শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:০১ পিএম, ২০২৬-০১-১৫
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রের (চার্জশিট) বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেছে বাদীপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রের ওপর শুনানির শুরুর আগে নারাজি আবেদন করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘চার্জশিটের মাধ্যমে হাদি হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। তাড়াহুড়ো করে একটা চার্জশিট জমা দেয়া হয়েছে। এতে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে দেখানো হয়েছে। এত বড় পরিকল্পনা তার পক্ষে সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফয়সাল করিমের অ্যাকাউন্টে এত টাকার লেনদেন নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ঠু কোনো তথ্য দেয়নি। এত সূক্ষ্মভাবে ফয়সাল করিম হত্যা করলো, সে কীভাবে ট্রেনিং পেল, কীভাবে জড়ালো তা দেখানো হয়নি। কেন হত্যাকারীকে পালাতে সাহায্য করলো, তাদের কী স্বার্থ ছিল, অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের কী স্বার্থ ছিল তা দেখানো হয়নি।’
এর আগে গত ১২ জানুয়ারি অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য বাদীপক্ষ সময়ের আবেদন করলে শুনানির দিন বৃহস্পতিবার ধার্য করেন আদালত।
গত ৬ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরে ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, হাদি হত্যার ঘটনায় ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।
অভিযুক্ত আসামিরা হলেন—প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭) ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন (২৬), তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী (৪৩), ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১), জেসমিন আক্তার (৪২), হুমায়ুন কবির (৭০), হাসি বেগম (৬০), সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), মারিয়া আক্তার লিমা (২১), কবির (৩৩), নুরুজ্জামান ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), সিবিয়ন দিও (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও ফয়সাল (২৫)। এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুজনসহ ছয়জনকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নতুন তথ্য পাওয়া গেলে বা অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে সম্পূরক অভিযোগ দাখিল করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। তিন দিন পর ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। ফয়সাল করিম মাসুদকে আসামি করে ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। হাদি মারা যাওয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
প্যা.ভ.ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত