলেও ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতকে আরও কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা প্রয়োজন।
এদিন সেমিনারে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. হেলাল উদ্দিন স্বাগত বক্তব্য দেন, অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শরীফ ওসমান হোসেন, সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন বিভাগের চেয়ারম্যানসহ শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত