শিরোনাম
Passenger Voice | ০৫:১৫ পিএম, ২০২৬-০১-১৪
চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন বিভাগে গেজেটভুক্ত নয়জন জুলাই যোদ্ধাকে নিয়োগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছে। তবে তাদেরকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি নয়জন জুলাই যোদ্ধার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের পর এ নিয়োগ কার্যকর করা হয়। ওই তারিখে বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ পারসোনাল অফিসার স্বাক্ষরিত একটি দপ্তরাদেশ প্রকাশিত হয়। যা ১৩ জানুয়ারি রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
নয়জন জুলাই যোদ্ধাকে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রশাসন বিভাগ, হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ, নৌ প্রকৌশল বিভাগ, নৌ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, অর্থ ও হিসাব বিভাগ ও পরিকল্পনা বিভাগে পদায়ন করা হয়। তারা ওইসব বিভাগে ‘প্রশিক্ষণ সেবা সহযোগী’ পদে কাজ করবেন।
নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন- আরবি মোহাম্মদ আল মিরাজ, মোহাম্মদ সাকিল, মো. মেহেরাজ হোসেন, মাহবুবুল আলম, মো. শেফাতুল কাদের, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ তারেক, মো. আমির হোসেন ও মো. ইব্রাহীম। এরমধ্যে মিরাজ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা, সাকিল বোয়ালখালী উপজেলা, মেহেরাজ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের, মাহবুবুল, শেফাতুল, সাইফুল ও তারেক চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা, আমির নোয়াখালীর সেনবাগ ও ইব্রাহীম চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাসিন্দা।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড সিদ্ধান্ত নং- ১৯৭২১ ও চিফ পারসোনাল অফিসার-এর দপ্তরাদেশনামা নং- ০১/২০২৬- এ বলা হয়েছে– নিয়োগপ্রাপ্তরা তাদের হাজিরা শীট মাসিক ভিত্তিতে প্রশাসন বিভাগে প্রেরণ করবে। প্রশাসন বিভাগ হাজিরা শীটের ভিত্তিতে সেবামূল্যের বিল প্রস্তুতপূর্বক অর্থ ও হিসাব বিভাগে প্রেরণ করবে। অর্থ ও হিসাব বিভাগ তাদের (জুলাই যোদ্ধা) নিজ নামীয় ব্যাংক হিসাবে মাসিক সেবামূল্য পরিশোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যোগদানের মাত্র ৭ (সাত) দিনের মধ্যে তাদের প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক তথ্যাদি জমা দিতে আদেশে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) চিফ পারসোনেল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, এক বছরের জন্য তাদেরকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো.ওমর ফারুক বলেন, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নয়জন জুলাই যোদ্ধাকে অস্থায়ী ভিত্তিতে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এগুলো রাজস্ব খাতের কোনো পদ না। আউটসোর্সিং নীতিমালা অনুযায়ী তারা বেতন পাবেন।
নিয়ম অনুযায়ী বন্দরে স্থায়ী পদে নিয়োগ পেতে হলে আগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর প্রার্থীরা আবেদন করেন। পরবর্তীতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় যোগ্যতা অনুসারে একজন প্রার্থী নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
তবে এই নিয়োগের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নানা সমালোচনা শুরু হয়।
ফেসবুকে সরওয়ার আলম নামে একজন লিখেছেন- ‘তারা আন্দোলন করছিল বৈষম্য দুর করার জন্য কিন্তু তারাই কোটা চাকরি পেল। তাহলে মেধাবীরা পড়ালেখা করে কি দোষ করল।‘
কিশোর দত্ত লিখেছেন- ‘সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন কোথায়? তাদেরকে এভাবে ব্যবহার করা হলো?‘
শেখ ফাতেহ এলাহী লিখেছেন- ‘এই নিয়োগ চাকুরির নিয়োগ বিধি কে সমর্থন করে?‘
আরএন রায়হান নামে একজন লিখেছেন- ‘উনারা তো এখন দেশের মালিক হয়ে বসেছে। এখানে সাধারণ জনগণের দরকার কি?‘
সমালোচনা করে দুর্যয় রায় লিখেছেন- ‘আগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা আর এখন জুলাই কোটা।তাইলে মেধা মেধা কই গেলো।’
সাইফুল ইসলাম সানোবি লিখেছেন- ‘এগুলো জুলাইকে কলুষিত করছে, ১বছর চাকরির জন্য জুলাই ব্যবহার করতে হয়?এগুলো হচ্ছে চুক্তি যোদ্ধা।‘
চট্টগ্রাম সুরক্ষা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা এম এ হাশেম রাজু বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা বিরোধিতা করছি না। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এখন কেন দিচ্ছে? তারা গত দেড় বছর আগে নিয়োগ দিল না কেন? এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। আগামী মাসেই নির্বাচন। মূলত বন্দরের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কর্মচারি- প্রত্যেকে দুর্নীতিবাজ। তারা এই নিয়োগের মাধ্যমে মানবিক একটা বিষয় জাতির সামনে তুলে ধরে নিজেদের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করছে।
প্যা/ভ/ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত