প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজদের বেলায় চুপ বিআরটিএ

Passenger Voice    |    ১১:০৩ এএম, ২০২৬-০১-১৩


প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজদের বেলায় চুপ বিআরটিএ

আকতার হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার মসজিদিয়া গ্রামের মার্চেন্ট নৌবাহিনীর সদস্য নাফিজ আহমেদ অয়ন  ১০ দিনের ছুটি শেষে ঢাকা হয়ে মাদারীপুর কর্মস্থলে ফিরছিলেন। গত ৯ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বারইয়ারহাট পৌরসভার ধুমঘাট ফরেস্ট অফিস এলাকায় স্লিপার বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-২৮৮১) দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি। একই সাথে আরো ২ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন। 

গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর সেন্টমার্টিন পরিবহনের একই স্লিপার বাসে (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-২৮৮১) করে রাতে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান। বাসটি কুমিল্লার কাছাকাছি পৌঁছালে মধ্যরাতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। দুর্ঘটনায় কেউ মারা না গেলেও অনেক যাত্রী গুরুতর আহত হন। এই ঘটনায় স্লিপার বাস দুর্ঘটনায় আহত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরানের পক্ষে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে ১৬ অক্টোবর রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান আইনি নোটিশ পাঠান বিআরটিএর চেয়ারম্যানকে। আইনি নোটিশ পাওয়ার পরে যদি গাড়িটির বিরুদ্ধে কোন ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো তাহলে পরবর্তীতে ৩ টি প্রাণ সড়কে লাশের মিছিলে যুক্ত হতো না। ১৯ সেপ্টেম্বরের দুর্ঘটনার পরে গাড়িটি বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক পরিদর্শন করে আইএস ডাটা সাসপেন্ড করা হলে গাড়িটি পুনরায় সড়কে চলাচল করার সুযোগ ছিলনা বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। 

এর আগে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া এলাকায় স্লিপার বাসের ধাক্কায় পিকআপভ্যানে থাকা আব্দুল জব্বার নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্লিপার বাসের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিরসরাইয়ে কাঠবোঝাই ট্রাকের পেছনে স্লিপার বাসের ধাক্কায় তিনজনের প্রাণহানির  ঘটনায় সড়কে আরেকটি বিশৃঙ্খলার ঘটনা সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিআরটিএ মোটাদাগে ঘুষ নিয়ে অনুমোদন ছাড়াই অনেকগুলো কোম্পানির অবৈধ স্লিপার বাসের নিবন্ধন দিয়েছে। বাসগুলো নামকাওয়াস্তে স্লিপার ও কাঠামোগতভাবে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। অনুমোদনহীন এসব বাসের বিরুদ্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিষয়টি সড়ক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। 

হাইওয়ে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সড়কের ওপর গাড়ি রেখে কাগজপত্র পরীক্ষার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্ন জাগে, মহাসড়কের মতো জায়গায় যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করার জন্য কোনো নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা কি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নেই? সড়কের ওপর বিপজ্জনকভাবে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখা সরাসরি সড়ক নিরাপত্তা আইনের পরিপন্থী। এর দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপরও বর্তায়।

শুধু এ বাসগুলো নয়, দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে রাতের আঁধারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ স্লিপার বাস। আরামদায়ক যাত্রার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রী টানলেও, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা। এ বাসগুলো আসলে আরামের আড়ালে মারণফাঁদে পরিণত হয়েছে। কারণ এসব বাসে নিরাপত্তা নকশা, ভারসাম্য বণ্টন, ব্রেক সিস্টেম এবং জরুরি নির্গমন পথের কোনো বৈজ্ঞানিক হিসাব রাখা হয় না। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীদের বের হওয়ার উপায় থাকে না। আগুন লাগলে বা বাস উল্টে গেলে উদ্ধার কাজও হয়ে পড়ে কঠিন।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএর একজন কর্মকর্তা বলেছেন, টাইপ অনুমোদন না থাকায় বর্তমানে স্লিপার বাস অনুমোদনের সুযোগ বিআরটিএর নেই। তবে এ বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। দ্বিতল স্লিপার বাসের চেসিস কী ধরনের হবে, বডির ডিজাইন, সিটের ধরন বিষয়ে বিস্তারিত থাকবে ওই নীতিমালায়। বর্তমানে কীভাবে স্লিপার বাস নিবন্ধন সনদ পায়, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি ওই কর্মকর্তা।

বিআরটিএর কোন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা এগুলো নিবন্ধন দেয়ঃ গত ৯ জানুয়ারী চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দুর্ঘটনার শিকার ঢাকা মেট্রো-ব-১২-২৮৮১ স্লিপার বাসটি নিবন্ধন দিয়েছিলো বিআরটিএর ঢাকা মেট্রো-২ সার্কেল অফিস। বিআরটিএর সূত্র বলছে গাড়িটি পরিদর্শন না করে ঘুষের বিনিময়ে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর নিবন্ধন প্রদানের জন্য ভুয়া পরিদর্শন রিপোর্ট দিয়েছিল সংস্থাটির তৎকালিন উক্ত সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক তাজুল ইসলাম। অন্য দিকে মোটাদাগে ঘুষ নিয়ে নিবন্ধন প্রদান করে সার্কেলটির রেজিষ্ট্রেশন কর্তৃপক্ষ। তবে এই সকল স্লিপার বাসের সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন প্রদান করেছে সংস্থাটির ময়মনসিংহ সার্কেলে। ২০২৩-২৪ সালে ওই সার্কেলে দায়িত্বরত সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) ওয়াজেদ হোসাইন ও মোটরযান পরিদর্শক আব্দুল খাবীরু। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও বিআরটিএর নিজস্ব তদন্ত কমিটির কাছেও তার প্রমাণ মিলেছে। অন্যদিকে গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) এস এম ওয়াজেদ হোসেনের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে মনে করছেন দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কর্মকর্তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের অফিসিয়াল তদন্ত শুরু করবেন তারা। 

বিআরটিএর তদন্ত প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছেঃ ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর জালজালিয়াতির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে স্লিপার বাসের নিবন্ধন প্রদানের বিষয়ে প্যাসেঞ্জার ভয়েস পত্রিকায় অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইয়াছিনের নির্দেশে একই বছরের ১২ ডিসেম্বর পরিচালক (অপারেশন) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর স্বাক্ষরীত ৮৫১ নং স্বারকে সংস্থাটির উপ পরিচালক (ইঞ্জিঃ) মো: তৌহিদুল ইসলাম তুষারকে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির দায়িত্ব প্রদান করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারী সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) ওয়াজেদ হোসাইন ও মোটরযান পরিদর্শক আব্দুল খাবীরুকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে সংস্থাটির বর্তমান চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ যোগদানের পরে দুর্নীতিবাজ এই দুই কর্মকর্তার চাপে তদন্ত প্রতিবেদনসহ ফাইলটি গোপন করা হয়। 

তদন্তে যে সব আদেশ লঙ্ঘনের কথা উঠে আসেঃ প্যাসেঞ্জার ভয়েসের হাতে আসা কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায় ,  বিআরটিএ ময়মনসিংহ সার্কেলের নিবন্ধন দেওয়া অবৈধ ৩৫টি স্লিপার বাসের মধ্যে ৩৩টি বাস অশোক লেল্যান্ড ব্রান্ডের। ০২ টি বাস হাইগার বাস কোম্পানী লিঃ চায়নার। গাড়ি গুলোর আমদানিকৃত কাগজ যাচাই করে দেখা যায় অশোক লেল্যান্ড ব্যান্ডের মডেল ১২ এম যা ২০১৭ সালের ০৪ জুলাই বিআরটিএর সদর কার্যালয় হতে ৪১ আসন বিশিষ্ট বাস হিসেবে টাইপ ও ড্রইং অনুমোদন গ্রহণ করে আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান ইফাদ অটোস্ লিমিটেড। তবে রহস্যজনক ভাবে দেখা যায় হাইগার বাস কোম্পানী লিঃ চায়না এর বিপরীতে বিআরটিএ কোন টাইপ অনুমোদন ইস্যু করেনি।

গাড়িগুলোর নিবন্ধন প্রদানে ২০২২ সালের ২৬ মে নং-৩৫.০৩.০০০০.০০৩.৩১.০২০.২১-৫৮৫ সংক্ষক স্মারকে বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) এর নির্দেশনা ও ময়মনসিংহ-ব-১১-০২৬৫, ময়মনসিংহ-ব-১১-০২৬৮ নম্বরে রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করা হাইগার বাস কোম্পানী লিঃ চায়না এই বাসগুলোর বিপরীতে বিআরটিএ কোনো ধরণের টাইপ অনুমোদন, আসন বিন্যাস বা ড্রইং প্রদান করেনি। বিআরটিএর টাইপ অনুমোদন ব্যতিত জালিয়াতির মাধ্যমে স্লিপার বাসের নিবন্ধন প্রদান করে সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) এ এস এম ওয়াজেদ হোসেন এবং মোটরযান পরিদর্শক আব্দুর খাবীরু সড়ক পরিবহন বিধিমালা -২০২২ এর ৩৪(৭)(গ) বিধি, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ধারা-১৯(১) এর বিধান ও ২০২৩ সালের ৫ জুন জারিকৃত সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আদেশ লঙ্ঘন করেছেন। অন্যদিকে মোটরযানের নিবন্ধন প্রদানে ও ফিটনেস সনদ নবায়ন ও ইস্যু করার সময় মোটরযান পরিদর্শক কর্তৃক মোটরযানের সামনে ছবি উঠানোর বিধান রয়েছে। সড়ক পরিবহন বিধিমালা -২০২২ এর বিধি-৩৪ এর উপধারা ৬ এর (খ), (গ), ও (ঘ) ধারা লঙ্ঘন করে রেজিষ্ট্রেশন প্রদানের সুপারিশ করেছেন এই মোটরযান পরিদর্শক। এছাড়াও ২০১৮ সালের ২২ মে স্বারক নং-৩৫.০৩.০০০০.০০৪.৩১.০০৩.১৮-৩৬ এবং ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বারক নং-৩৫.০৩.০০০০.০০৩.৩১.০২১.১৮ (পার্ট-৩)-১০০২ সংক্ষক বিআরটিএর চেয়ারম্যানের আদেশ ও সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এ ২০(১) (ক) ও (ঘ) সম্পূর্ণভাবে অমান্য করেছেন। 

প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজদের বেলায় চুপ বিআরটিএঃ এদিকে ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সকালে ময়মনসিংহ সার্কেলে স্লিপার বাসের নিবন্ধন প্রদান করে আদায় করা ঘুষের টাকা দিয়ে বিআরটিএর যশোর সার্কেলে বদলীর চেষ্টা করছেন সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) ওয়াজেদ হোসাইন এমন স্পষ্ট তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকলেও একই দিন বিকেল বেলায় এই সহকারী পরিচালকের কাছে ম্যানেজ হয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইয়াছিন ও সাবেক পরিচালক (প্রশাসন) কামরুল ইসলাম চৌধুরী ওয়াজেদ হোসাইনকে যশোর সার্কেলে বদলী করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ০৩ নভেম্বর পূণরায় স্লিপার বাস কেলেঙ্কারির বিষয়ে প্যাসেঞ্জার ভয়েস প্রতিবেদন প্রকাশ করলে ১৪ ডিসেম্বর উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. হেয়ামেত উদ্দিন স্বাক্ষরিত ২৭৫৩ নং স্বারকে উপপরিচালক (ইঞ্জিঃ) তৌহিদুল ইসলাম তুষারকে আবারও তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। 

সড়কে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘঃ দেশে এখন পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য বলছে, সারা দেশে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯ হাজার ১১১ জন এবং আহত হয়েছেন আরো ১৪ হাজার ৮১২ জন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যানুযায়ী ৭ হাজার ৩৫৯ জন নিহত আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৪৭৬ জন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত দুর্ঘটনা প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় ২০২৪ সালে দেশে প্রাণহানি হয়েছে ৫ হাজার ৩৮০ জনের। এর আগে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ২০২১ সালে। সেবার সড়কে মৃত্যু হয়েছিল ৫ হাজার ৮৪ জনের। দেশে ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ২৯৪ জনের। যাত্রী কল্যাণ সমিতি ৮ হাজার ৫৪৩ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিল। বিআরটিএর এই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের বছরে সড়কে প্রাণহানির ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চললেও তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। গণ-অভ্যুত্থানে বিগত সরকারের পতনের পর সড়কে প্রাণহানি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যাশা করছিলেন বিশেষজ্ঞরা। আবু মমতাজ দায়িত্ব গ্রহণের পর এখন পর্যন্ত ৬ মাস পার হলেও সড়ক ও মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এই সব স্লিপার বাস বন্ধ ও আটকের বিষয়ে বিআরটিএর নিজস্ব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচালিত ১৯টি আদালতেরও কোন কার্যক্রম চোখে পড়েনি। নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেটগণের মামলা সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত থেকে জানা যায় গত ১ বছরে কোন স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে প্রতিটি চালকের ৬০ ঘন্টার প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান, তবে দেশের নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে কোন অবৈধ ড্রাইভিং স্কুলের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এমন তথ্য নেই সংস্থাটির কাছে। এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত-নিহত ব্যক্তিদের কাছে দ্রুত ক্ষতিপুরণ চেক হস্তান্তর করতে গত ২ মাসে প্রায় ১৬টি জেলায় ভ্রমন করেছেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ। 

এর আগে স্লিপার বাসের বিষয়ে বুয়েটের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ এম শামসুল হক বলেছিলেন, সংখ্যায় অনেক বেড়ে যাওয়ায় বিআরটিএ হয়ত এসব বাসেরও বৈধতা দিতে বাধ্য হবে, যেভাবে এই দেশে বৈধ হয়েছে ‘কভার্ডভ্যান’ নামের মালবাহী বাহনগুলো। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর ওপর ক্ষোভ ঝেড়ে তিনি বলেন, “যারা অথরিটি, তারা কুম্ভকর্ণ। তারা জানে না তাদের দায়িত্বটা কী। এদের ম্যানপাওয়ার, নলেজ কোনোটাই নেই।”