শিরোনাম
Passenger Voice | ০৪:৫২ পিএম, ২০২৬-০১-১৪
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের রফতানি বাণিজ্য উৎসাহিত করতে ৪৩টি খাতে রফতানি প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাহাজিকৃত পণ্যের বিপরীতে বিদ্যমান খাতভিত্তিক প্রণোদনার হার প্রযোজ্য হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রফতানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে সংযুক্ত পরিশিষ্ট অনুসারে প্রণোদনা প্রদান করা হবে। সার্কুলারটি সোমবার (১২ জানুয়ারি ) জারি করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রফতানির বিপরীতে নগদ সহায়তা বা প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রে পূর্বে জারি করা সব এফই সার্কুলার ও সার্কুলার পত্রের শর্তাবলি যথারীতি কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উল্লিখিত সময়ের রফতানির বিপরীতে প্রণোদনার আবেদনপত্র বহিঃনিরীক্ষক দিয়ে নিরীক্ষা করানো যাবে। এ ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের ৮ জুলাই জারি করা এফই সার্কুলার নম্বর-১০ সহ সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করতে হবে।
তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে বিশেষ গুরুত্ব
সার্কুলার অনুযায়ী, রফতানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুদ্ধ বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে ১.৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র রফতানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুবিধার সঙ্গে অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তাও বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নিট, ওভেন ও সোয়েটারসহ তৈরি পোশাক খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা অব্যাহত থাকছে।
আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের বাইরে নতুন বাজারে নতুন পণ্য রফতানিতে ০.৫০ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হবে। এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ নগদ সহায়তাও চালু থাকবে।
পাট, চামড়া ও কৃষিপণ্যে উচ্চ হারে প্রণোদনা
পাটজাত পণ্যের মধ্যে বৈচিত্র্যকৃত পাটপণ্য, হেসিয়ান, সেকিং, সিবিসি, পাটসুতা (ইয়ার্ন ও টোয়াইন) রফতানিতে বিভিন্ন হারে প্রণোদনা নির্ধারণ করা হয়েছে। চামড়াজাত পণ্য, হাতে তৈরি সামগ্রী, হাড় ছাড়া গবাদিপশুর নাড়ি ও ভুঁড়ি রপ্তানিতেও প্রণোদনা বহাল থাকছে।
হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ রপ্তানিতে বরফ আচ্ছাদনের হার অনুযায়ী সর্বোচ্চ উল্লেখযোগ্য হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে। কৃষিপণ্য, শাকসবজি, ফলমূল ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রপ্তানিতে ১০ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনার সুযোগ রাখা হয়েছে। আলু রফতানিতেও একই হারে প্রণোদনা বহাল রয়েছে।
নতুন ও অপ্রচলিত খাতে উৎসাহ
হালকা প্রকৌশল পণ্য, ১০০ শতাংশ হালাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংসজাত পণ্য, সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে উৎপাদিত ক্রাস্ট ও ফিনিশড লেদার, পেট বোতল ফ্লেক্স ও তা থেকে উৎপাদিত পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার রপ্তানিতেও প্রণোদনা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া জাহাজ, ফার্নিচার, কাগজ ও কাগজজাত পণ্য, আগর-আতর, এপিআই, সফটওয়্যার ও আইটিইএস, ফার্মাসিউটিক্যালস, মোটরসাইকেল, সৌর প্যানেল, সিরামিক, ইলেকট্রনিক্স, চাল, চা, স্টিল পণ্য, বাইসাইকেল, সিমেন্টসহ বিভিন্ন শিল্পপণ্যের রপ্তানিতে প্রণোদনা বহাল রাখা হয়েছে।
বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে বাড়তি সুবিধা
বেজা, বেপজা ও হাইটেক পার্কে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় রপ্তানি ভর্তুকিও কার্যকর থাকবে। তবে তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ নগদ সহায়তার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শর্ত প্রযোজ্য হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (এফইপিডি-১) ড. মো. আবু বক্কর সিদ্দিক স্বাক্ষরিত সার্কুলারে সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংককে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্যা.ভ.ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত