২০১৭ সালে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে জঙ্গি হামলার ১১ জনই খালাস

Passenger Voice    |    ০৫:৩৬ পিএম, ২০২৬-০১-১৮


২০১৭ সালে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে জঙ্গি হামলার ১১ জনই খালাস

রাজধানীর পান্থপথে ‘হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে’ জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে করা মামলায় অভিযুক্ত ১১ জনকেই খালাস দিয়েছেন আদালত। গত ৫ জানুয়ারি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ আবদুল হালিম এই রায় প্রদান করেন। আদালতের অফিস সহকারী মো. হোসাইন রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের নির্দেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই মামলাটি করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। 

আদালত থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন— তাজরিম খানম শুভ, নবমুসলিম আব্দুল্লাহ, নাজমুল হাসান মামুন, আব্দুল্লাহ আইচান কবিরাজ, মো. কামরুল ইসলাম শাকিল, আকরাম হোসেন খান নিলয়, তারেক মোহাম্মদ আদনান, তানভীর ইয়াছির করিম, সাদিয়া হোসনা লাকী, আবুল কাশেম ফকির এবং হুমায়রা জাতির নাবিলা। আদালত তাদের জব্দকৃত মালামাল ফেরত দেওয়ার এবং আলামত ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছেন। 

রায়ের দিন মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, তৎকালীন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক কারণে অহেতুক এই মামলাটি দায়ের করা হয়। তারা তৎকালীন আইজিপি শহীদুল হকের (বর্তমানে কারাগারে) লিখিত বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে মামলার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

নথি পর্যালোচনায় আদালত দেখতে পান, মামলার অভিযুক্তরা মূলত বিগত সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। রায়ে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিরোধীদের ওপর মামলা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এমনকি শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) খালাসের আবেদনের বিষয়ে কোনো জোরালো বিরোধিতা করেননি। সার্বিক বিবেচনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৫ ধারা অনুযায়ী আদালত আসামিদের খালাস মঞ্জুর করেন। 

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল ঘেরাও করে পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। ১৬ আগস্ট সকালে সোয়াট সদস্যদের অভিযানের সময় হোটেলের ৩০১ নম্বর কক্ষে অবস্থানকারী সাইফুল ইসলাম নিজের বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হন। 

পরবর্তীতে ১৬ আগস্ট কলাবাগান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন এসআই সৈয়দ ইমরুল সাহেদ। ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয় এবং ২০২১ সালে চার্জ গঠন করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ৬৫ জন সাক্ষীর নাম থাকলেও মাত্র একজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়। তদন্তে ৯ জন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও বিচারে তার সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। উল্লেখ্য, মামলার মূল অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হওয়ায় আগেই তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।