মেট্রোরেলসহ একাধিক প্রকল্পে ৩০ হাজার কোটি টাকা কমছে বরাদ্দ

Passenger Voice    |    ১১:০২ এএম, ২০২৬-০১-১২


মেট্রোরেলসহ একাধিক প্রকল্পে ৩০ হাজার কোটি টাকা কমছে বরাদ্দ

দুই লাখ কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা কমিশন। মূল এডিপির তুলনায় যা ৩০ হাজার কোটি টাকা কম। এ বছর গুরুত্ব কমছে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, পরিবহন, ধর্ম ও কৃষিতে। বরাদ্দ বাড়ছে পরিবেশ, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে। মূলত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বেশ কয়েকটি প্রকল্পে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তা খরচ হয়নি। এ কারণে সংশোধিত এডিপিতে (আরএডিপি) বরাদ্দ ৩০ হাজার কোটি টাকা কমছে।

এরই মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় সংশোধিত এডিপি চূড়ান্ত করা হয়েছে। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। আগামীকাল সোমবার (১২ জানুয়ারি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এটি উপস্থাপন করা হবে। এনইসি সভার পরে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা।

এ বিষয়ে কথা হয় পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতারের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, আগামীকাল এনইসি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় দুই লাখ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি উপস্থাপন করবো।

পরিকল্পনা বিভাগ জানায়, উন্নয়ন বাজেটে বৈদেশিক ঋণ ৭২ হাজার কোটি টাকা এবং সরকারি অর্থ এক লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থ কাটছাঁট করা হয়েছে মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পে। এখানে বরাদ্দ ৮ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮০১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এ খাতে প্রায় ৯১ শতাংশ বরাদ্দ কমেছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির আকার হতে পারে ২ লাখ কোটি টাকা। যদিও চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নেওয়া হয়েছিল। এর মানে হলো, এবার উন্নয়ন বাজেট ৩০ হাজার কোটি টাকা কমছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি এবং আরএডিপি তুলনা করে দেখা যায়, সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ক্ষেত্রে বরাদ্দের চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এডিপির তুলনায় আরএডিপিতে কিছু খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বাড়লেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক খাতে বড় আকারের কাটছাঁট করা হয়েছে।

এডিপির তুলনায় আরএডিপিতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ বেড়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের, বরাদ্দ বেড়েছে ২৮ শতাংশ। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার বিভাগে বরাদ্দ বেড়েছে ৮ শতাংশ। এ দুই খাতেই মূলত বরাদ্দ বাড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ৭৭ শতাংশ কমানো হয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণে। ৭৩ শতাংশ কমানো হয়েছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমেছে ৫৫ শতাংশ। এছাড়া বিদ্যুতে ২৭ শতাংশ, প্রাথমিক শিক্ষায় ২৯ শতাংশ, নৌ-পরিবহনে ৩৬ শতাংশ, রেলপথ ও কৃষিতে ৩৬ শতাংশ বরাদ্দ কমানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ এলিভেটেড সড়ক প্রকল্পে বরাদ্দ কমেছে ৯৫ শতাংশের বেশি। মতলব উত্তর-গজারিয়া সড়কে মেঘনা-ধনাগোদা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো হয়েছে প্রায় ৯৭ শতাংশ। এসব প্রকল্পে বরাদ্দ কমায় উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের গতি মন্থর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে এক হাজার ৮৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে বরাদ্দ এক হাজার ৩৯ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩০৬ কোটি টাকা। বিআরটি প্রকল্পেও বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ খাতে বরাদ্দ ৪২৫ কোটি টাকা থেকে ১৬৮ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। চট্টগ্রাম-দোহাজারী মিটারগেজ রেললাইনকে ব্রডগেজে রূপান্তর প্রকল্পে বরাদ্দ প্রায় ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বরাদ্দও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাদ্য কর্মসূচিতে বরাদ্দ প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। ঢাকা স্যানিটেশন উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৪১ শতাংশের বেশি। নগর এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রতিরোধমূলক সেবা প্রকল্পগুলোর বরাদ্দও ৮০ শতাংশের বেশি কমেছে।