শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৫২ এএম, ২০২৬-০১-১৪
দেশের বিভিন্ন রুটে দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন ছিল আলোচিত ও বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের অন্যতম বড় ব্যবসা। পুরোনো সেই তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন একটি আর্থিক জটিলতা। গ্রুপটি সংকটে পড়ার ঠিক এক বছর আগে, আগের প্রায় ২০০টি বাসের সঙ্গে আরও ১৩৪টি বিলাসবহুল হিনো বাস নামানোর পরিকল্পনায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এই বাস কেনার জন্য এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ওজি ট্রাভেলস লিমিটেড ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর নাভানা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেডের সঙ্গে ১০৯ কোটি ৪২ লাখ ২৪ হাজার টাকার চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সব বাস সরবরাহ দেওয়ার কথা থাকলেও দুই বছর পেরিয়ে গেলেও একটি বাসও বুঝে পায়নি ওজি ট্রাভেলস।
এ ঘটনায় বড় ঝুঁকিতে পড়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। কারণ, ওজি ট্রাভেলস ও আফতাব অটোমোবাইলসের মধ্যকার এই ক্রয়চুক্তির পুরো অর্থই বিনিয়োগ করেছিল ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ করপোরেট শাখা। এর মধ্যেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট দ্রুত বদলে যায়। বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের শীর্ষ ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে যান এবং সড়কে চলাচলকারী বাসের সংখ্যাও নেমে আসে শতকের নিচে। ফলে ব্যাংকের বিনিয়োগকৃত অর্থ আদায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ১৩৪টি বাস কেনার জন্য ওজি ট্রাভেলসকে ১০৯ কোটি টাকার বেশি ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর ২০২ৃ৪ সালের ১০ মার্চ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত আট দফায় আফতাব অটোমোবাইলসের অনুকূলে মোট ৮৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋণ ছাড় করে খাতুনগঞ্জ শাখা। কিন্তু বাস সরবরাহ না হওয়ায় এই অর্থ কার্যত ঝুঁকিতে পড়ে যায়।
ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে গত ২৬ আগস্ট ইসলামী ব্যাংক চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত-১ এ মামলা দায়ের করে। মামলার নম্বর ৫৮৪/২৫। নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৮০ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ৭৬১ টাকা। মামলায় ওজি ট্রাভেলস, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান গোফরানুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাকিম আলীসহ এস আলম পরিবারের একাধিক সদস্যকে বিবাদী করা হয়। একই সঙ্গে আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেড এবং এর চার পরিচালককেও আসামি করা হয়েছে।
গত ৯ নভেম্বর আদালত রায়ে ৬০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা পরিশোধে কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছে ব্যাংক। এ ছাড়া অর্থঋণ মামলার পাশাপাশি প্রতারণার অভিযোগে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক একটি ফৌজদারি মামলাও করেছে ইসলামী ব্যাংক। যার মামলা নম্বর ২৮৭৩। ব্যাংকের অভিযোগ, পুরো অর্থ পরিশোধের পরও বাস সরবরাহ না করে ঋণগ্রহীতা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও খাতুনগঞ্জ করপোরেট শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, সময়মতো বাস সরবরাহ হলে সেগুলো ব্যাংকের নামেই রেজিস্ট্রেশন হতো এবং ঋণের বিপরীতে কোলাটারেল সিকিউরিটি হিসেবে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকত। কিন্তু সেটি না হওয়ায় এখন ব্যাংকের পুরো বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়েছে।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নাভানা গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (গ্রুপ ট্রেজারি, ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস) নাজমুল হোসাইন বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এর বেশি কিছু বলেননি তিনি।
এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে কারো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যা.ভ.ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত