শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:১১ পিএম, ২০২৬-০১-১৮
যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শায় খেজুরের রস থেকে ভেজালমুক্ত নলেন গুড় ও পাটালি তৈরির দীর্ঘ ঐতিহ্য নতুন করে রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এ ঐতিহ্যের অন্যতম ধারক ২৫ বছর ধরে খেজুরগাছ কেটে রস সংগ্রহ করা গাছি কামাল হোসেন। তার তৈরি খাঁটি নলেন গুড় ও পাটালি ইতোমধ্যে আমেরিকা, মালয়েশিয়া, ইতালি, সিঙ্গাপুর, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে আরও বড় পরিসরে গুড়-পাটালি উৎপাদন করে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।
কামাল হোসেন জানান, এবার তিনি লিজ নিয়ে একাই ১৫০টি খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করছেন। প্রতিদিন ধাপে ধাপে ৫০টি গাছ কেটে রস আহরণ করা হচ্ছে। শীত মৌসুমের প্রথম মাসেই তিনি রস, গুড় ও পাটালি বিক্রি করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করেছেন। সামনে আরও দুই মাসে অন্তত দেড় লাখ থেকে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকার রস, গুড় ও পাটালি বিক্রির আশা করছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘মৌসুমের শুরুতে ভালো মানের নলেন গুড়-পাটালি তৈরি করা গেলে দামও ভালো পাওয়া যায়।’
কামাল হোসেনের বাড়ি শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের জিরেনগাছা গ্রামে। খাঁটি খেজুরের গুড়-পাটালি তৈরিতে গ্রামটির সুনাম রয়েছে বহু দিনের। শীত এলেই গুড় ও পাটালির ভক্তরা দূর-দূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন। শুধু কামাল হোসেন নন, শার্শা উপজেলায় তার মতো আরও প্রায় ২০০ জন গাছি রয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই চলতি শীত মৌসুমের প্রথম এক মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার গুড়-পাটালি বিক্রি করেছেন।
মৌসুমের শুরুতে উৎপাদিত নলেন গুড় ও পাটালির চাহিদা বেশি থাকে। ফলে হাটে নেওয়ার আগেই স্থানীয় মানুষ ও ব্যবসায়ীরা বাড়ি থেকেই কিনে নিয়ে যান। বর্তমানে কামাল হোসেনসহ অন্য গাছিরা প্রতি কেজি খাঁটি তরল নলেন গুড় বিক্রি করছেন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। পাটালি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১ হাজার টাকায়। এক ভাঁড় খেজুরের রসের দাম পাওয়া যাচ্ছে ৪০০ টাকা।
শীত নামার সঙ্গে সঙ্গে শার্শাসহ আশপাশের গ্রামগঞ্জে খেজুরের রস ও গুড় দিয়ে পিঠা, ক্ষীর, পায়েসসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির ধুম পড়ে। গুড় ছাড়া পিঠার মৌসুম যেমন অসম্পূর্ণ, তেমনি খেজুরের রস ছাড়া শীতের সকালও যেন প্রাণহীন। তাই বহুল প্রচলিত প্রবাদ ‘যশোরের যশ, খেজুরের রস’ এই অঞ্চলের ঐতিহ্য ও জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে মার্চের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত খেজুরের গুড় উৎপাদনের মৌসুম। চলতি মৌসুমে শার্শা উপজেলায় ৫৬৫ জন গাছি মোট ৭৬ হাজার ৭৮টি খেজুরগাছ থেকে রস আহরণ করছেন। উপজেলায় মোট খেজুরগাছের সংখ্যা প্রায় ৯৬ হাজার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গাছ রস সংগ্রহের উপযোগী।
গুড় উৎপাদন লাভজনক হওয়ায় গাছিদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে গুড়-পাটালি তুলনামূলক বেশি লাভজনক হওয়ায় অনেকেই এই পেশায় ঝুঁকছেন। এর ফলেই চলতি মৌসুমে শার্শা উপজেলায় ৩ থেকে ৪ কোটি টাকার গুড়ের বেচাকেনা হবে বলে আশা করছেন গাছিরা।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘শার্শা উপজেলায় প্রায় ৯৬ হাজার খেজুরগাছ রয়েছে। এর মধ্যে ৭৬ হাজার ৭৮টি গাছ থেকে রস আহরণ করা সম্ভব। উপজেলায় গাছির সংখ্যা ৫৬৫ জন। নিরাপদ উপায়ে খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩৯৭ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্যা.ভ.ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত